শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১, ১০:১৬ পূর্বাহ্ন

চরম ভোগান্তিতে রোগীরা, চিকিৎসকদের কর্মবিরতি দফায় দফায় বাড়ছে দাবি

মো. বিল্লাল হোসাইন, জামালপুর

জামালপুরে চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনায় চলমান ধর্মঘটে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ছাড়া সারা জেলার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে বন্ধ রয়েছে চিকিৎসা সেবা। চিকিৎসকদের ২য় দিনের এ ধর্মঘটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে রোগীরা।

চিকিৎসকদের গতকালের ৩ দফা দাবি বেড়ে আজ ৪ দফা দাবিতে উন্নীত হয়েছে। দাবিগুলো হলো, চিকিৎসকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিতকরণ, সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহার, হাসপাতালের চিকিৎসকসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রশাসনিক নিরাপত্তা প্রদান এবং চিকিৎসা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন
এদিকে, জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়ে ঘোষণা ছাড়াই চিকিৎসা সেবা বন্ধ রেখেছে জেলার জেলার ৬টি উপজেলার বেসরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো।

হঠাৎ করে পুরো জেলায় চিকিৎসা সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে জেলার কয়েক হাজার রোগী। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়া শিশু ও বৃদ্ধ রোগীরা।

সোমবার সকাল ও দুপুরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগের চিকিৎসা সেবা অব্যাহত থাকলেও বহির্বিভাগে চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অনুপস্থিত। হাসপাতালে এসে চিকিৎসক না পেয়ে ফেরত যাচ্ছেন শতশত রোগী। এছাড়া আন্তঃবিভাগে রোগীদের গণহারে ছুটি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, শুক্রবার দুপুরে একজন নারী রোগীর মৃত্যু নিয়ে স্বজনরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কমর্রত চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা করে মারধরসহ জরুরি বিভাগের সরকারি সম্পত্তি বিনষ্ট করে।

এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পুলিশ ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উপর নির্যাতন করে এবং জামালপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমানকে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করে। পুলিশ একজন চিকিৎসক ও ৭ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক করে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মকলেছুর রহমানকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। আজ বিকেল ৪টায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবার কথা। তদন্ত প্রতিবেদন দেখে পরবর্তীতে চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ কর্মসূচি ঘোষনা করবেন।

তিনি আরো বলেন,শুধু বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা বন্ধ। কিন্তু আন্তঃবিভাগ এবং জরুরি বিভাগ চালু রয়েছে। এছাড়া প্রসূতি মায়েদের জরুরি সেবা প্রদান চালু রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ