বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আশুলিয়ায় স্কুল পড়ুয়া কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা, সাভারে ২ জনের লাশ উদ্ধার পাটগ্রামে ভারতীয় শাড়ী ও কসমেটিক্স সহ আটক ২ নৌকার মাঝি মোহাম্মদ আলী, ধানের শীষ হাতে সাইফুল আলম বরগুনায় গণপূর্ত বিভাগের জলাশয় অবৈধভাবে দখল করে মাছ চাষ বগুড়ায় ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচার মৃত্যু ঘোড়াঘাটে বালু বোঝাই ট্রাকে ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার ২ সাভারে টায়ার পুড়িয়ে পরিবেশ দূষণ, ৫টি কারখানা গুড়িয়ে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত মন্ত্রণালয়ের কোন কর্মকর্তা কর্মচারী দুর্নীতি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: অতিরিক্ত সচিব আশুলিয়ায় হাঁস পালনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী, কর্মসংস্থানের অপার সম্ভাবনা ময়মন‌সিংহ শেরপুর আঞ্চ‌লিক মহাসড়‌কের চারলেন এর কা‌জ শুরু

কিভাবে পালন করবেন এবারের শবে বরাত

এ এম আব্দুল ওয়াদুদ

সারা বিশ্ব বর্তমানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে প্রক্রম্পিত। জাতির এ ক্রান্তিকালে এবারের শবে বরাত পালিত হবে অনেকটাই ভিন্ন ভাবে। কিভাবে পালন করা যেতে পারে এবারের শবে বরাত তাই নিয়ে আজ আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তায়াল বান্দার দোয়া কবুলের জন্য যে কয়েকটি বিশেষ রাত রেখেছেন, তার মধ্য অন্যতম হলো শবে বরাত। হতে পারে আপনার আমার জন্য এ শবে বরাত বা এ রাতই জীবনের শেষ রাত।

যে সকল মাসে তায়ালা বান্দার জন্য বিশেষ বরকত রেখেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো শাবান মাস। রাসূল সা. এ মাসে সবচেয়ে বেশি নফল রোযা রাখতেন।

হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূল সা. কে রমজান মাস ব্যতীত অন্য কোনো সময় পূর্ণ মাস রোযা রাখতে দেখিনি এবং শাবান মাসের চেয়ে অন্য কোনো মাসে এতো বেশি রোযা রাখতে দেখিনি। (বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, ) হযরত আয়েশা রাঃ বলেন, রাসূল সাঃএর নফল রোযার জন্য অন্যান্য মাসের তুলনায় শাবান মাস ছিল অত্যন্ত প্রিয়।অতঃপর তিনি শাবানের রোজাকে রমজানের সাথে মিলিয়ে দেয়াকে আরও বেশি পছন্দ করতেন।(আবু দাউদ খঃ১,পৃঃ৩৩৭)
সাইয়্যদূনা উসামা ইবনে জাইদ রাঃ বলেন,রাসূল সাঃ এরশাদ করেছেন শাবান মাস আমার মাস, রমযান মাস হল আল্লাহ তায়ালার মাস।

অন্য এব হাদিসে আছে রজব মাসে চাদ উদিত হলে রাসূল সাঃ পাঠ করতেন, আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফি রযবানা ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগনা রমাযান। অর্থ-হে আল্লাহ আমাদের রযব ও শাবান মাসে বরকত দান কর,এবং রমজান মাসে পৌঁছিয়ে দাও।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসেরসমস্যার করণে এবারের শবে বরাত অনেকটাই ভিন্ন ভাবে পালিত হবে। জানবো কিভাবে পালিত হবে এবারের শবে বরাত।

হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূল সা. কে রমজান মাস ব্যতীত অন্য কোনো সময় পূর্ণ মাস রোযা রাখতে দেখিনি এবং শাবান মাসের চেয়ে অন্য কোনো মাসে এতো বেশি রোযা রাখতে দেখিনি। (বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ)

তবে আমাদের দেশে শবে বরাত পালন করা নিয়ে অনেক প্রান্তিকতা লক্ষ্য করা যায় । আমি একটি পুস্তিকায় পড়েছি যে, শবে বরাত সম্পর্কে যেসব রেওয়ায়েত পাওয়া যায় তন্মধ্যে সনদের বিবেচনায় সবচেয়ে উত্তম রেওয়ায়েতটিই হল ‘জয়ীফ।’ তাহলে অন্যগুলোর অবস্থা খুব সহজেই অনুমেয়।

এই মন্তব্য করে মূলতঃ একটি শ্রেণী শবে বরাতকে অস্বীকার করতে চায়। আসলে তাদের এ কথাটি একেবারেই ভুল। শবে বরাত সম্পর্কে বেশ কয়েকটি হাদীস এসেছে। তন্মধ্যে একটি হাদীস ‘সহীহ’, কিছু হাদীস ‘হাসান’ আর কিছু ‘জয়ীফ’। এ জন্য সকল হাদীস জয়ীফ বলা ঠিক নয়। আর বিশেষ করে আমলের ক্ষেত্রে জয়ীফ হাদীস গ্রহণযোগ্য । এতে কারো দ্বিমত নেই ।

সনদের বিচারে সবচেয়ে উত্তম বর্ণনা

ইবনে হিব্বান ‘কিতাবুস সহীহ’তে বর্ণনা করেছেন, হযরত মুআয ইবনে জাবাল রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন ‘অর্ধ শাবানের রাতে আল্লাহ সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। অতপর শিরককারী ও বিদ্বেষপোষণকারী ছাড়া তার সমগ্র সৃষ্টিকে ক্ষমা করে দেন। (৫৬৬৫ নং হাদীস) ( আরো একাধিক হাদীসে এ বিষয়টি এসেছে। যেগুলোর সনদ ‘হাসান লিযাতিহী বা হাসান লিগায়রিহী।’ যথা মুসনাদে আহমদ এর ৬৬৪২ নং হাদীস, এবং মুসনাদুল বাযযারএ -২০৪৫ নং হাদীস।)
এছাড়া এ রাতের আমল সম্পর্কে ‘শুআবুল ঈমান’বায়হাকীর নিম্নোক্ত হাদীসটি লক্ষণীয়। হযরত আলা ইবনুল হারিছ রাহ. থেকে বর্ণিত, হযরত আয়েশা রা. বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নামাযে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সেজদা করেন যে, আমার ধারণা হল তিনি হয়তো মৃত্যু বরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সেজদা থেকে উঠলেন এবং নামায শেষ করলেন তখন আমাকে লক্ষ করে বললেন, হে আয়েশা, অথবা বলেছেন, ও হুমায়রা, তোমার কি এই আশংকা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি উত্তরে বললাম, না, ইয়া রাসূলুল্লাহ। আপনার দীর্ঘ সেজদা থেকে আমার আশংকা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কিনা।

নবীজী জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জান এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন ইরশাদ করলেন- ‘এটা হল অর্ধ-শাবানের রাত। (শাবানের চৌদ্দ তারিখের দিবাগত রাত।) আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে তাঁর বান্দার প্রতি মনোযোগ দেন এবং ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহপ্রার্থীদের প্রতি অনুগ্রহ করেন আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই।’ (শুআবুল ঈমান, বায়হাকী ৩/৩৮২-৮৩ ইমাম বাইহাকী রাহ. এই হাদীসটি বর্ণনার পর এর সনদের ব্যাপারে বলেছেন- ‘হাজা মুরসালুন জায়্যিদুন’) এধরনের বেশ কয়েকটি সহীহ ও হাসান হাদীস বিদ্যমান থাকা অবস্থায় কি এ কথা বলা উচিত যে, এ বিষয়ে সর্বোত্তম হাদীসটি সনদের বিচারে জয়ীফ? ভালোভাবে না জেনে কথা বলা থেকে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে নিরাপদ রাখুন।

এ রাতের গর্হিত কিছু কাজ
আমাদের সমাজে আরেকটি দল আছে যারা এই রাতকে বিপুল সমারোহে বরণ করে, শবে কদর থেকেও মহা পুণ্যের মনে করে । কোন কোন জায়গায় এই রেওয়াজ আছে যে, এ রাতে মাগরিব বা ইশার পর থেকেই ওয়াজ-নসীহত আরম্ভ হয়ে সারা রাত চলতে থাকে ।

আবার কোথাও ওয়াজের পর মিলাদ-মাহফিলের অনুষ্ঠান হয়। কোথাও তো সারা রাত খতমে-শবীনা হতে থাকে। মনে রাখতে হবে, এসব কিছুই ভুল জঘন্যতর বেদআত।

অনুরূপভাবে খিচুরী বা হালুয়া-রুটির প্রথা, মসজিদ, ঘর-বাড়ি বা দোকান-পাটে আলোক-সজ্জা, পটকা ফুটানো, আতসবাজি, কবরস্থান ও মাজারসমূহে ভিড় করা । এসবও এ রাতের আপত্তিকর কাজ। এসব কাজের কোন কোনটা তো অন্য সময়েও হারাম। আর কিছু কাজ সাধারণ অবস্থায় জায়েজ থাকলেও (যেমন : খিচুরী পাক করে গরীব-মিসকীনদের মধ্যে বন্টন করা) এগুলোকে শবে বরাতের কাজ মনে করা বা জরুরী মনে করা এবং এসবের পেছনে পড়ে এ রাতের মূল কাজ তওবা, ইস্তেগফার, নফল ইবাদত ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত থাকার কোন বৈধতা থাকতে পারে কি?

মূলতঃ এসব কিছুই শয়তানের ধোঁকা। মানুষকে আসল কাজ থেকে বিরত রাখার জন্যই শয়তান এসব কাজ-কর্মে মানুষকে লাগিয়ে রাখে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সব ধরনের প্রান্তিকতা থেকে মুক্ত হয়ে সঠিক অবস্থানে দৃঢ়পদ থাকার তাওফীক দান করুন।

এ দুর্যোগকালীন সময়ে কীভাবে পালন করবো শবে বরাত ?
যেহেতু করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গোটা দুনিয়ায় অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং এর ভয়াবহতা ও পরিণতি সম্পর্কে কেউ আর অনভিজ্ঞ নয়। তাই বিশ্বের এ দুঃসময়ে ঘটা করে শবে বরাত পালন করা কোন ভাবেই সমিচিন নয় ।তাছাড়া জন সমাগম এড়িয়ে চলতে বারবার শতর্ক করা হচ্ছে , এমনকি ফরজ নামাজ পর্যন্ত মসজিদে পড়তে নিষেধ করা হয়েছে ; এ অবস্থায় পুণ্যময় রজনী উপলক্ষে নফল বন্দেগী পালন করতে যেয়ে মসজিদে মসজিদে জমায়েত হওয়া সকলের জন্যেই ক্ষতির কারণ বলে মনে করি ।

তাই দেশবাসীর প্রতি আহ্বান , আপনারা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করে এই রজনী উদযাপন করুন এবং জিকির , তেলাওয়াত ও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে বিপদ মুক্তির প্রার্থণা করুন । রাতে সেহরী খেয়ে পরদিন একটি রোজাও রাখুন । ইমাম ইবনে রজব রাহ. বলেন : ‘মুমিনের কর্তব্য এই যে, এ রাতে খালেস দিলে তওবা করে যিকির, দুআ ও ইস্তেগফারের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। যত্নের সঙ্গে নফল নামায পড়বে। কেননা কখন মৃত্যু এসে যায় বলা যায় না।তাই কল্যানের মওসুম শেষ হওয়ার আগেই তার মূল্য দেওয়া কর্তব্য।আল্লাহ তাআলার নিকট থেকে ছওয়াব লাভের আশা নিয়ে পনেরো তারিখের রোযাও রাখবে। তবে অত্যন্ত জরুরি বিষয় হল, ওইসব গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা, যেগুলো এ রাতের সাধারণ ক্ষমা ও দুআ কবুল হওয়া থেকে মানুষকে বঞ্চিত করে দেয়। যথা : শিরক, হত্যা, হিংসা-বিদ্বেষ।

লেখক: তরুণ সাংবাদিক এ এম আব্দুল ওয়াদুদ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ