বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০৪:২৩ অপরাহ্ন

কালীগঞ্জে এক মানুষিক প্রতিবন্ধি যুবতী মা হয়েছে, বাবা হয়নি কেউ

রিয়াজ মোল্যা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ

অজ্ঞাত মানসিক প্রতিবন্ধী। নিজের নাম-পরিচয় কিছুই বলতে পারেন না।ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কোলাবাজারে ঘোরাঘুরি করতেন। সম্প্রতি অসুস্থ অবস্থায় উপজেলার ময়ধরপুর গ্রামে দিনমজুর আমজাদ হোসেন ও ছকিরন নেছা পরিবারে ঠাই হয় ওই নারীর। এরপর চিকিৎসক জানালেন সে অন্তসত্ত্বা।
শুক্রবার ২ অক্টোবর বিকেলে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফুটফুটে কন্যা সন্তানের মা হয়েছেন অজ্ঞাত সেই মানসিক প্রতিবন্ধী নারী। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ। তিনি হাসপাতালেই অজ্ঞাত ওই নারীর নবজাতককে বুকে তুলে নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবর্ণা রানী সাহা। তবে নবজাতকের পিতৃত্বের পরিচয় নিয়ে এখনো পর্যন্ত কেউ আসেনি।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও পত্রিকার সংবাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অবগত হয়েছেন। এ বিষয়টির দেখভাল করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে নবজাতক ও নবজাতকটির মায়ের সকল চিকিৎসার খরচ জেলা প্রশাসন বহন করবেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো অর্থ প্রদান করা হয়।
এর আগে শুক্রবার সকালে প্রসব যন্ত্রনা শুরু হলে স্থানীয় মিডিয়াকর্মিদের সহযোগীতায় কালীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এদিকে অজ্ঞাত অসহায় মানষিক প্রতিবন্ধির চিকিৎসার যাবতীয় খোঁজ খবর নিচ্ছেন স্থানীয় সাংসদ আনোয়ারুল আজিম আনার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২২/২৩ বছরের পরিচয়হীন এক মানষিক প্রতিবন্ধি মহিলা উপজেলার কোলাবাজারে ঘোরাফেরা করতেন। কখনও ময়লা কাপড় চোপড় শরীরে জড়িয়ে আবার কখনও অর্ধলঙ্গ অবস্থায় থেকে মুখে বিড় বিড় করে কি যেন বলতেন। কেউ কিছু বললে কখনও তেড়ে আসতো। আবার কখনও দেখা যায় ঠান্ডা মেজাজে। এক সপ্তাহ আগে ময়ধরপুর গ্রামের রাস্তার পাশে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে ছিলেন। দিন পেরিয়ে রাত গভীর হলেও সেখানেই পড়ে ছিল। রাতে দিন মজুর আমজাদ আলী কয়েকজনের সহযোগীতায় কালীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে চিকিৎসকরা জানায় সে গর্ভবর্ত। এরপর আর ফেলে যেতে পারেনি দিন মজুর আমজাদ। আমজাদের অভাবের সংসার হলেও তার স্ত্রী ছাকিরন নেছা নিজের সংসারের সদস্যের মত করে সেবা যতœ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
কালীগঞ্জ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার আফসানা পারভিন জানান, ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে সাভাবিক না থাকায় ছোট্ট একটি অপারেশনের মাধ্যমে সস্তান বের করা হয়েছে। তবে মা ও নবজাতক এখনও সুস্থ আছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূবর্ণা রানি সাহা জানান, খবর পেয়েই তিনি হাসপাতালে যোগাযোগ করে অসহায় প্রতিবন্ধির ব্যাপারে কথা বলেছেন। যে কোন প্রয়োজনেই তিনি তার পাশে থাকবেন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ