সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন

ঐতিহাসিক ৭ ই মার্চ পালন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের বান্দরবান কমিটি গঠিত

শাহরাজ, লামা (বান্দরবান)

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৭ ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষন সম্প্রচার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ বান্দরবান জেলা কমিটি গঠন-প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাজী মুজিবর রহমানের সভাপতিত্বে ৭ ই মার্চ বান্দরবান মুসাফির পার্কে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: আলমগীর কবির, পা:চ:না:প: উপদেষ্টা বীরমুক্তিযোদ্ধা অনা: ক্যাপ্টেন্ট অব: তারু মিয়া, বীরমুক্তিযোদ্ধা সার্জেন্ট অব: আ: আজিজ, কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আলীকদম উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শিরিন আক্তার, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হামিদা বেগম, কেন্দ্রীয় কমিটির সহপ্রচার সম্পাদক এম রুহুল আমিন।

বক্তারা জাতির জনকের ৭ ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষনের তাৎপর্যতা মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ স্বাধীনের ঘোষণা ও বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন সেদিন। জাতির পিতার ওই ভাষণে বাঙ্গালী জাতি স্বাধীনতা আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন।

প্রসঙ্গ টেনে বক্তারা বলেন, আজ পাহাড়ে একটি মহল স্বাধীন বাংলাদেশের গুরুত্বপুর্ন এক দশমাংশ পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিয়ে নানান মুখি ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। মহলটি ৩২ হাজার বাঙ্গালীর রক্ত খেয়ে ক্ষান্ত হননি। সন্ত্রাস-চাঁদাবাজী, অপহরণসহ নানান অপকর্ম অব্যাহত রেখেছে তারা।

দেশদ্রোহী এই চক্রটি পার্বত্যাঞ্চলকে আলাদা করার নীলনকশা বাস্তবায়নে ভারতের বুকে বসে তাদের মনগড়া রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দু:স্বপ্ন দেখে। বক্তারা বলেন, পার্বত্যাঞ্চলের নাগরিকরা এই হীন ভয়ংকর দেশদ্রোহী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সর্বদায় স্বোচ্চার রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন বাংলায় এই ধরণের দেশদ্রোহীদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ।

সভায় দীর্ঘ বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা কাজী মুজিব বলেন, জাতির জনক কণ্যার সরকার পার্বত্যবাসীর ব্যাপক উন্নয়ন করছেন। কিন্তু জনগনের প্রতিনিধিরা স্বার্থান্ধতায় মেতে রয়েছে। তিনি বলেন বস্তুগত উন্নয়ন হলেও মানব সম্পদের কোন উন্নতি হচ্ছে না। বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি কলেজ, জেলা উপজেলায় উচ্চ বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নেই বলে অভিযোগ এনে তিনি বলেন, নেতাদের সন্তানরাতো বিদেশে পড়া লেখা করে। হাসপাতালগুলোতে ডাক্তার নেই, বিশুদ্ধপানি সরবরাহসহ নাগরিকদের জীবন ঘনিষ্ট সেবামূলক কর্মকান্ড গুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, দেশদ্রোহী সন্তু বাহিনীদ্বারা পার্বত্য জেলার বিভিন্ন এলাকাসহ বান্দরবানেও বারবার আওয়ামী নেতা কর্মিরা প্রাণ হারাচ্ছে। দু:র্ভাগ্য বসত কারণে আজ হত্যার শিকার নেতা-কর্মিসহ নিরিহ-নির্যাতিত লোকজনের পক্ষে আইনি সহায়তা চাওয়ার সাহসটুকুও নেই কারোর। তিনি এসব দেশদ্রোহি কর্মকান্ডে বিস্ময় প্রকাশ করে প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
পার্বত্য নাগরিকদের প্রিয় নেতা কাজী মুজিব আরো বলেন, জনগনের ভাগ্য উন্নয়নের অর্থে ও পার্বত্যবাসীদের থেকে চাঁদাবাজীর টাকায় কেনা অস্ত্র দিয়ে সন্তু বাহিনী পার্বত্য বাসীকে হত্যা করে চলছে। তিনি বলেন, জনতার নেতা সেজে মুখোশের আড়ালে কারা এসব সন্ত্রাস বাহিনীকে মদদ দিচ্ছে, তা পার্বত্যবাসী জানেন। সমাজ-মগজে অবস্থান করে স্বাধীনতা বিরোধীরা পার্বত্যাঞ্চলকে আলাদা করার পেছনে গোপনে ইন্ধন জোগাচ্ছে কারা? এটাও মানুষ জানেন।

বান্দরবান জেলা সদরে ১৮ কোটি টাকা ব্যায়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মান স্থান নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, মুসলমান অধ্যুষিত একটি দৃম্যমান স্থানে মসজিদ না করে, মুসল্লিহীন জেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে মসজিদ নির্মাণ করার পরকিল্পনা চলছে। লোকচক্ষুর আড়ালে মসজিদটি নির্মাণ করে মুসলিম ঐতিহ্যের বিষয়টি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আড়াল করে রাখার এক সুদূরপ্রসারি জঘণ্য মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে কর্তা ব্যাক্তিরা। একই সাথে প্রধান মন্ত্রীর সুন্দর ইচ্ছার অন্তারায় সৃষ্টি করছে সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, হাত তোলা প্রত্যক্ষ ভোটে বান্দরবান জেলা কমিটির সভাপতি কাজী মুজিবর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এ্যাডভেকেট কাজী নাসিরুল আলমের নাম ঘোষণা করেন।
এসময় জেলার সাত উপজেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। একই সময় সভা মঞ্চ থেকে বান্দরবান সদর উপজেলা ও পৌরসভার কমিটির আংশিক তালিকাও প্রকাশ করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ