শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:৪৫ অপরাহ্ন

আমতলীতে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা

মো.মিজানুর রহমান নাদিম, বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলীতে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মারিয়া (১০) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরিবারের দাবী মারিয়া মানসিক রোগী। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রবিবার সন্ধ্যার পরে উপজেলা গেড়াবুনিয়া এলাকায়।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের উত্তর গেড়াবুনিয়া গ্রামের ইসমাইল হাওলাদারের একমাত্র কণ্যা মারিয়া। মারিয়া উত্তর গেড়াবুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী। রবিবার দুপুরে ভাত খেয়ে মারিয়া নিচে বসে সকলের সাথে টিভি দেখে সন্ধ্যার পূর্বে বসতঘরের দোতালায় উঠে সবার অযান্তে কোন এক সময় টিনের চালার রুয়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। সন্ধ্যার পরে ঘরে মারিয়াকে দেখতে না পেয়ে মা সালেহা বেগম আশেপাশে খুজে না পেয়ে বসত ঘরের দোতলায় উঠে দেখেন বসত ঘরের চালার রুয়ার সাথে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মারিয়া ঝুলে আছে।

এ সময় তিনি ডাক চিৎকার দিলে ঘরের অন্যান্য লোকজন উপড়ে উঠে দেখেন মারিয়া রুয়ার সাথে ঝুলে আছে। আত্মহত্যার কারন যানা না গেলেও পরিবারের দাবী দীর্ঘদিন ধরে মারিয়া মানুষীক সমস্যা ও উপরি লক্ষন ভূগতেছিলেন। সংবাদ পেয়ে রাতেই আমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সোমবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মারিয়ার চাচা লোকমান হাওলাদার বলেন, মারিয়ার উপড়ি লক্ষন আছে। কারো কোন কথা শোনেনা, এ বছর ওর ৪র্থ শ্রেণীতে থাকার কথা কিন্তু উপড়ি লক্ষন ও ঠিকতম লেখাপড়া না করার কারনে ওকে তৃতীয় শ্রেণীতেই রাখা হয়েছে। এতটুকু মেয়ে কিজন্য যে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলো বুঝতেছিনা।

মারিয়ার মা সালেহা বেগম কান্না কন্ঠে বলেন, স্যার গো মুই তো ঘরের মধ্যেই আল্লাম। মুই ফ্যান ছাইর‌্যা নিচে বইয়া টিভিতে করোনার খবর দেখছি। মোর এতুডু মাইয়া কিভাবে যে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করলো মুই একটু টেরও পাই নাই। তিনি আরো বলেন, মোর এই একটাই মাইয়া, মাথায় সমস্যা একটা কথাও হোনেনা। অনেক ফহির ফাক্কা দেহাইছি। ভাল হরতে পারি নাই বলেই আবার কান্না শুরু করে দেয়।

আমতলী থানার এসআই মোঃ মামুন বলেন, সংবাদ পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে বসতঘরের দোতলায় চালার রুয়ার সাথে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত অবস্থায় মারিয়ার মরদেহ দেখে নামিয়ে সুরতাহাল রিপোর্ট তৈরী করে থানায় নিয়ে আসি।

আমতলী থানার পরিদর্শক মোঃ শাহআলম মুঠোফোনে বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। লাশের ময়না তদন্তের জন্য রবিবার সকালে বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ