মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৩:০৪ অপরাহ্ন

জুয়েলের জীবন গেল কোরআন অবমাননার গুজবে

মোঃ বাদশা মিয়া, লালমনিরহাট

পাটগ্রামে পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ কুরআন অবমাননার অভিযোগের ঘটনায় পিটিয়ে ও পুড়িয়ে মারার বিষয়টি রহস্যের জন্ম দিয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম মোঃ শহীদুন্নবী জুয়েল(৫০), পিতা- মৃত ওয়াজিদ মিয়া, পীরগঞ্জের ১৫নং ওয়ার্ডের কারিলপুর ইউনিয়নের লালদিঘী গ্রামে বাড়ি। তিনি রংপুরে স্থায়ী ভাবে বসবাস করেন। রংপুর ক্যান্টপাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের লাইব্রেরিয়ান ছিলেন।

আজ ঘটনার বিস্তারিত জানতে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, এ সম্পর্কে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হোসেন আলী অগ্রযাত্রাকে বলেন, আমরা সকলেই নামাজ আদায় করি এবং নামাজ শেষে এ ঘটনার সৃষ্টি হয়। হোসেন ও মসজিদের খাদেম জোবেদ আলী বলেন, নামাজ শেষে নিয়মিতই আমরা শেষে বের হই। গতকালও আমরা ৩/৪ জন মসজিদের ভিতরে থাকাবস্থায় জুয়েল মসজিদের তাঁকে অস্ত্র খোঁজতে থাকে। পরিচয় জানতে চাইলে জুয়েল বলে আমি র‍্যাব। এ মসজিদে অস্ত্র আছে। এভাবে কোরআন শরীফের তাঁকে অস্ত্র খোঁজতে থাকে। এতে নিচের তাঁকে পা দিয়ে দ্বিতীয় তাকে হাটু লাগিয়ে উপরের তাঁকে কি যেন খুজতে থাকে। এতে মসজিদের খাদেম ও ডেকোডোরেটর মালিক হোসেনের সাথে তর্কাতর্কি হয়। এক পর্যায়ে হোসেন জুয়েলকে মারধর করেন।
জুয়েল কোরআন শরীফে পা দিয়েছে কি না জানতে চাইলে খাদেম জোবেদ বলেন, না; কোরআনের পাশে পা দিয়েছে।

এ সম্পর্কে হোসেন আলীকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমাদের সাথে তর্ক করলে আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালি দেয়। এতে আমি তাকে দুটি চর দিয়ে ইউপি সদস্যর নিকট হস্তান্তর করি।

বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, যখন মেম্বার পরিষদে নিয়ে আসে তখন আমি বাইরে অবস্থান করি। বাইরে থাকা কালিন সময়ে আমার সচিব বলে, ইউনিয়ন পরিষদের একটি ঝামেলা হয়েছে আপনি তাড়াতাড়ি আসেন। আমি এখানে এসে দেখি উৎসুক জনতায় ভরপুর। আমি পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্দেশ্যে সবাইকে চুপ থাকতে বলি এবং হাত মাইক দিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার কথা বলি কিন্তু উৎসুক জনতা কোন কথা না শুনে তারা হামলা করতে থাকে। আমি এক পর্যায়ে পাটগ্রাম থানার ওসিকে ফোন করলে তিনি সাথে সাথে এখানে পুলিশ পাঠিয়ে দেন এবং কিছুক্ষণ পরে তিনি নিজেও এখানে উপস্থিত হন। সেই সাথে উপজেলা চেয়ারম্যানও এখানে আসেন।
পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে আমি ইউনিয়ন পরিষদের সকল দরজা জানালা এবং গেট বন্ধ করে দেই।
একপর্যায়ে গ্রিলের গেট লাগিয়ে সবাইকে রক্ষা করার চেষ্টা করি কিন্তু অতি উচ্ছৃঙ্খল কিছু জনগণ আমার ইউনিয়ন পরিষদের উত্তর পাশের গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এলোপাথাড়ি মারতে থাকে। ফলে জুয়েল সেখানটাতেই নিহত হয়।

এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুমন কুমার মোহন্ত বলেন, আমি খবর পাওয়ার সাথে সাথে বুড়িমারীতে অবস্থানরত আমাদের পুলিশ টিম ছিল, তাদেরকে আমি পাঠাই এবং আমি নিজে পাটগ্রাম থেকে রওনা হই। আমি গিয়ে দেখি সেখানে উৎসুক জনতা খুব উচ্ছৃঙ্খল ভাবে হামলা করছে। পরে আমি অনেক চেষ্টা করে তাদেরকে নিয়ে একটি রুমে অবস্থান করি। কিন্তু কোরআন অবমাননার গুজবে সেখানে কয়েক হাজার মানুষ হামলা করে। ফলে আমি সেখানে নিরাপদ না বুঝে পরিষদের ছাদ দিয়ে পাশের বাসার সিড়ি দিয়ে নেমে একজনকে রক্ষা করি।এতে আমি সহ প্রায় ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হই।এমতাবস্থায় অপরজনকে আহত অবস্থায় জুয়েলকে তারা মারতে থাকলে সে ওখানেই নিহত হয়। পরে স্থানীয় জনতা সেখান থেকে টেনে বের করে রাস্তায় নিয়ে আগুনে পুড়ে দেয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ