বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন

চিরিরবন্দরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

মো.বেলাল হোসেন, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, আমাদের জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরনীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে এদেশের অকুতোভয় সূর্য সন্তানরা প্রাণের মায়া ত্যাগ করে অসীম সাহসিকতার সাথে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জনের জন্য ঝাঁপিয়ে পরেছিলেন, দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে। জাতীয় জীবনের অন্যতম অহংকারের এ অবিস্মরনীয় দিনটি নানান আয়োজনের মধ্যদিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করেছে চিরিরবন্দর উপজেলা প্রশাসন।

শুক্রবার (২৬ মার্চ) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন ও জাতীয় দিবস ও বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলা উদযাপন কর্মসূচীর অংশ হিসেবে প্রত্যুষে থানা প্রঙ্গনে তোপধ্বনি, সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আঁধা সরকারি, স্বায়িত্বশাসিত, বেসরকারি ভবন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সকাল ৮ ঘটিকার দিকে চিরিরবন্দর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু হয়।

পরে সকাল সাড়ে ৯ ঘটিকায় আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে চিরিরবন্দর মডেল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শিশু কিশোরদের কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শন এবং প্রতিযোগিদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

সকাল সাড়ে ১০ ঘটিকায় শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা জ্ঞাপন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়শা সিদ্দীকার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালী বক্তব্য রাখেন সাবেক সফল পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও বর্তমান অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপি।

এসময় তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলার সর্বস্তরের মানুষ জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরে। শুধু এ দেশের জনগণই নয়, আক্রান্ত জাতি ও সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়ায় এবং বাংলাদেশের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয় প্রতিবেশী দেশ ভারত। মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র, আশ্রয় ও খাদ্য দিয়ে সহায়তা করে ভারত। এই সময় আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক পরিসরে বিশাল ভূমিকা রাখে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন (রাশিয়া)। সোভিয়েত ইউনিয়নের এই ভূমিকা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে আরও ত্বরান্বিত করে। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুক্তিকামী ও গণতন্ত্রকামী মানুষ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থন ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী ও বীরত্বপূর্ণ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লাখ মা বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতি বিজয় লাভ করে”।

“শোষণ–বঞ্চনার পথ পেরিয়ে সশস্ত্র সংগ্রামের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত যে দেশ ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র তকমা নিয়ে শুরু করেছিল যাত্রা; সেই বাংলাদেশ উন্নতির গতিতে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে পূর্ণ করল ৫০ বছর”।

“টেকসই উন্নয়নের এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে মাথা উচু করে দাঁড়াবে”।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আয়ুবর রহমান শাহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আহসানুল হক মুকুল, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা বানু, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডারসহ উপজেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

বাদ জুম্মা মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের আত্মার মাগফেরাত এবং জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় উপজেলার সকল মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হয়।

বিকেল ৪ ঘটিকার দিকে চিরিরবন্দর মডেল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসন এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয় এছাড়া সন্ধ্যায় উপজেলা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বরে এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়|


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ

Spoken English কোর্স

Shares