সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ০১:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গাজীপুর মহানগরের ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুস সোবাহান সকলের দোয়া চায় ব্যাংকে ঋণ থাকা অবস্থায় ব্যবসায়ীর মৃত্যু: ৯ বছর পর চাপে ভুক্তভোগী পরিবার মাগুরায় ৮ দিন পর যুবকের মস্তকবিহীন লাশের মাথা ও পা উদ্ধার গাজীপুরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুল কলেজ খোলার জন্য মানববন্ধন। মাগুরায় পরিত্যক্ত পুকুরে মিললো যুবকের টুকরো টুকরো লাশ বশেমুরবিপ্রবিতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, স্বেচ্ছায় অব্যহতি গাজীপুরে ভোগরা বাইপাসে স্ট্রোকে আম বিক্রেতার মৃত্যু গাজীপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় গার্মেন্টস শ্রমিকের মৃত্যু শেরপুরে নকল সোনার বারসহ ২ প্রতারক গ্রেফতার কাল থেকে ৭ দিনের জন্য কঠোর লকডাউন চাঁপাইনবাবগঞ্জে

জিপিএ ৫ পেয়েও তপন দাসের লেখাপড়া অনিশ্চিত

রিয়াজ মোল্ল্যা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

তপন দাসের ভূমিহীন বাবা হরেন দাস এক সময়ে ছিলেন মটর গাড়ি চালক। কিন্ত বয়সের ভার আর রোগাক্রান্ত হয়ে হারাতে বসেছেন দৃষ্টি শক্তি। ফলে এখন আর গাড়ি চালাতে পারেন না। মা সুমিত্রা দাস পরের বাসায় কাজ করেন।

সাংসারিক এমন অভাবের মধ্যদিয়ে সারা বছর রাজমিস্ত্রির সহকারীর কাজ করে চালিয়ে গেছে নিজের লেখাপড়া। চলতি বছরে সে কালীগঞ্জ সরকারী নলডাঙ্গা ভূষন হাইস্কুল থেকে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধিন জিপিএ ৫ পেয়েছে। কিন্ত এখন কিভাবে আসবে কলেজের লেখাপড়ার খরচ সে চিন্তায় পড়েছে তপনের পরিবার। তারা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ফয়লা মাষ্টারপাড়ার মনো মোল্যার বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করেন।

সরেজমিনে শনিবার দুপুরে তপন দাসের ভাড়া বাড়িতে গেলে দেখা যায়, মাটির মেঝের ওপর টিনের ছাউনি ও বেড়ার দুটি ঝুপড়ি ঘরে ভাড়ায় বসবাস তাদের।

হতদরিদ্র মেধাবী তপন দাস জানায়, এতোদিন বাড়িতে থেকে রাজমিস্ত্রির সহকারীর কাজ করেও লেখাপড়া চালিয়ে গেছি কিছুদিনের মধ্যে হয়তো ভর্তি শুরু হবে। কাজ করে অল্প কিছু টাকা জোগাড় করেছি। বাকিটা কোথায় পাবো আর কিভাবেই বা দুরের কোন কলেজে ভর্তি হয়ে খরচ চালাবো এটা ভেবে কোন পথ পাচ্ছিনা।

মা সুমিত্রা দাস জানান, আমাদের নিজেদের কোন জায়গা জমি নেই। পরের বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছি। আমার অন্য ছেলেরাও দিনমজুর। তারাও পৃথক সংসার করছে। অভাবের সংসারে স্বামী কোন কাজ করতে পারেন না। আমিও অসুস্থ তবে বেঁচে থাকার তাগিদে এলাকার শ্যামল বিশ্বাসের বাসায় কাজ করি। ছোট ছেলে তপন দাস লেখাপড়া করে। সংসারের অভাবের তাগিদে এবং নিজের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে তাকে রাজমিস্ত্রির সহকারীর কাজ করতে হয়।

স্কুল বাড়ির কাছে হওয়ায় এতোদিন লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পেরেছে। এখন কারিগরি কলেজে ভর্তি হতে হলে শুনছি যশোর অথবা ঝিনাইদহে যেতে হবে। যা আমাদের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তিনি আরও বলেন, চেয়ে ছিলাম নিজেরা না খেয়ে থাকলেও ছোট ছেলেটাকে একটু লেখাপড়া শেখাবো। কিন্ত অভাবের সংসারে আমাদের কাছে এটা দুঃসাধ্য এক ব্যাপার হয়ে গেছে।

প্রতিবেশি রাজু আহম্মেদ জানান,তপন দাসের সাংসারিক অবস্থা বিবেচনা করলে কথাটা দাড়ায় এমন সাধ আছে কিন্ত সাধ্য নেই। শুধু লেখাপড়ার কথাই না তারা ঠিকমত খেতেও পায়না। তারপরও লেখাপড়ার প্রতি তপনের আগ্রহ ও ফলাফল সন্তোষজনক।

কালীগঞ্জ ফয়লা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আশরাফুল ইসলাম মিঠু জানান, তপন দাসের পরিবার ভূমিহীন ও অভাবী। তপন দাস নিজে রাজমিস্ত্রির জোগালের কাজ করেও পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করায় তাকে ধন্যবাদ দিতে হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ

Spoken English কোর্স