শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন

নায়েবের সহযোগিতায় অন্যের পুকুর থেকে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন!

শামীম রেজা, চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের চৌগাছায় পাতিবিলা ইউনিয়নের হয়াতপুর গ্রামে এক নিরীহ ব্যক্তির পুকুর থেকে জোর পূর্বক বালু উত্তোলন করছেন রওশন আলী নামের এক ভূমিদস্যু। একই সাথে বালু উত্তোলনে সহযোগিতা করছেন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব লিপ্টন এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন কাজ হয়নি। ভূক্তভোগীসহ এলাকাবাসি ভূমিদস্যু রওশনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে প্রশাসনের উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সরজমিনে দেখা গেছে উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের হয়াতপুর গ্রামের মৃত শমসের আলীর ছেলে বজলুর রহমানের ৩ বিঘা জমির পুকুর থেকে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। বালু উত্তোলন করছেন উপজেলার চিহ্নিত ভূমিদস্যু রওশন আলী। পুকুরের পাশেই রয়েছে ভুক্তভোগীর ২ বিঘা আম বাগান। পুকুর থেকে বালু উত্তোলন করে সেই বাগানের সরকারি সড়কের পাশে বালুর স্তুপ তৈরী করেছেন রওশন আলী।

পুকুর মালিক বজলুর রহমান বালু উত্তোলনে বাধা দিলেও কোন কর্ণপাত করেনি। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে পুকুর মালিক ১১ই মার্চ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নারায়ন চন্দ্র পাল। অভিযানের পর থেকে বালু উত্তোলনের বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু সেটি দীর্ঘ হয়নি। অভিযানের ৩/৪ দিন যেতে না যেতেই পুনরায় বালু উত্তোলনের কাজ শুরু করে রওশন আলী। ভূগর্ভোস্থ্য থেকে বালু উত্তোলন করে তা রাখতে থাকে পাশে আম বাগানের মধ্যে। ফলে আম ধরা গাছ বালু ও পানির কারনে মরার উপক্রম হয়। শুধু তাই না ভূমিদস্যু রওশন আলী ও তার লোকজন ইচ্ছাকৃত ভাবে আম গাছ ভেঙ্গে মাটিতে ফেলে রাখতে শুরু করে।

বজলুর রহমানের ওই পুকুর থেকে রওশনের লোকজন ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করছেন। এ সময় নাম প্রকাশ না করার শর্তে উত্তোলন কাজে নিয়োজিত শ্রমকিরা বলেন, আমরা জোন হিসেবে রওশনের কাজ করি। কাজ করলে টাকা আর না করলে কোন টাকা পাইনা। তবে এ ভাবে বালু উত্তোলন ঠিক না জেনেও আমরা কাজ করছি। অপর এক শ্রমকি বলেন, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব লিপ্টন টাকা খেয়ে অবৈধ ভাবে পাতিবিলা ও হয়াতপুর গ্রামের অসংখ্য জায়গা থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেন। নায়েবের উপর যদি কোন চাপ আসে সঙ্গে সঙ্গে তিনি বালু উত্তোলনের মুল মালিককে নিষেধ করেন এবং কিছু দিনের জন্য তা বন্ধ থাকে এবং কয়েক দিন যেতে না যেতেই শুরু হয় কাজ।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, পাতিবিলা, নিয়ামতপুর, হয়াতপুর, দেবিপুর গ্রামাঞ্চলের মাঠ, পুকুরসহ সরকারী বিল, খাল এমনকি বাওড় থেকে বছরের পর বছর বালু উত্তোলন করে আসছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। তারা রাজনৈতিক নেতা ও ভূমি অফিসের নায়েবকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে ভূগর্ভোস্থ থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে পরিবেশের ভারসম্য নষ্ট করে। এ সব ভূমিদস্যুরা অত্যান্ত ক্ষমতাধর, তাদের বিরুদ্ধে যেই কথা বলবে তার উপর নেমে আসবে অত্যাচর। সে কারনে মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাইনা।

অভিযুক্ত ভূমি দস্যু রওশন আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অসংগতি জানান। পাতিবিলা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) লিপ্টন হোসেনের সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি জানান, আমি বদলি হয়ে মনিরামপুর উপজেলাতে গেছি। সোমবার নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছি। এ বিষয়ে আমার বক্তব্য জিরো। তিনি থাকাকালিন সময় থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে এবং টাকা নিয়ে বালু উত্তোলন করতে দিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আপনি থাকেন আমি আসছি আপনার সাথে এস কথা হবে। পরবর্তীতে তিনি ভূমি কর্মকর্তাকে দিয়ে সুপারিশ করান।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নারায়ন চন্দ্র পাল জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছে। পুনরায় সেখান থেকে বালু উত্তোলন হচ্ছে জানা নেই, তবে খোজ নিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বালু উত্তোলনকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ