রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:২১ অপরাহ্ন

কেমন আছেন বাংলাদেশের যৌনকর্মীরা?
মাহাবুব মোল্লা, ঢাকা / ৫২৩ ভিউ
সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
যৌনকর্মীদের অনেকেরই এখন পেটে ভাত নেই

বর্তমানে করোনা মহামারীর লোকডাউন পরিস্থিতিতে ভেঙ্গে পড়েছে দেশের সকল স্তরের প্রশাসন। এর প্রভাব দেশের বেশ্যাপল্লীগুলোতেও পড়েছে। সকল সেক্টরের মত কোভিড-১৯ এর প্রভাবে তারাও বিপর্যস্ত।

তবে এখানে ভিন্ন চিত্র হচ্ছে,অন্যান্য সকল সেক্টরের মত তাদের পাশে এগিয়ে আসার কেউ নেই। সরকার কৃষি,বানিজ্য শিল্পগুলোকে পুনরিজ্জীবিত করার লক্ষে ব্যবসায়ীদের বিরাট অঙ্কের একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। তবে এই প্যাকেজে তাদের জন্য কতটুকু বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সেটাই ভাববার বিষয়। তারাও ব্যবসায়ী। তবে ব্যতিক্রম, তাদের মূলধন হচ্ছে তাদের দেহ। সমাজে তাদেরও একটি নাম আছে সেটি হচ্ছে ‘বেশ্যা’।

করোনা মহামারীর পূর্বে পুরো বেশ্যাপল্লী কিংবা পতিতালয় সেগুলো সবই ছিল ‘রমরমা’। বর্তমানে লোকডাউন পরিস্থিতিতে সেখানে ক্রেতা নেই বললেই চলে।

বাংলাদেশের SWN(Sex workers Committee) এর মতে, বাংলাদেশে ১৫০০০০ যোনকর্মীর মধ্যে ৭০ শতাংশই পতিতালয়ে অবস্থান করছে না। তাদের বড় একটি অংশ রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যান, মানিক মিয়া এভিনিউ, মিরপুর, কমলাপুর, চানখারপুলসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে। ইতিমধ্যে ৮ হাজার যৌনকর্মীই গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

UNICEF এর সবশেষ ২০১৫ সালের (SWN এর সাথে সমন্বয় করে তৈরি করা) রিপোর্ট অনুযায়ী, ৪১,৩৫০ জন রাস্তাভিত্তিক যৌনকর্মে লিপ্ত (গুরুত্বপূর্ণ সব মোড়ে এদের অবস্থান), ১৭ হাজার জন হোটেল ২৯ হাজার ৭৪ জন ছোট বাসা-বাড়িতে কিংবা ছোট পতিতালয়েই ছিল এদের অবস্থান।

তবে বর্তমান চিত্র আরো ভয়াবহ। SWN এর মতে, এই সংখ্যা এখন প্রতিটি সেক্টরে অন্তত ২০ শতাংশ বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশ সেক্স ওয়ারকার্স(SWN) এর প্রধানের দাবি,দেশের এই অচলাবস্থায় বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও সরকারি তহবিল থেকে পতিতালয়গুলোতে কিছু সাহায্য দিলেও চাহিদার তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল এবং বিভিন্ন রাস্তা-ঘাটে, বাসা-বাড়িতে নিয়োজিত সব কর্মীরা এই সাহায্যের বাহিরেই রয়ে গেছে।

গতকাল, ৭ মে, রাজধানীর মিরপুরে বসবাসকারী এক পতিতার সাথে (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) আলাপকালে তাদের দুভোর্গের কথা উল্লেক করে বলেন.. “সমাজ আমগো’রে সাহায্য দেওয়ার বেলায় এত উদাসীন কেন? আমরা, প্রতিটা ‘বেশ্যা’ কিংবা পতিতার বিপরীতে তো আপনাগো’র ভদ্র সমাজেরই কেউ না কেউ অভিনয় করে। কই তারা যদি এই মহামারিতে আর্থিক সহায়তা কিংবা ত্রান চুরি করে দিব্যি চইলা যেতে পারে। তাহলে আমগো’র মত ছিন্নমূল মানুষগো’র দোষ কোথায়? আমগোর নাম শুনলেই প্রথমেই বেবাগের কেন ঘেন্না চইলা আসে?”

যাইহোক, সমাজের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে হলে কাওকে না কাওকে তো হাত নোংরা করতেই হয়।

এখন কথা হচ্ছে, তাদের পেশা নয়,বরং মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে হলেও এগিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। কেননা, ইতিমধ্যেই তাদের বিরাট একটি অংশ পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন জায়গায় মিশে যাচ্ছে যা কিনা মোটেও ভবিষ্যৎ সমাজের জন্য সুখোকর কিংবা কাম্য হবে না।

 

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Shares