রাজবাড়িতে গত ৩ জানুয়ারি গনধর্ষণের শিকার হন এক গৃহবধূ। ধর্ষকেররা তা ভিডিও করে রাখেন। ইন্টারনেট এ ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ওই গৃহবধূর কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকাও আদায় করে। সংসার রক্ষার জন্য পরিবারের কাউকে জানায়নি ওই গৃহবধূ। আবারও টাকা দাবি করলে উপায়ন্তর না পেয়ে পরিবার সদস্যদের জানান এবং মামলা করেন ।

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার অষ্টম শ্রেণির এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে নদমূলা গ্রামের আলম জোমাদ্দারের ছেলে সজল এবং রাকিব মুখ বেঁধে ধরে পানের বরজে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও চিত্র ধারণ করে। মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির আনা যৌন হয়রানির অভিযোগ ভিডিওতে ধারণ এবং তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে সোনাগাজী থানায় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন ব্যারিস্টার সুমন ।

উপরের ৩ টি ঘটনার একটা মিল আছে ! তা হচ্ছে “অসৎ উদ্দেশ্যে” ভিডিও ধারণ।

ওসি মোয়াজ্জেম এর মতো অনেকেই বুঝে বা না বুঝে অন্যের ভিডিও বা ছবি পোস্ট ধারণ করেন ! কখনো বা ব্ল্যাকমেল করার জন্যও এসব কাজ অনেকেই করেন ! যা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অপরাধ।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা আইসিটি এক্ট- এ বলা আছে অসৎ উদ্দেশ্যে কারো ব্যক্তিগত ছবি ধারণ করার মতো অপরাধ করলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ইন্টারনেটে পর্নগ্রাফি ও শিশু পর্নগ্রাফির অপরাধে সাত বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

আইনে আরো বলা আছে , ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে ভয় দেখলে ,ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করলে বা অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ বা ব্যবহার করলে তিন থেকে সাত সাত বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এই মারপ্যাচে যদি না পড়তে চান তাহলে অনুমতি ছাড়া অন্যের ছবি বা ভিডিও ধারণ করা থেকে বিরত থাকুন।