সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ০১:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গাজীপুর মহানগরের ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুস সোবাহান সকলের দোয়া চায় ব্যাংকে ঋণ থাকা অবস্থায় ব্যবসায়ীর মৃত্যু: ৯ বছর পর চাপে ভুক্তভোগী পরিবার মাগুরায় ৮ দিন পর যুবকের মস্তকবিহীন লাশের মাথা ও পা উদ্ধার গাজীপুরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুল কলেজ খোলার জন্য মানববন্ধন। মাগুরায় পরিত্যক্ত পুকুরে মিললো যুবকের টুকরো টুকরো লাশ বশেমুরবিপ্রবিতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, স্বেচ্ছায় অব্যহতি গাজীপুরে ভোগরা বাইপাসে স্ট্রোকে আম বিক্রেতার মৃত্যু গাজীপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় গার্মেন্টস শ্রমিকের মৃত্যু শেরপুরে নকল সোনার বারসহ ২ প্রতারক গ্রেফতার কাল থেকে ৭ দিনের জন্য কঠোর লকডাউন চাঁপাইনবাবগঞ্জে

কলেজ ছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক লাপাত্তা

আপেল বসুনীয়া, রংপুর ব্যুরো

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম শরিফাবাদ স্কুল ও কলেজের এইচ এস সি পরীক্ষার্থী ছাত্রীকে নিয়ে লাইব্রেরিয়ান আইয়ুব আলী খাঁন লাপাত্তা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) ওই লাইব্রেরিয়ান আইয়ুব আলী খাঁন’র স্ত্রী রেবেকা পারভীন জানান, শরিফাবাদ স্কুল ও কলেজের এইচ এস সি পরীক্ষার্থী ছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে লাইব্রেরিয়ান আইয়ুব আলী খাঁন’র। বিষয়টি বিভিন্ন মহলে জানাজানি হলে আমি আমার স্বামী আইয়ুব আলী খাঁনকে ঘটনার সত্যতার কথা জিজ্ঞেস করি। কিন্তু আমার স্বামী আমাকে কলেজ ছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি না বলে বিভিন্ন ভাবে এড়িয়ে যায়। তার কাছ থেকে এ নিয়ে কয়েকবার প্রশ্ন করলে সে আমাকে শারিরীক ভাবে নির্যাতন করে এবং আমার মা বোনকেও বিভিন্ন অশ্লীল ভাষায় গালি গালাজ করে। তারপরও কলেজ ছাত্রীর সাথে প্রেমের বিষয়টি তার কাছ থেকে জানার চেষ্টা করলে সে এক পর্যায়ে মোহরানার টাকা পরিশোধ করে আমাকে তালাক দেয়ার হুমকি দেয়।

রেবেকা পারভীন বলেন,বিগত ২০০৩ সালের জানুয়ারী মাসে কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের মৃত আফতাব উদ্দিনের ছেলে শরিফাবাদ স্কুল ও কলেজের লাইব্রেরিয়ান আইয়ুব আলী খাঁন’র সাথে একই এলাকার বাইজিদ হোসেনের মেয়ে রেবেকা পারভীনের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। সংসার জীবনে আইয়ুব আলী খাঁন ও রেবেকা পারভীনের কোন সন্তান না হওয়ায় তার উপর বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন শুরু করে আইয়ুব আলী খাঁন। এ নিয়ে আইয়ুব আলী খাঁনকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বললেও রেবেকা পারভীনকে প্রায়ই মারধর করতো তার স্বামী। রেবেকা পারভীনকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করতে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে কয়েকদফা এলাকার লম্পট ছেলেদেরকে লেলিয়ে দিত তার পিছনে।

কিন্তু অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার মাধ্যমে নিজেকে সামলে নিয়ে সংসার করছেন রেবেকা পারভীন। গত ২৭ মার্চে তার (রেবেকা) বাবার বাড়ীতে গেলে আইয়ুব আলী তার বন্ধু জোনাব আলীর মাধ্যমে রেবেকাকে তার বাবার বাড়ী থেকে আইয়ুব আলীর বাড়ীতে নিয়ে আসে। বাড়ীতে পৌছার আগেই লাইব্রেরিয়ান তার স্ত্রীকে রাস্তার উপরে মারধর শুরু করে এবং তার বাবা মায়ের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করতে বলে। প্রায় দিন লাইব্রেরিয়ান গভীর রাতে বাড়ী আসলে তার স্ত্রী এত রাতে কোথায় থাকেন বিষয়টি জানলে পৈশাচিক কায়দায় তাকে মারপিট করে। এরপরও আইয়ুব আলী ক্ষ্যান্ত হয়নি স্ত্রী রেবেকা পারভীনকে নির্যাতন করতে।

গত ২২জুন আইয়ুব আলী তার স্ত্রীকে বলেন, আমি যদি বিয়ে করি আর মেয়ের বাবা যদি আমার উপর মামলা করে তাহলে তুমিও কি আমার উপর মামলা করবে? স্ত্রী জবাবে বলেন, যদি তুমি মামলার পরিস্থিতি সৃষ্টি কর তাহলে আমি অবশ্যই মামলা করবো। তিনি সেদিন কোন কিছু না বলে চুপ হয়ে যায়। ২৩ জুন তার বেতন ফাইলে স্ত্রীকে নমিনীর স্থানে ফাইল আপডেট করার কথা বলে তার জাতীয় পরিচয় পত্র ও ছবি নেন আইয়ুব আলী খাঁন। ২৪জুন সাদা কাগজে নমিনীর স্বাক্ষরের কথা বলে সাদা কাগজে ফাঁকা জায়গায় স্ত্রী রেবেকার স্বাক্ষর গ্রহন করেন। ২৫জুন সকালে তার বন্ধুর বাড়ী পঞ্চগড় উপজেলার দেবীগঞ্জে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে তার স্ত্রীকে। দুপুরে বাড়ী থেকে কাপড় চোপর নিয়ে বের হওয়ার আগে স্ত্রীর হাতে একটি মোবাইল ফোন দিয়ে বলেন,আমার খোঁজ খবর নিবে এই ফোন দিয়ে। তার স্ত্রী তাকে জিজ্ঞেস করে বলেন কতদিনের জন্য তুমি তোমার বন্ধুর বাড়ীতে যাবে? তিনি বলেন আগামী কাল দুপুরে চলে আসবো।

রেবেকা পারভীন বলেন, ২৬জুন তাকে কয়েকবার ফোন করে তার ফোনের সুইজ বন্ধ পাই। পরে তার বন্ধুর নম্বর ম্যানেজ করে তাকে ফোন দিলে তার বন্ধু জানায় তার বাড়ীতে আইয়ুব আলী খাঁন যায়নি। বিভিন্ন স্থানে খবর নিয়ে তিনি জানতে পান লাইব্রেরিয়ান আইয়ুব আলী খাঁন তার ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে গেছে। বিষয়টি লোকমুখে ছড়িয়ে পড়লে রেবেকা পারভীন বিষয়টি তার বাবাকে জানান।

গতকাল ১ জুলাই লাইব্রেরিয়ান আইয়ুব আলী খাঁন তার স্ত্রীকে ফোন করে বলেন, তুমি আমার বিরুদ্ধে কোন কিছুই করতে পারবে না। তোমার সম্মতিতে আমার ২য় বিয়ে হয়েছে। তুমি নিজেই আমার বিয়ের কাবিননামায় স্বাক্ষর দিয়েছো। এখন কোথাও কোন মামলাও করতে পারবে না। তুমি আমাকে বিয়ে করার জন্য ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়েছো। আর আমার বিরুদ্ধে কোন বাড়াবাড়ি করলে আমি তোমাকে মোহরের টাকা দিয়ে তালাক দিব।

অপর দিকে মেয়েকে অপহরণ করার অপরাধে ওই কলেজ ছাত্রীর বাবা দলিরাম ভিখারী পাড়ার আবুল খায়ের কিশোরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

শরিফাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজার রহমান খাঁন বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানিনা এবং কেউ আমাকে কিছু জানায়নি। আপনার মুখে এ প্রথম শুনলাম আইয়ুব আলী খাঁন কলেজ ছাত্রীকে নিয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে লাইব্রেরিয়ান আইয়ুব আলী খাঁন’র মোবাইল (০১৭৩৫৭১৩৫৪৭) নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এম হারুন অর রশিদের সাথে কথা হলে তিনি অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন।

গাড়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিক বলেন, বিষয়টি আমিও শুনেছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ

Spoken English কোর্স