সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন

জীবনবাজী রেখে অসহায় মানুষের পাশে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন সোহেল
রিয়াজ মোল্ল্যা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ / ১৮৩ ভিউ
সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১

করোনা কালীন সময়ে সরকারের নির্দেশনায় লকডাউনে থাকা অসহায় ও নি¤œ আয়ের মানুষের নিকট খাদ্য সামগ্রী মাঠ পর্যায়ে পৌছে দেওয়ার দায়িত্ব অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের মতো জেলা পরিষদের সদস্যদের হাতেও কম নয়।
এমন একজন সৎ ও কর্মঠ জেলা পরিষদ সদস্য হিসেবে নিজেকে ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, বর্তমান উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন সোহেল।

তিনি আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠনের এসব দায়ীত্বপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই উপজেলাকে একটা শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে, পুরো উপজেলা থেকে সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূল করতে, সর্বোপরি দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সবার সাথে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন যুবলীগের তরুন এই নেতা।
তিনি মনে করেন তার সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে এসেছে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলা। প্রায় ৪ লক্ষ মানুষের বসবাস এই উপজেলায়। বর্তমান সময়ে করোনা পরিস্থিতির কারনে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের সংখ্যা বেশী। ছোট ব্যবসায়ী, রিকশা-অটো চালক-যাদের প্রতিদিনের আয়ের ওপর নির্ভর করে পুরো পরিবারের সারাদিনের ভরণ-পোষণ।
চলতি বছরের মার্চ মাসের প্রথম থেকেই করোনা আক্রান্তের খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই প্রাণঘাতী এ ভাইরাস নিয়ে সারাদেশের মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে সরকার। সবাইকে বাইরে ঘোরাঘুরি না করে ”ঘরে থাকুন, নিরাপদ থাকুন” বিশ্বব্যাপী মানুষের জন্য এখন এটাই করোনাভাইরাস থেকে বেঁচে থাকার বড় উপায়। এই বিষয়টা নিশ্চিত করতেই সরকার এবং বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা দেশজুড়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি নিজের এলাকার মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন জাহাঙ্গীর হোসেন সোহেল। পুরো উপজেলায় যুবলীগের নেতা-কর্মিদের সাথে নিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে লিফলেট বিতরণ, মাইকিং এবং মানুষকে নানাভাবে বোঝানো-সবই করে যাচ্ছেন তিনি।

বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে-খেটে খাওয়া, নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য সঙ্কট মোকাবিলা। সারাদেশের মত একই চিত্র এই উপজেলাতেও। এই সঙ্কট মোকাবিলায় প্রথম থেকেই অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে ছুটছেন যুবলীগের তরুন এই জনপ্রতিনিধি। ইতিমধ্যে তিনি অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণে প্রতিটি ধাপ শেষ করেছেন। সরকারের দেওয়া খাদ্য সহযোগিতা পৌঁছে দিয়েছেন অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে। নিজে এলাকার মানুষদের ডেকে আনেননি, জমায়েত হয়ে যাবে বলে। এতে করে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা বাড়ে। এ কারণে ত্রাণ নিয়ে, খাদ্য সহযোগিতা নিয়ে সোহেল ছুটে গেছেন অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে। তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে যে খাদ্য সহযোগিতা পেয়েছেন সেগুলো তার এলাকার অসহায় মানুষের জন্য সঠিক ভাবে বিতরন করেছেন। এছাড়া ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের নিকট থেকে যে খাদ্যসহায়তা পেয়েছেন যেগুলো তিনি পৌঁছে দিয়েছেন গরিব অসহায় মানুষের ঘরে।

তিনি আরো বলেন, সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা যা পাচ্ছি, এবং নিজের তহবিল থেকে যা সম্ভব হচ্ছে-তা নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। প্রকৃত অভাবি যারা তারা যেন বঞ্চিত না হয়। সঠিকভাবে সাহায্য-সহযোগিতা পায় সে চেষ্টা করে যাচ্ছি। করোনার কারনে অভাবি মানুষের সংখ্যাও অনেক, তবুও বর্তমান সময় নিয়ে খুব একটা চিন্তা করছি না। আমার চিন্তা করোনা পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙে পড়লে তখন কি করবো, সেটা নিয়ে। তখন তো চারদিকে হাহাকার পড়ে যাবে। বর্তমান যে পরিস্থিতি বিরাজমান, তাতে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজন হয়তো মিটছে। কিন্তু করোনার কারণে সৃষ্ট এই পরিস্থিতি যদি আরো দীর্ঘায়িত হয় তাহলে দেখা যাবে প্রকৃত সমস্যা। তখন অভাবী মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাবে দেখা দেবে হাহাকার। ওই সময়ের পরিস্থিতি সামাল দেয়াই হবে সবচেয়ে কঠিন।

এছাড়াও তিনি নিজস্ব তহবিল থেকে নিয়মিত খাদ্য সহযোগিতা করে যাচ্ছেন অসহায়দের মাঝে। কি পরিমাণ ব্যক্তিগত তহবিল থেকে মানুষকে সহযোগিতা করছেন সে হিসাবও রাখতে পারেননি।
হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন উপজেলার এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। প্রতিটি ইউনিয়ন, গ্রাম, পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজারে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিধি মেনে সুস্থ থাকার জন্য সবার কাছেই আহ্বান জানাচ্ছেন। যেন করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে না পারে। তবুও মানুষ সচেতন না হলে তো কিছুই করার নেই। তিনি উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের কাছে আহ্বান জানান, সরকারের নির্দেশ মেনে ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন। অতি প্রয়োজন না হলে ঘর থেকে বের হওয়ার দরকার নেই।
এসব ছাড়াও উপজেলার বিত্তবান, দানশীলদের মানুষদেরও আহবান জানান করোনাকালীন সময়ে লকডাউনে যে সমস্থ নি¤œ আয়ের মানুষ গৃহে অবস্থান করছেন তাদের পাশে দাড়ানোর জন্য।

উল্লেখ গত এপ্রিল মাসের ২৫ তারিখে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্ট্যাফ নার্স রাজিয়া সুলতানা (কোভিন-১৯ পজেটিভ) করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে জাহাঙ্গীর হোসেন সোহেল তার বাসার নিকটে যেয়ে পুষ্টি ও ভিটামিন সি জাতীয় ফল কিনে বাসায় দেওয়া সহ সকল প্রকার সহযোগীতা করেছেন। এবং তাকে যেন কেউ অবহেলা না করে তার জন্য প্রতিবেশীদের পরামর্শ দিয়েছেন। পরবর্তিতে ঐ নার্সের ২ টা রিপোর্টে (কোভিন-১৯ নেগেটিভ আসে) করোনা মুক্ত হন। সে পর্যন্ত জাহাঙ্গীর হোসেন তার খোজ খবর নিয়েছেন। এছাড়া শহরে যে সমস্ত নৈশপ্রহরীর কাজে নিয়োজিত আছেন তাদের মাঝে পারসোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) বিতরনসহ খাদ্য সামগ্রী বিতরন অব্যহত রেখেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Shares