শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০১:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রপ্তানি আয়ের অন্যতম উৎস হবে আম: কৃষিমন্ত্রী খাবার না থাকলে আমাকে জানান, আমি বাড়ি বাড়ি খাবার পৌছে দিব: এমপি আনার অমুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের অভিযোগ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কমলগঞ্জে হিন্দু ছাত্র পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত ময়মন‌সিং‌হের শম্ভুগ‌ঞ্জে প্রায় শতা‌ধিক দোকানে ধর্মঘট শেরপুরের শ্রীবরদীতে ১’শ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার সাংসদ কন্যা ডরিন এর নেতৃত্বে রোজা রেখেও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এক কৃষকের ধান কেটে দিয়েছে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ করোনা সঙ্কটে আবারো অসহায় মানুষের পাশে সাংসদ কন্যা ডরিন সাভারে দুই নারী ধর্ষণের শিকার, আটক ২ ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে তিস্তায় ডুবে একজনের মৃত্যু

ইমামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, অন্তঃসত্বা কিশোরীর গর্ভপাত

আসাদুজ্জামান আসাদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কুফুরি ও আল্লাহর ভয় দেখিয়ে ছাত্রীকে ধর্ষণ করে ইমাম। অভিযুক্ত মাওলানা ওবায়দুল্লাহ (৫০) ব্রাক্ষণবাড়িয়ার কসবায় বিশারবাড়ী গ্রামে মসজিদের ইমাম।

ইমামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাছিরনগর উপজেলার বড়নগর গ্রামে। এই ঘটনায় মসজিদ কমিটি সহ একটি চক্র ইমামের পক্ষ নিয়ে গ্রাম্য সালিশ বসিয়ে উল্টো সমাজচ্যুত করেছে ওই কিশোরীর পরিবারকে।

অভিযোগসুত্রে ও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই কিশোরীকে মাদরাসায় ৮ম শ্রেনীতে ভর্তি করান তার বাবা। মাদরাসায় ভর্তির সুবাধে গ্রামের বড় মসজিদের ইমামের নিকট শুদ্ধভাবে কোরআন শিখতে দেন। কয়েকদিন মসজিদেই পড়ান ওই কিশোরীকে। পরে বাড়িতে পড়াবেন বলে জানান কিশোরীর পিতাকে। বাড়িতে পড়ানোর নামে একাকিত্বের সুযোগে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর কুফুরি ও আল্লাহর ভয় দেখিয়ে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করে ওই ইমাম। পরে আরো কয়েকদিন তাকে আল্লাহর ভয় দেখিয়ে ধর্ষন করে এবং কাউকে না জানাতে বলে। এতে অন্তঃসত্বা হয়ে পড়ে কিশোরী।

বিষয়টি টের পেয়ে ইমাম ফুসলিয়ে গত ২৩ জুলাই ওই কিশোরীকে দুটি ট্যাবলেট খেতে বাধ্য করে। ট্যাবলেট খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার প্রচন্ড পেটব্যথা শুরু হলে রাতেই একটি মৃত সন্তুান গর্ভপাত ঘটে। গর্ভপাতের পরে কিশোরীর পিতা মেয়ের কাছে জানতে চাইলে সে বলে হুজুর আমাকে পড়াতে এসে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষনের কথা না বলতে ভয় দেখায় হুজুর। বলে কুফুরী করে কিশোরী ও তার মা-বাবাকে মেরে ফেলার ভয় দেখায়। এই ভয়ে ধর্ষনের কথা মা-বাবাকে বলেনি কিশোরী।

ঘটনা জানাজানি হলে গ্রামের সাহেব সর্দারগন সালিশের আয়োজন করে কিশোরীর পিতাকে অপবাদ দিয়ে তাকে সমাজচ্যুত করে তাদের একঘরে হয়ে থাকার ঘোষনা দেয়। সালিশে অধিকাংশ সাহেব সর্দারগন ইমামের পক্ষ নিয়ে কথা বলার অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে কিশোরীর পিতা কসবা থানায় ইমামের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলে ওই অভিযোগটি গুরুত্বের সহিত আমলে না নিয়ে বিলম্বিত করতে থাকে পুলিশ এমটাই অভিযোগ কিশোরীর পিতার। পরে নিরুপায় হয়ে ন্যায় বিচারের আশায় গত ৯ আগষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞ আদালতে মামলা করেন ওই কিশোরীর পিতা।

আদালত পিবিআইকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। গত ২৩ আগষ্ট মামলার নথি ও নির্দেশ পেয়েছেন। ধর্ষিতা ছাত্রীর পিতা জানায়, কথিত সালিশের পর গত ২৮ জুলাই তিনি থানায় অভিযোগ পেশ করার ৭ দিন পর তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই জিহাদ দেওয়ান বিশারাবাড়ী মসজিদে যান। সেখানে অনেকের সাথে কথা বলে আমাকে ফোন করবেন বলে জানান। তিনি ফোন না করায় আমি ৩ দিন থানায় যাই। থানায় কেহই আমাকে এ বিষয়ে পাত্তা দেয়নি। আমাকে সমাজচ্যুত করায় কোন কাজ কর্ম করতে পারছিনা। মানবেতর জীবন যাপন করছি। নিরুপায় হয়ে ন্যায় বিচারের আশায় আদালতে মামলা করেছি।

এ বিষয়ে পিবিআই পুলিশ সুপার মো.সাখাওয়াত হোসেন বলেন; আমাদের তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এই এর চেয়ে বেশী কিছু বলা যাচ্ছেনা। এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ কমিশনার (কসবা সার্কেল) মো.মিজানুর রহমান ভূইয়া বলেন; বিশারাবাড়ীর কিশোরীর ধর্ষনের মামলার বিষয়ে আমাকে কেউ কিছু বলেনি। এ ধরনের কোন অভিযোগ আমার হাতে আসেনি। আসলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তসাপেক্ষে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে ইমামসহ জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। অভিযুক্ত ইমাম মাওলানা ওবায়দুল্লাহ’র সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ

Spoken English কোর্স