শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১, ১০:২১ পূর্বাহ্ন

জামালপুরে চিকিৎসকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার, দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস

মো. বিল্লাল হোসাইন জামালপুর

জামালপুরে জেনারেল হাসপাতালে রোগীর স্বজন ও চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তিনদিন পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন চিকিৎসকরা।

বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সভা কক্ষে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আলোচনায় চিকিৎসকদের ৪ দফা দাবি পযার্য়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাসে চলমান ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ধর্মঘট প্রত্যাহার হওয়ায় জেলার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল গুলোতেও চিকিৎসা সেবা শুরু হয়েছে।

জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মো. মোজাফফর হোসেনের সভাপতিত্বে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক, পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (সাচিব) জামালপুর জেলার আহ্বায়ক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মোশায়ের উল ইসলাম রহমান রতন, জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. মাহফুজুর রহমান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহম্মেদ চৌধুরী, পৌর মেয়র আলহাজ্ব মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মনি, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব ছানোয়ার হোসেন ছানু, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মাসুম রেজা রহিম সহ আরো অনেকেই।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (সাচিব) জামালপুর জেলার আহ্বায়ক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মোশায়ের উল ইসলাম রহমান রতন জানান, আলোচনা সভায় চিকিৎসকদের ৪ দফা দাবি পযার্য়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তাই আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. মাহফুজুর রহমান জানান, ধর্মঘট প্রত্যাহার হওয়ায় জেলার সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা পুনরায় চালু হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে জামালপুর শহরের ইকবালপুর এলাকায় আহলে হাদিস অনুসারী মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে গিয়ে মসজিদের দু’তলা থেকে পড়ে গুরুতর হয় আহত করিমন বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ সময় করিমন বেগমের শ্বাসকষ্ট শুরু হলে হাসপাতালের ওয়ার্ডে অক্সিজেন সরবরাহ না থাকায় অক্সিজেনের অভাবে ওই রোগীর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করে স্বজনরা।

রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত রোগীর স্বজনরা জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসকসহ স্টাফদের উপর হামলা করে। খবর পেয়ে ইন্টার্ন চিকিসৎসকরা ঘটনাস্থলে আসলে মৃত রোগীর স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংর্ঘষ বেধে যায়। এ সময় হামলায় জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক চিরঞ্জিৎ সরকার, ইন্টার্ন চিকিৎসক হাবিবুল্লাহ, মৃত রোগীর দুই স্বজন শহিদুল ও জিহাদ আহত হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আবারো রোগীর স্বজনদের মারধর করলে মৃত রোগীর মেয়ে জামাই মো: সাইদুর ইসলাম আহত হয়। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় কয়েকজন ডাক্তার ও মেডিক্যাল শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমঝোতায় তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ