সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন

গাজীপুর টঙ্গীতে মহিলা সাংবাদিকের উপর নির্যাতনকারি গ্রেফতার

মোঃ খলিল ইব্রাহীম, গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গীতে এক নারী সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৮) মে রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ ঘটিকার সময় গাজীপুরের টঙ্গীতে দৈনিক অন্য দিগন্ত পত্রিকার সহ-সম্পাদক (২৬) এর উপর হামলা চালায় মোরশেদ আলম (৪৫) নামের এক ব্যক্তি। আহত ঐ নারী সাংবাদিককে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে ভিকটিম নারী সাংবাদিক শহীদ আহসান উল্লাহ্‌ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে আশংকাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ আনোয়ার হোসেন পিপিএম (বার)বিপিএম (বার) এর নির্দেশে এবং টঙ্গী পূর্ব থানার (ওসি) মোঃ আমিনুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ জাহিদুল ইসলাম ও টঙ্গী পূর্ব থানার এসআই মোঃ শফিকুল ইসলাম উক্ত ঘটনায় সরাসরি জড়িত মোরশেদ আলম (৪৫) কে গ্রেফতার করেন।

উদ্ধারকারী জানান, মধুমিতা এলাকার গীত তরঙ্গ নামে একটি সংগীত একাডেমির দ্বিতীয় তলা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই নারী সাংবাদিকের ডাকচিৎকারে এগিয়ে গিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসি। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক পুলিশে খবর দিলে পুলিশ হাসপাতালে এসে ওই নারী সাংবাদিকের চিকিৎসাসহ যাবতীয় খোঁজখবর নেয়।

আহত নারী সাংবাদিক জানান, তিনি ওই সংগীত একাডেমিতে গান শিখতেন। তবে প্রায় সময়ই একাডেমি পরিচালক মোরশেদ কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। সংগীত একাডেমির পরিচালক মোরশেদ বারংবার কুপ্রস্তাব দেয়ার আমি ঐ সংগীত একাডেমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাই, কিন্তু মোরশেদ আলম আমাকে বিভিন্ন সময় মোবাইলে বিরক্ত করতে থাকে। আমি বাধ্য হয়ে তার সকল মোবাইল নম্বর ব্ল্যাক লিস্টে ফেলে রাখি। এরপর সে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর দিয়ে বিরক্ত করতে থাকে।

তখন আমি এই বিষয়টি মোরশেদ আলমের পরিবারকে জানাই আর এতেই মোরশেদ আলম ক্ষীপ্ত হয়ে আমার উপর হামলা চালায়। ঘটনার দিন আমি আমার পেশাগত কাজে ঐ সংগীত একাডেমির পাশের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম এই সময় মোরশেদ আলম আমার পথরোধ করে এবং আমাকে জোরপূর্বক ঐ সংগীত একাডেমিতে তুলে নিয়ে যায়।

তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় জোর করে আমাকে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টা চালান। রাজি না হওয়ায় তিনি আমাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করেন। আমার কানের দুল, গলার চেন ও আমার হাতের মোবাইল এবং আমার হাতে থাকা ব্যাগ নগদ টাকা ও জরুরি কাগজপত্র সহ জোড় করে ছিনিয়ে নেয়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, ওই তরুণীর মাথায় ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাসপাতালেই তার চিকিৎসা চলছে।

টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আহত নারীর সব রকম চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।

এই ঘটনায় টঙ্গী তথা গাজীপুরের সমগ্র গণমাধ্যামকর্মীরা বলেন, সাংবাদিকরা হচ্ছেন দেশের চতুর্থ স্তম্ভ। এভাবে একজন নারী সাংবাদিকের উপর হামলাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন তারা।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ

Spoken English কোর্স