রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:২৮ অপরাহ্ন

করোনা ভাইরাস :লক্ষ্মণ, চিকিৎসা ও সুরক্ষার উপায়
এস এ এম সাফায়েত হোসেন, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি / ৪৮১ ভিউ
সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

করোনা ভাইরাস কী?
করোনা ভাইরাস বলতে এক গোত্রের অনেকগুলো ভাইরাসকে বোঝায়, যা মূলত প্রাণীদের মধ্যে পাওয়া যায়।  হিউম্যান করোনা ভাইরাস এক ধরনের জুনোটিক রোগ এবং এই সংক্রমণটি প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

ভাইরাসটির অনেক রকম প্রজাতি আছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা প্রায় ছয়টি করোনা ভাইরাস সনাক্ত করেছেন, যা মানুষকে প্রভাবিত করে এবং হালকা থেকে মারাত্মক লক্ষণ সৃষ্টি করে।

বিশ্বজুড়ে ক্ষয়ক্ষতি?
বিশ্বজুড়ে ক্রমেই বেড়ে চলেছে করোনা ভাইরাস। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে এই সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লক্ষ ৫০ হাজার ৫১০। প্রতি ঘণ্টায় লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। মৃতের সংখ্যাও বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত ৭০০০ মারা গিয়েছে বিশ্বে। বাংলাদেশেও প্রতিদিন বাড়ছে করোনা আক্রান্তদের সংখ্যা। আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে ১০ জন আক্রান্ত সনাক্ত করা হয়েছে।

  • করোনার লক্ষন?
    ক) সর্দি
    খ) গলা ব্যথা
    গ) কাশি
    ঘ) মাথা ব্যাথা
    ঙ) জ্বর
    চ) হাঁচি
    ছ) অবসাদ
    জ) শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।

করোনার প্রতিকার?
এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। তবে আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষের দিকে এই টিকা মানুষের শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা যাবে। এই রোগ থেকে রক্ষার একমাত্র উপায় হলো অন্যদের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ হতে না দেয়া।


করোনার প্রতিরোধে যা যা, করতে হবে?

১. আক্রান্ত ব্যক্তি হতে কমপক্ষে ২ হাত দূরে থাকতে হবে।
২. বারবার প্রয়োজনমতো সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে, বিশেষ করে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে কিংবা সংক্রমণস্থলে ভ্রমণ করলে।
৩. জীবিত অথবা মৃত গৃহপালিত/বন্যপ্রাণী থেকে দূরে থাকা।
৪. ভ্রমণকারীগণ আক্রান্ত হলে কাশি শিষ্টাচার অনুশীলন করতে হবে (আক্রান্ত ব্যক্তি হতে দূরত্ব বজায় রাখা, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা, হাত ধোয়া, যেখানে-সেখানে কফ কাশি না ফেলা)।
৫. করমর্দন এবং কোলাকুলি না করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

গরম পড়লেই কি কমবে করোনা?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্টার্কটিকা বাদে বাকি ছ’টি মহাদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে নোভেল করোনাভাইরাস। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার। করোনার ভয়ে ঘাম ছুটেছে চিন, আমেরিকার মতো তাবড় শক্তিশালী দেশের। সকলে জানতে চাইছেন, এই মারণ ভাইরাসের থাবা থেকে কীভাবে বাঁচা সম্ভব? এই প্রেক্ষাপটে কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছে চিনের একটি গবেষণার রিপোর্ট। সান ইয়াৎ সেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষকের দাবি, তাপমাত্রা বাড়লে করোনাভাইরাসের ওপর তার প্রভাব পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে বেশি তাপমাত্রায় এই ভাইরাস নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়,

বাংলাদেশে এখন গরম পড়তে শুরু করেছে। তাই চিনের এই গবেষণার রিপোর্টের ভিত্তিতে আশাবাদী চিকিৎসকরা। তাঁরা মনে করছেন, গরম বাড়লে করোনার প্রভাব কমবে, এখন যেভাবে ছড়াচ্ছে ততটা ছড়াবে না।
তবে এক গবেষণা যখন আশার আলো দেখাচ্ছে, তখন আর এক গবেষণা আবার উল্টো কথা বলছে। চিনেরই পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ লাইফ সায়েন্সেসের একদল গবেষক দাবি করেছেন, গবেষণায় দেখা গিয়েছে, জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে এই ভাইরাস আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। প্রধানত দুটো প্রজাতিতে নিজের বিবর্তন ঘটাচ্ছে করোনা। গবেষকরা এদের নাম দিয়েছেন এস আর এল। এই এল প্রজাতির ভাইরাস আরও মারাত্মক আকার নিচ্ছে, এর সংক্রমণের হারও অনেক বেশি।

এই তথ্য সামনে আসায় চিন্তিত চিকিত্‍সকরা, তাঁদের বক্তব্য, মিউটেশন ঘটিয়ে বিপজ্জনক আরও হয়ে উঠেছে করোনা, আর কী কী পরিবর্তন করবে তা বোঝা যাচ্ছে না। আর জিনগত পরিবর্তনের ফলে ইনফ্লুয়েঞ্জার মত এই ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরিতেও বেগ পেতে হবে।

ভাইরাসটি কতদিন বেঁচে থাকতে পারে?
কোভিড-১৯ কতদিন ধরে কোনো একটি পৃষ্ঠতলে বেঁচে থাকতে পারে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এই গোত্রের অন্য ভাইরাসগুলোর মতোই আয়ুষ্কাল হতে পারে এই ভাইরাসের। গবেষণা বলছে, করোনাভাইরাস কয়েকঘণ্টা থেকে কয়েকদিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। তবে ভূপৃষ্ঠের প্রকৃতি, তাপমাত্রা, বাতাদের আর্দ্রতাসহ ওই স্থানের ওপর এটি নির্ভর করে। তাই কোনো পৃষ্ঠ সংক্রমিত হয়েছে বলে মনে কররে জীবাণুনাশক দিয়ে সেই পৃষ্ঠ পরিষ্কার করা উচিত। একইসঙ্গে স্থানটির পাশাপাশি নিজেকেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Shares