শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাভারে স্কুলছাত্রী নীলা হত্যাকান্ডে মিজানের বাবা মা আটক সাতক্ষীরায় পানিবন্দী মানুষের অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন তুরাগ নদী থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে বিভিন্ন অপরাধীদের নামে ৪’শ ২৮টি মামলা নন্দীগ্রামে খাস পুকুরে পানি নিষ্কাশন নিয়ে মারামারি, আহত ২ শেকৃবিতে রেজিস্ট্রারকে চলতি ভিসির দ্বায়িত্ব দেওয়ায় বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির নিন্দা তাহিরপুরে অজ্ঞাত বৃদ্ধার ঠিকানা খুঁজছে এলাকাবাসী নিবন্ধন না থাকায় সাভারে বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আশুলিয়ায় স্কুল পড়ুয়া কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা, সাভারে ২ জনের লাশ উদ্ধার পাটগ্রামে ভারতীয় শাড়ী ও কসমেটিক্স সহ আটক ২

ইউটিউবার তদারকি সেল গঠন জরুরি!

রহিম উদ্দিন, কবি ও প্রাবন্ধিক

সাম্প্রতিক সময়ের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেট জগতে প্রবেশ করলে, এমন কিছু ছবি কিংবা এডিটিং করা ভিডিও ক্লিপ চোখে পড়ে, যা সুস্থ বিবেক নিয়ে অন্যের সম্মুখে প্রকাশ করা তো দুর, বলতেও লজ্জা হয়। এই বিষয়ে আপনারা অনেকেই দেখেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে একজন সংসদ সদস্য কর্তৃক হযরত শেখ হাসিনা বলার পর যেসব ছবির এডিটিং প্রকাশ হয়েছে তা বিবেচ্য। এই জন্য আমার মনে হয়, মাঝেমধ্যে প্রতিটি মানুষের তার নিজের হাত দিয়ে, নিজের চোখ, কান এবং কপালের ঠিক নিচে নাকটি ঠিক মতো আছে কিনা দেখা উচিৎ।

ইদানিং জাতি হিসেবে, প্রায়শই আমরা এই অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুলো হারিয়ে ফেলি। ফলে আমরা যেমন মাঝেমাঝে অনেক কিছু শুনি না, আবার দেখিও না। ফলে ভালো কাজ ও ব্যক্তিকে সঠিক কিংবা তারিফ করবো আর খারাপ কাজ বা ব্যক্তিকে মন্দ বলবো এই জিনিসটাও পারি না। নাক দিয়ে যে গন্ধ শুকে বলবো, সে উপায়ও নেই। এই নাকটাও যে আমাদের কাটার ভয় আছে। যদি কিছু বলেই ফেলি; পাছে নি নাকটাও কাটা পড়ে।

যাইহোক, এইদেশে গুণীজন, বুদ্ধিজীবী, সুশীল, সম্মানি কিংবা দায়িত্ব পরায়ণ লোকের অভাব নেই, অভাব কেবল সঠিক সময়ে সঠিক কথাটি বলার। ক্ষ্যাপাটে লেখক আহমদ ছফার ‘ অবক্ষয়ের সংজ্ঞা’ প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘ ব্যক্তি ভালো কাজ করল অথচ সমাজে তারিফ করার কেউ রইল না, মন্দ কাজ করল কেউ ধিক্কার ধ্বনি তুলল না, বুঝতে হবে সমাজে তখন অবক্ষয় চলছে। ‘ তবে, কি এখন অবক্ষয়ের যুগ এসে গেছে? এই মুহূর্তে কথা গুলো স্মরণ করিয়ে সবার জ্ঞতার্থে বলতে চাই, এখন সময় এসেছে, অন্তত, এই প্রজন্মের তরুণ বাংলাদেশি ফেইসবুক সেলিব্রিটি, ইউটিউবারদের বিষয়ে নির্দিষ্ট আইন প্রনয়ণ ও তদারকি সেল গঠন করার। অন্যথায়, দেখা যাবে, এই ইউটিউবারেরাই একদিন আমার, আপনার কিংবা পুরো বাংলাদেশের কাপড় খুলে ভিডিও তৈরি করে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছে। যদিও আমরা অনেকেই জানি, তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এই ধরনের অপরাধের বিচার বর্তমানে চলমান আছে। এহেন অবস্থায়, প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, তথ্য আইনে আপনি কর্তা ব্যক্তি কিংবা কর্তাধর্মের বিপক্ষে কিছু বললে একশ্যান হয়; যখন পুরো জাতিসত্তা, সভ্যতা ও ভব্যতাকে উলঙ্গ করে ভিডিও বানায় তখন তথ্য আইন কী বলে? এক্ষেত্রে বিচার বিভাগ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সমূহের ভুমিকায় বা কী?

এই বিষয়ে আমি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা তুলে ধরছি।
তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় বলা আছে, ‘কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যা মিথ্যা…বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে, দেখলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন অথবা যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়…ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়…বা করতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়, তাহলে তার এই কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে। কোনো ব্যক্তি এই অপরাধ করলে তিনি অনধিক চৌদ্দ বছর এবং অন্যূন সাত বছর কারাদণ্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

আশাকরি, তরুণ প্রজন্ম এইসব আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে। এবং সরকার অতিদ্রুত ইউটিউবার তদারকি সেল গঠন করে; চলচিত্র সেন্সর বোডের মতো, এই ধরনের ভিডিও কন্টেন্ট বাংলাদেশ থেকে আপলোডর পূর্বেই পরীক্ষা নিরিক্ষার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিবেন।

রহিম উদ্দিন
কবি ও প্রাবন্ধিক


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ