শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন

করোনা ভাইরাসে থেমে নেই এনজিও’র কিস্তি আদায়!

মো.মিজানুর রহমান নাদিম, বরগুনা প্রতিনিধি

চীন থেকে শুরু করোনা ভাইরাস সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে।করোনা ভাইরাস আতঙ্কে থমকে গেছে মানুষ। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লাগলে মানুষ খুব সর্তকতা অবলম্বন করে। করোনা ভাইরাস আতঙ্কে কমে গেছে ব্যবসায়ীদের বেচা-কেনা।

এ অবস্থায় বরগুনার তালতলীতে করোনা ভাইরাসে থেমে নেই এনজিওদের কিস্তি আদায়।এনজিওদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে খেটে খাওয়া দিন মজুরা বিপাকে পড়ছেন। সাধারণ দিনমজুরদের দাবি এই করোনা ভাইরাস যত-দিন থাকবে তাতদিন ঋণের কিস্তি বন্ধ রাখা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে,প্রত্যেক এনজিওকর্মীরা বাড়িতে এবং যেকোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কিস্তি আদায় করে। তারা কোনো করোনা ভাইরাস মানছে না। এনজিও থেকে ঋন নিয়ে ব্যবসা, কৃষিকাজ, রিক্সা, অটোরিকশা, সিএনজি ক্রয় করে জীবিকা নির্বাহ করছে। করোনার প্রভাবে রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের চলাচল অনেকটা কমে এসেছে, বাজারঘাটেও ক্রেতাসাধারণের উপস্থিতি কম।

মালীপাড়া এলাকার ডেকোরেটর ব্যবসায়ী মো.ফারুক হোসেন জানান,বেসরকারি এনজিও থেকে টাকা তুলে ডেকোরেটের ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য কিছু মালামাল করেছি।এরই মধ্যে করোনার ভাইরাসের কারনে সকল অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। সকল ব্যবসা বন্ধ করে বাড়িতে থাকতে বলা হচ্ছে।

সপ্তাহে তিন হাজার কিস্তি দেই। সংগ্রাম এনজিও কর্তৃপক্ষ আমার কাছে পাবে ৮ হাজার টাকা কিন্তু তারা আমার নামে মামলা দিছে ২০০০০হাজার টাকা। সংগ্রামের এনজিওর লোকজন এসে কিস্তির জন্য বসে থাকে। কিস্তি না দিতে পারলে বিভিন্ন ভাবে গালি-গালাজ করে। “কন মোরা কেম্মে যামু”।

মাসুম নামে একজন শরবত ব্যবসায়ী বলেন, এনজিও থেকে কিছু ঋণ নিয়ে একটি গাড়ি ক্রয় করি। গাড়িতে করে শরবত বিক্রি করে আমি সংসার চালাই কিন্তু করোনা ভাইরাসের জন্য আমাদের বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছি। কিন্তু এনজিও লোকজন কিস্তি আদায়ের জন্য বাড়িতে আসে টাকা না পারলে বিভিন্ন কথা বলে। আমার এখন ব্যবসা নেই টাকা দিব কোথা থেকে। সরকারের কাছে আপাতত কিস্তি আদায় বন্ধের জন্য অনুরোধ করছি।

ছোটভাইজোড়া গ্রামের রিক্সা চালক মো.আলী হোসেন বলেন, করোনা ভাইরাসের কারনে লোকজন বাড়ির থেকে আসছে না। আমাদের কোন রোজি নাই। রাত পোয়ালে কিস্তির লোক বাড়িতে গিয়ে দাড়িয়ে থাকেন। এ সময় নিজের সংসার চালাতে পারচ্ছি না, কিভাবে কিস্তি পরিশোধ করবো।

এ ব্যাপারে তালতলী বাজারে ব্র্যাক এনজিওর ম্যানেজার শংকর কুমার বলেন আমাদের কাজ টাকা আদায় করা, আমরা সেটা করছি। তবে ব্র্যাক কাউকে জোর জবর দস্তি করছেনা। কিস্তি আদায় ও ছাড়া গ্রাহকদের করোনা ভাইরাসের বিষয় সচেতনতা করছে।ব্র্যাক সরকারের সকল নির্দেশনা মানার জন্য প্রস্তত আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ