বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০১:১৫ অপরাহ্ন

আজ পবিত্র’লাইলাতুল কদর’

হাঃ মাওঃ মোস্তাক আহমেদ তুহিন

আজ পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাত। “লাইলাতুল কদর” মানে হচ্ছে, ‘কদর’-এর রাত’। আর ‘কদর’মানে হচ্ছে, মাহাত্ম ও সম্মান। অর্থাৎ মাহাত্মপূর্ণ রাত্রি ও ‘সম্মানিত রাত্রি’।

এ রাতের বিরাট মাহাত্ম ও অপরিসীম মর্যাদার কারণে রাতটিকে ‘লাইলাতুল কদর’ তথা মহিমান্বিত রাত বলা হয়। এই রাতে পরবর্তী এক বছরের অবধারিত বিধিলিপি ব্যবস্থাপক ও প্রয়োগকারী ফেরেশতাগণের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাতে প্রত্যেক মানুষের বয়স, মৃ’ত্যু, রিজিক, বৃষ্টি ইত্যাদির মেয়াদ ও পরিমাণ নির্দিষ্ট করে তা সংশ্লিষ্ট ফেরেশতাগণকে লিখে দেওয়া হয়।

মহান আল্লাহতায়ালা মুসলিম উম্মার জন্য হাজার মাসের চেয়েও উত্তম করেছেন লাইলাতুল কদরকে। এ রজনী এত সম্মানিত যে, এক হাজার মাস ইবাদত করলেও যে সওয়াব হতে পারে তার চেয়ে লাইলাতুল কদরের ইবাদতে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। তাই এই রজনীকে পাওয়ার জন্য মন ও দেহের প্রস্তুতির দরকার রয়েছে। নির্দিষ্ট করে শুধু ২৭ রমজানের রাতই শবে কদর হবে তার কোন গ্যারান্টি নেই।

হাদীছে রাসূল (সা.) বলেছেন : ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে শবে কদর তালাশ কর।’ অর্থাৎ রমজান মাসের শেষ দশকের মধ্যে ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তারিখের বেজোড় রাতে শবে কদর হতে পারে।

রাসূল (সা.) রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদর পাওয়ার জন্য ইবাদতের কথা বলেছেন। তাই শবেকদর পাওয়ার জন্য আমাদের সর্বচেষ্টা করা উচিত। মুমিন বান্দারা এই রাতটিকে পাওয়ার আশায় মুখিয়ে থাকেন। রমজানের শেষ দশকে তারা ইবাদতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেন। প্রথম দুই দশকের চেয়েও শেষ দশকে ইবাদতে মশগুল থাকেন বেশি করে।

লাইলাতুল কদরের ফজিলত অপরিসীম। তাই সারা রাত জাগরণ করে সঠিকভাবে ইবাদত-বন্দেগীতে মনোনিবেশ করা কর্তব্য। বেশি বেশি নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ, সালাতুস তাসবিহ, কাজা নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সাদকা, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, তাওবা-ইসতেগফার, দুয়া-দুরূদসহ নফল আমলের প্রতি মনযোগী হওয়া একান্ত জরুরি।

কোরআনুল কারীমে এরশাদ হয়েছে, “ইন্না আনজালনাহু ফি লাইলাতুল কদর, লাইলাতুল কদরি খইরুম মিন আলফি শাহর, তানাঝ ঝালুল মালা ইকাতু ওয়ার রুহু ফিহা বিজনি রব্বিহিম মিন কুল্লি আমর, সালামুন হিয়া হাত্তামাত লাইল ফাজর”। অর্থ-‘আমি একে নাযিল করেছি শবে কদরে। শবে কদর সম্পর্কে আপনি কি জানেন? শবে কদর হলো এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সূরা আল কাদর : ১-৫)।

শবে কদরে কী করব- রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে ‘লাইলাতুল কদর’ লাভ করার জন্য রমজানের শেষ দশরাত জাগ্রত থেকে ইবাদতে কাটিয়েছেন এবং উম্মতে মুহাম্মাদীকেও সারা রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগী করার নির্দেশ দিয়েছেন।

রাসূল (সা.) বলেন, শবে কদরকে নির্দিষ্ট না করার কারণ হচ্ছে যাতে বান্দা কেবল একটি রাত জাগরণ ও কিয়াম করেই যেন ক্ষ্যান্ত না হয়ে যায় এবং সেই রাতের ফজিলতের উপর নির্ভর করে অন্য রাতের ইবাদত ত্যাগ করে না বসে। তাই বান্দার উচিত শেষ দশকের কোন রাতকেই কম গুরুত্ব না দেয়া এবং পুরোটাই ইবাদাতের মাধ্যমে শবে কদর অন্বেষণ করা।

হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা আমি রাসূল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম হে আল্লাহর রাসূল আমি যদি কদরের রাত সম্পর্কে অবহিত হতে পারি তবে আমি কি করব? তখন রাসূল (সা.) আমাকে এই দুয়া পাঠ করার জন্য বললেন। ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি’। (তিরমিজি, হাদিস নং : ৩৫১)।

তাই, একজন মুসলিম হিসাবে এই মহিমান্বিত ও ফজিলতপূর্ণ রাতটি বন্দেগী করার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করা উচিৎ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ