সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ১০:০৫ অপরাহ্ন

করোনায় ভিক্ষা বন্ধ শতবর্ষী ফাতেমার

মতিউর রহমান, খুলনা

“দুয়ারে দুয়ারে যাইয়া চাইয়া চিনতে চলতাম। এহন নাকি কি করোনা আইছে; সেজুন্যি বাড়ি বাড়ি যাতিও পারিনা, ঠিকমোতো খাতিও পারিনা। সামনে কী খাবো, ক্যামনে বাঁচপো তাও কতি পারিনা” কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই নিজের অসহায়ত্বের কথা বলছিলেন শতবর্ষ পার করা ফাতেমা বেগম।

খুলনার শেখ রাসেল ইকোপার্কের পাশে রূপসা নদীর চরে একটি ছনের ছাউনি ঘরে বাস করেন ফাতেমা বেগম। বৃষ্টি হলে পানিতে ভিজে যায় তাঁর ঘর, আর বর্ষা কালে ডুবে যায় বাড়ির উঠোন-ঘাট।

জীবনের শুরু থেকেই দুঃখকে বয়ে চলছেন ফাতেমা। দশ বছর বয়সে বিয়ে হয় তাঁর। ৭ বছর যেতে না যেতেই কলেয়ার আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বামী কাসেম আলী; রেখে যান দুই শিশু কন্যা আলেয়া আর গোলেয়া। মেয়েদের মুখের দিকে তাকিয়ে আর বিয়ে করেননি ফাতেমা বেগম।

জীবিকার তাগিদে বাগেরহাটের বটতলা গ্রাম থেকে পাড়ি জমান খুলনায়। শহরে এসে সাধ্যমতো কাজ করে সংসার চালাতেন তিনি। বিয়েও দিয়েছেন দুই মেয়েকে। বড় মেয়ে গোলেয়ার স্বামী মারা যাওয়ায় ছোট মেয়ে আলেয়ার সাথে থাকেন ফাতেমা। কিন্তু ছোট মেয়ে আলেয়া স্টোক করায় শরীরের একাংশ এখন প্যারালাইজ। অন্যদিকে তার স্বামীও হাঁপানি, কুষ্ঠ রোগের কারণে গত দু’বছর কাজ করতে পারেননা। ফলে ফাতেমা বেগমের ভিক্ষা আর প্রতিবেশিদের সাহায্যের ওপরই চলতো তিনজনের পরিবার। কিন্তু করোনার কারণে দিনমজুর প্রতিবেশীদের কাজ বন্ধ থাকায় এখন তারা সাহায্য করতে পারেননা পরিবারটিকে আবার ভিক্ষার জন্যও বের হতে পারেনা ফাতেমা।

ফাতেমা বেগম থাকেন সরকারি খাস জমিতে। খুলনা-মংলা রেলসেতু কর্তৃপক্ষ সে জমি অধিগ্রহণ করায় যেকোনো সময় জায়গা ছেড়ে দিতে হবে তাঁদের। ফলে পরে কোথায় থাকবেন তা যেমন অনিশ্চিত অনুরূপ চলমান করোনা পরিস্থিতে কি খেয়ে বেঁচে থাকবেন তাও জানেননা শতবর্ষী এই ফাতেমা বেগম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ

Spoken English কোর্স

Shares