রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৮:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

জাবির আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা হল ছেড়েছেন, সব ধরনের পরীক্ষা স্থগিত

মো.শামীম হোসেন, সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অবশেষে জাবির আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা হল ছেড়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিভিন্ন হলে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা হল ছাড়তে শুরু করেন বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান।

আ স ম ফিরোজ উল হাসান জানান, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়ার গেরুয়া এলাকায় ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে গেরুয়া বাজার এলাকায় গ্রামবাসী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে এসময় অন্তত ৪০ জন আহত হয়। এঘটনার শিক্ষার্থীদের উপর গ্রামবাসী হামলা করেছেন এমন অভিযোগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বন্ধ ক্যাম্পাসের হলের তালা ভেঙ্গে হলে প্রবেশ করেন। পরে সোমবার সকাল ১০ টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে হল ত্যাগের নির্দেশ দিলে হল ছাড়েননি শিক্ষার্থীরা। শেষে প্রশাসনের পক্ষ শিক্ষার্থীদের বোঝানো হলো মঙ্গলবার দুপুরে তারা হল ছাড়তে শুরু করেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আরও বলেন, মঙ্গলবার রাতের মধ্যে সব শিক্ষার্থী হল ছেড়ে যেতে পারে। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার ভবনে জরুরী মিটিং করেছেন হল প্রভোষ্টরা।

এদিকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের সব ধরনের পরীক্ষা স্থগিত করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. আবদুস সালাম মিঞা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সরকারের ২৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের সব ধরনের পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে।’ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘উইকেন্ড এবং ইভিনিং প্রোগ্রামেরও সব ধরনের পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।’

গত বছরের ১২ জুলাই থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়। ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইনে টিউটোরিয়াল পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বরের ১৮ থেকে জানুয়ারির ২১ তারিখ পর্যন্ত অনলাইনে ৪৫তম ব্যাচের সম্মান শেষ বর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর পরই স্নাতকোত্তর শ্রেণির পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তা করেছিল প্রসাশন। স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার জন্য মানববন্ধন ও স্মারকলিপি জমা দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সিদ্ধান্তের পর সব ধরনের পরীক্ষা স্থগিত হয়ে গেল।

এর আগে সোমবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘আমরা আগামী ২৪ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা শুরু ও ১৭ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এসব খোলার পর বিসিএস পরীক্ষা নেওয়া হবে।’

বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য আবেদনের তারিখ ও পরীক্ষার তারিখ পেছানো হবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে বিসিএস পরীক্ষায় আবেদনের তারিখে যেসব শিক্ষার্থীর বয়সসীমা অতিক্রান্ত হয়ে যাবে তাদের বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে। কেউই যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, আমরা অবশ্যই সেদিকে খেয়াল রাখব।’

এদিকে যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া এঘটনায় শিক্ষার্থীদের উপর হামলার অভিযোগে সোমবার ২৫০ জন অজ্ঞাত গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ

Spoken English কোর্স