বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
তাহিরপুরে অজ্ঞাত বৃদ্ধার ঠিকানা খুঁজছে এলাকাবাসী নিবন্ধন না থাকায় সাভারে বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আশুলিয়ায় স্কুল পড়ুয়া কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা, সাভারে ২ জনের লাশ উদ্ধার পাটগ্রামে ভারতীয় শাড়ী ও কসমেটিক্স সহ আটক ২ নৌকার মাঝি মোহাম্মদ আলী, ধানের শীষ হাতে সাইফুল আলম বরগুনায় গণপূর্ত বিভাগের জলাশয় অবৈধভাবে দখল করে মাছ চাষ বগুড়ায় ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচার মৃত্যু ঘোড়াঘাটে বালু বোঝাই ট্রাকে ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার ২ সাভারে টায়ার পুড়িয়ে পরিবেশ দূষণ, ৫টি কারখানা গুড়িয়ে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত মন্ত্রণালয়ের কোন কর্মকর্তা কর্মচারী দুর্নীতি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: অতিরিক্ত সচিব

ইউএনও’র ত্রাণ তহবিলে ভিক্ষুক দিলেন ১০ হাজার টাকা

এ এম আব্দুল ওয়াদুদ, শেরপুর প্রতিনিধি

চারিদিকে যখন চলছে হড়িলুট, তখন শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাঁও এর নজিম উদ্দিন কর্মহীনদের সহায়তায় গঠিত ইউএনও’র ত্রান তহবিলে দশ হাজার দান করলেন।

জানা যায়, নজিম উদ্দিন পেশায় ভিক্ষুক।নিজের বসত ঘর মেরামতের জন্য কষ্ট করে দুই বছরে জমিয়েছিলেন ১০ হাজার টাকা। অবশেষে জাতির এ ক্রান্তিকালে ঘর মেরামত না করে অসহায়দের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্য তার জমান টাকা দান করলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে ঘরবন্দী হওয়া কর্মহীন মানুষদের সরকারী ও বেসরকারীভাবে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে । গত রবিবার ইউএনও রুবেল মামুদের নির্দেশে খাদ্য সহায়তার জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দি প্যাসিফিক’ ক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্যরা কর্মহীন অসহায় দরিদ্রদের তালিকা প্রণয়নে গান্ধীগাঁও গ্রামে যান।

এ সময় ভিক্ষুক নজিম উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে তাকে ইউএনর’র পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার কথা বলে তার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখতে চান তারা। পরে ভিক্ষুক ওই তালিকায় তার নাম না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন তিনি। একই সঙ্গে ওই ভিক্ষুক বলেন, নিজের বসত ঘর মেরামত করার জন্য দুই বছরে ভিক্ষা করে জমিয়েছেন ১০ হাজার টাকা। এ টাকা স্বেচ্ছায় বর্তমান পরিস্থিতিতে অসহায়দের খাদ্য দেওয়ার জন্য দান করবেন তিনি। পরে মঙ্গলবার ‘দি প্যাসিফিক’ ক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউএনও’র কাছে ওই ভিক্ষুককে নিয়ে আসলে তার জমানো ১০ হাজার টাকা ইউএনও’র হাতে তুলে দেন তিনি।
দান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নজিম উদ্দিন বলেন,আমি ভিক্ষা করে খাইয়ে-খুইচরে দুই বছরে এ টেহা জড়ো করছি। আমার ঘরডা ভাঙ্গে গেছে গ্যা। এহন আর ঘর-দরজা দিলাম না। দশে এহন (মানুষ) কষ্ট করতাছে, আমি এ টেহ্যা ইউএনও সাহেবের হাতে দিলাম। দশেরে দিয়ে দেখ, খাইয়ে বাঁচুক।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবেল মাহমুদ বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে কর্মজীবি মানুষ কর্মহীনতায় ভুগছেন। এখানে কর্মজীবি মানুষের সংখ্যায় বেশি। এর জন্য সরকারী চাল দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে তহবিল খোলা হয়েছে। আজকে একজন ভিক্ষুক, যিনি ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করে। তিনি ভিক্ষাবৃত্তি করে উর্পাজিত ১০ হাজার টাকা আমাদের তহবিলে দিয়েছেন। এ কাজের জন্য নজিম উদ্দিনকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। এটা মহানুভবতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

এ উদাহরণের মাধ্যমে সমাজের যারা বিত্তশালী আছেন, তাদের প্রতি আহবান জানাই এ দুর্যোগের সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ