বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যার বিচার চেয়ে বগুড়ায় মানববন্ধন সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যার প্রতিবাদে হাতীবান্ধায় মানববন্ধন সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন জাবির আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা হল ছেড়েছেন, সব ধরনের পরীক্ষা স্থগিত অবৈধ বালুর ব্যবসায় দূর্বিষহ টোরামুন্সিরহাটের জনজীবন সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছে বিএমএসএফ বগুড়ায় বিদেশি পিস্তল গুলি সহ অাটক ১ সাংবাদিক হিসেবে আপনিও যোগ দিন অপরাধ ডটকমে সাংবাদিক হত্যার বিচার দাবিতে কাল ঢাকাসহ দেশব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশ লালমনিরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত

করোনাকালেও থেমে নেই বিদ্যুৎ বিল, কর্মহীন দরিদ্ররা বিপাকে

টাইফুন মিয়া, তাহিরপুর প্রতিনিধি

সারাদেশে করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে মানুষ যখন সকল কর্মক্ষেত্র ত্যাগ করে কর্মহীন ও গৃহবন্দী জীবনযাপন করছে। এমতাবস্থায় পল্লী বিদ্যুতের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করাটা যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা। এমনই এক করুণ অভিযোগ করছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার কর্মহীন দরিদ্র পরিবারের পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা।

জানা যায়, সম্প্রতি মিটার রিডিং না করে এবং কোনোরকম বিলম্ব মাশুল ছাড়াই পূর্ববর্তী মাসের বকেয়াসহ আনুমানিক গড় হিসেবে বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত করে পল্লী বিদ্যুৎ কতৃপক্ষ। কিন্তু এতেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কর্মহীন দরিদ্র পরিবারের গ্রাহকেরা।

করোনা আতঙ্কে গৃহবন্দী ও কর্মহীন হয়ে পড়া গ্রাহকরা বলছেন, আমরা গত ছয়মাস যাবৎ খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছি। মাঝে মাঝে সরকারি ত্রাণ যা পাই তা দিয়ে কোনোরকম দু’বেলার খাবার জুটে মাত্র। বেশির ভাগ সময়েই আমাদের চুলায় আগুন জ্বলে না। না খেয়ে দিন যায় আমাদের। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি যেখানে আমারা নিজেরাই না খেয়ে আছি, সেখানে হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল কীভাবে দেই! আমরা এভাবে অনাহারে মরতে চাই না, আমরা বাঁচতে চাই! আর বাঁচার জন্য লড়াই করতে সংবিধান আমাদেরকে মৌলিক অধিকার দিয়েছে। কিন্তু আদৌ আমরা বুঝে উঠতে পারছি না, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে যেখানে আমরা না খেয়ে বেঁচে থাকার অধিকারটুকু হারাতে বসেছি, সেখানে আমাদের উপর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে বলায় কোনো যৌক্তিকতা আছে কি! যা একটি সুষ্ঠু ও স্বাধীন দেশে সংবিধান বিরোধী কাজ বটে।

উপজেলার সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার যেভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছেন তা প্রসংশনীয়। তবে অসহায় দিনমজুর, কর্মহীন দরিদ্রের কথা বিবেচনা করে সরকারের উচিৎ করোনা আতঙ্ক চলাকালীন সময়ে বিদ্যুৎ বিল সম্পূর্ণ মওকুফ করা। তাছাড়া কোনো উপায়ন্তর দেখছি না। কারণ, দিন মজুরেরা দিন আনে দিন খায়। গত ছয় মাস ধরে তারা লক ডাউনে আবদ্ধ, এমতাবস্থায় বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের কথা চিন্তা করাটাও অসম্ভব।

উপজেলার মোল্লাপাড়া গ্রামের পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক কাশেম মিয়া বলেন, আমি অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় বের হতে পারিনি। এখন অটোরিকশাটাও নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। এদিকে চার সন্তান, স্ত্রী আর পিতামাতার জন্য খাদ্য জোগান দিতে ঋণ করে টাকা এনে কোনোরকম খেয়ে পড়ে আছি। এমতাবস্থায় বিদ্যুৎ বিল কীভাবে পরিশোধ করবো এই চিন্তায় দিন যায়।

একই গ্রামের পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক আনোয়ারা খাতুন জানান, আমাদের ৬ জন সদস্যবিশিষ্ট সংসার। আমার এক ছেলে যাদুকাটা নদীতে শ্রমিকের কাজ করে যা আয় করে তা দিয়ে কোনোরকম আমাদের দৈনন্দিন জীবন কাটে। কিন্তু করোনা উপস্থিতির কারণে নদীর কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় ও সরকারি ত্রাণের উপর ভর করে কোনোরকম খেয়ে পড়ে আছি। এদিকে গত মার্চ থেকে চলতি মে মাসের মোট ৩৮২১ টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে। যা পরিশোধ করা একেবারেই অসম্ভব। সরকার যদি আমাদের এই করুণ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে বিদ্যুৎ বিল মওকুফ করে দিতেন, তাহলে করতোনায় না মরলে অন্তত শান্তিতে বেঁচে থাকতে পারতাম।

উপজেলার ঘাগড়া গ্রামের দয়াল মিয়া অশ্রুসিক্ত কন্ঠে বলেন, করোনায় নয়, ভাতেই মরে যাচ্ছি। সরকার বিভিন্ন সময়ে ত্রাণ দিলেও আমরা কোনো ত্রাণ পাচ্ছি না। যার ফলে এমনও দিন যাচ্ছে যে চিড়ামুড়ি খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করতে হচ্ছে । এমন পরিস্থিতিতে আমাদের কাছে বিদ্যুৎ বিল চাওয়াটা একটা স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার উপর নিষ্ঠুরতা। তাই মাননীয় সরকারের কাছে আমাদের আর্জি, আমাদের সার্বিক সমস্যার কথা বিবেচনা করে আমাদেরকে যেন বিদ্যুৎ বিল মওকুফ করে দেন।

এ ব্যাপারে কথা বলতে সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমরা করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্র জনগণের কথা বিবেচনা করে গত ফেব্রুয়ারী থেকে জুন মাস পর্যন্ত কোনো জরিমানা ব্যতিরেখে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক বিদ্যুৎ বিল নিচ্ছি। তবে বর্তমানে আমরা গ্রাহকদেরকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য কোনো প্রকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি না। তবুও সরকারি নির্দেশনা থাকায় আমরা গ্রাহকদেরকে তাতে সাধ্যমতো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য আহ্বান করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ

Spoken English কোর্স