শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন

চুল বিক্রি করে খাবার কেনার সংবাদ মিথ্যা, সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

ডেক্স রিপোর্ট

ঢাকার সাভারে সন্তানদের জন্য খাবার কিনতে এক নারীর মাথার চুল বিক্রির ঘটনাটি সত্য নয়, এমনটাই দাবি উপজেলা প্রশাসন ও ছাত্রলীগের এক কর্মীর। উপজেলা প্রশাসন সাংবাদিকদের ডেকে দাবি করেছে, খবরটি মিথ্যা। আর ছাত্রলীগের কর্মী থানায় সাংবাদিকসহ তিনজনের নামে মামলা করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার রাতে সাভার থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার বাদী রমিজউদ্দিন ভূঁইয়া। তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী।

মামলায় ‘সেইভ সাভার’ ফেইসবুক আইডির এ্যাডমিন রাজিব মাহমুদ (৩২), স্থানীয় সাপ্তাহিক নিউজ গার্ডেন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ওমর ফারুক (৪০) এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা ওবায়দুর রহমান অভিকে (৫০) আসামী করা হয়েছে।

বাদী ছাত্রলীগের কর্মী রাজিম ভুঁইয়া মিশু বলেন, অভাবের তাৎনায় চুল বিক্রি করার ঘটনাটি মিথ্যা। এই ঘটনা প্রকাশ হওয়ার আগেও তার লোকজন ওই নারীকে ক্রান দিয়েছিল। তিনি বলেন, এই সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য ‘সেইভ সাভার’ নামে ফেইসবুক আইডিতে এর এ্যাডমিন রাজিব মাহমুদ মাথার চুল বিক্রি করে শিশুর দুধ কেনার একটি মিথ্যা পোষ্ট করেন। এরপরপরই ওবায়দুর রহমান অভি ওই নারীকে খাদ্য সামগ্রী দিতে যায়। যা ফেইসবুকে লাইভ করেন ওমর ফারুক।

মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পারভেজুর রহমান বলেন, ওই নারীর সঙ্গে তাঁরা কথা বলেছেন। তাঁরা জেনেছেন, ওই নারী দেড় মাস আগে সাভারে আসেন এবং দেড় মাস আগে চুল বিক্রি করেন। ঘটনা শুনে মঙ্গলবার তাৎক্ষণিক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মাহফুজ তাঁর বাড়িতে যান। ওই নারীকে সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ দিয়ে আসেন। তখন সহকারী কমিশনার যা বলেছিলেন, গণমাধ্যমে তা পুরো আসেনি। একটি মহল সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে হেয় করার জন্য এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করেন ইউএনও।

প্রসঙ্গত; এর আগেও স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চুল বিক্রির প্রকৃত ঘটনাটি। প্রায় দেড় মাস আগেই সে তার চুল বিক্রি করে।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজুর রহমান জুম্মন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মাথার চুল বিক্রি করে শিশুর দুধ কেনার সংবাদটি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশের পর তদন্তে নামে উপজেলা প্রশাসন। তদন্তে জানা যায়, ঐ মহিলা প্রায় দেড় মাস পূর্বেই তার চুল কেটেছে এবং করোনা কালীন দূর্যোগের জন্য অর্থকষ্টে তিনি চুল বিক্রয় করেননি। চুল বিক্রি করে দুধ কেনার ঘটনাটি সাজানো।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ