সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৪৫ অপরাহ্ন

ঘড়ি ছাড়াই সময় বলতে পারে ইয়াছিন আলী!

রহিদুল ইসলাম রাইপ, নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার রাতোয়াল গ্রামের ইয়াছিন আলী (৭০) সবার কাছে ঘড়ি মানব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

ইয়াছিন আলী সকাল, দুপুর, বিকাল, সন্ধ্যা কিংবা রাতে যে কোন সময় যদি বলা হয় চাচা এখন সময় কত, শুধু হাতের দিকে তাকিয়েই ঘড়ি দেখার ভান করে নির্দিধায় বলে দেন সঠিক সময়।

উদাহরন স্বরুপ (এখন সময় সকাল ১০টা ৪০ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড)।  চাচা আমার ঘড়িতে বর্তমান সময় ১০ টা ৩৯ মিনিট, প্রতি উত্তরে তিনি বলেন তোমার ঘড়ির সময় হয়তো ঠিক নেয় নিজের প্রয়োজনের তাগিতে এখনই আমার সাথে মিলিয়ে নাও। কি এক আজব ব্যপার!

জেলার রাণীনগর উপজেলার রাতোয়াল ইয়াছিনপুর গ্রামের মৃত মছির উদ্দিনের ছেলে ইয়াছিন আলী পেশায় এক জন কাচামাল ব্যবসায়ী । দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে এ ব্যবসা করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। সংসারে ৪ ছেলে, ৫ মেয়ে। নিজের কোন জমি না থাকলেও সরকারের ১নং খাস খতিয়ান ভূক্ত জায়গাতে বসতি গড়ে কোন রকমে মাথা গোজার ঠাই করে বসবাস করেন।

রাণীনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম সহ জেলা সদর এবং পার্শ্ববর্তী বগুড়া ও নাটোর জেলার অংশিক গ্রামের মানুষ তাকে ঘড়ি ইয়াছিন নামে চেনেন। তিনি যে গ্রামে বসবাস করেন সে জায়গাটা রাতোয়াল শোলার পার নামে কাগজপত্র থাকলেও এখন প্রায় ২০ বছর ধরে ইয়াছিন নামে নাম করণ হয়ে পরিচিতি লাভ করে এখন ইয়াছিনপুর নাম হয়েছে।

ঘড়ি ছাড়াই সময় হেফজ করার বিষয়ে ইয়াছিন আলী জানান, গত ২৫ বছর আগে কাঁদা- মাটির রাস্তায় সাইকেল নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে কাঁচা মাল বেচা-কেনা করতাম। সে সময় তার হাতে থাকতো একটি ঘড়ি। এক সময় তিনি একজননিম্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে ঘড়ি পরতে দেখে প্রতিজ্ঞা করেন আর হাতে ঘড়ি ব্যবহার করবো না। আস্তে আস্তে ঠাই দেন নিজের দেহের গড়ির প্রতি। ধীরে ধীরে ঘড়ি না দেখেই নিখুঁত সময় নির্ধারণ করার সাধনা করতে থাকে। মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই হেবজ করেন ঘড়ি না দেখে নিক্ষুত সময় বলে দেয়ার।

প্রথমে এলো মেলো হলেও পরে তা সম্পূর্ন আয়ত্তে এসে যায়। সেই থেকে ধীরে ধীরে প্রচার হতে থাকে তার ঘড়ি না দেখেই সময় বলে দেয়ার মত আজব অভিজ্ঞতার কাহিনী।

বসয়ের ভারে আস্তে আস্তে নুয়ে পড়লেও এখনো সেই সাইকেল নিয়েই গ্রামে গ্রামে ঘুড়ে দু’মুঠো ডাল ভাতের জন্য ব্যবসা করেন।  তার একান্ত ইচ্ছা ইতিহাসে কোন ভাবে হলেও যেন তার নাম লেখা পড়ে। কেন না তার জীবদ্দশায় ঘড়ি না দেখে সঠিক সময় বলে দিতে পারে এমন মানুষ আছে বলে তার জানা নেই।

ঐ গ্রামের মাহবুবুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, মাসুদ রানা, সহ অনেকেই জানান, ইয়াছিন আলী আমাদের গ্রামে বসবাস করেন। অনেক দিন থেকে সে ঘড়ি না দেখে সময় নির্ধারণ করে বলে দিতে পারে।  এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এলাকার অনেক উৎসক জনতা তার কাছে মাঝে মাঝেই সময় জানতে চাইতো। যাচাই- বাচাই সত্যতা পাওয়ায় ইয়াছিনের নাম তখন থেকেই ঘড়ি ইয়াছিন বলে পরিচিতি লাভ করে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ