সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন

গোপালগঞ্জ আদালতের ৭ কর্মচারীর মানবেতর জীবনযাপন

গোপালগঞ্জ, জেলা প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৭ জন কর্মচারী তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গত ৭ মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে তাদের। তারা তাদের বেতন ভাতা দ্রুত প্রদানের দাবী জানিয়েছেন।

উক্ত আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো.আজাদুর রহমান জানান, ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করা হয়। সে সময় গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ১৬ কর্মচারী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যোগদান করেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ওই ১৬ জনকে আত্তীকরণ করতে বলেন। কিন্তু তারা আত্তীকরণ না করে উচ্চ আদালতে রিট করলে উচ্চ আদালত তাদের আত্তীকরণের আদেশ দেন। পরবর্তীতে সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। এটি বিচারাধীন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই ১৬ কর্মচারীর মধ্যে সেসময় ২ জন ডিসি অফিসে যোগ দেন। সম্প্রতি আরও ২ জন ডিসি অফিসে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া, তাদের ভিতর ১ জন চাকুরিচ্যুত হয়েছেন। কিছুদিন আগে আরও ৬ জন ডিসি অফিসে যোগ দিয়েছেন। বাকী রয়েছেন ৭ জন। ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর হতে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর অবধি তাদের বেতন ভাতা গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন দিয়ে আসছিলো। জেলা প্রশাসন গত নভেম্বর মাস হতে তাদের বেতন বন্ধ করে দেন। কিন্তু এই ৭ কর্মচারীর বেতন বন্ধে আদালত বা প্রশাসনিক কোনো আদেশ নেই।

তিনি আরও জানান তাদের বেতন-ভাতা চালু করার জন্য গত ২০ জানুয়ারি ও ৮ এপ্রিল জেলা প্রশাসনের কাছে চিঠি পাঠান গোপালগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। তারপরও কোনো ভ্রুক্ষেপ করেননি জেলা প্রশাসন।

ওই আদালতের জারিকারক দেলোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘ ৭ মাস বেতন না পাওয়ায় পরিবার সহ আমরা অথৈ সাগরে পড়েছি। সমসাময়িক লকডাউনে আরও খারাপ অবস্থায় আছি। কোথাও টাকা ধার থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাকীও দিচ্ছে না কোনো দোকানদার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই লকডাউনের সময় সকল সরকারি-বেসরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। আমাদের করুণ পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টিপাত করে সকল বেতন-ভাতা দ্রুত পরিশোধ করার জন্য মমতাময়ী জেলা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার সময় আমরা জনবল,আসবাবপত্রসহ সকল প্রয়োজনীয় উপাদান দিয়ে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে সহযোগিতা করেছিলাম। ২০১৪ সালের মধ্যে তাদের সকল নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন কর্মচারী ডিসি অফিসে ফিরে এসেছেন, কিন্তু ওই ৭ জন এখোনো ফিরে আসেননি। তাদের পদ এখোনো শুন্য হয়নি। তাই নতুন জনবল নিয়োগ করতে পারিছিনা। ডিসি অফিসের কাজের অসুবিধা হচ্ছে। তারা ডিসি অফিসে যোগ দিলেই সমস্যার সমাধান হবে। অন্যথায় তাদের পেনশন নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ