শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রকাশ্য দিবালোকে সাভার ও আশুলিয়ার ২ যুবক খুন যৌতুকের বলি আনজিলা আক্তার! জামালপুরে ভ্যান চালক শিশু সম্পার পরিবারের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ জাল পাঁচ হরিণ শিকারী আটক করেছে বন বিভাগ জলবদ্ধতা নিরসনে দুই চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে অবৈধ নেটপাটা অপসারণ অপরাধ ডটকমের সাভার প্রতিনিধির মায়ের ইন্তেকাল বগুড়া পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী জনপ্রিয়তার শীর্ষে আমিনুল ফরিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে রেজিস্ট্রি অফিসের অনিয়মের বিরুদ্ধে সনাসের মানববন্ধন মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সাভারে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল

ঝালকাঠির নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারগুলো স্টেডিয়ামে নেয়ার দাবি

মোঃ আবু বকর সিদ্দিক, ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ঝালকাঠিতে পুরো শহর জুড়ে চলছে অঘোষিত লকডাউন। শহরের রাস্তাঘাটে পুলিশ ব্যারিকেড দিলেও থেমে নেই মানুষের যাতায়াত। বাজার করার অজুহাতে অনেকেই বের হচ্ছেন রাস্তাঘাটে। কারণে অকারণে বাড়ছে মানুষের জটলা। বিশেষ করে শহরের কয়েকটি বাজারে একসঙ্গে অনেকজন কেনাকাটা করছেন।

এ পরিস্থিতিতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। শুধু শহরজুড়েই নয়, জেলার অন্য তিনটি উপজেলাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। এ কারণে বাজারগুলোকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন জেলার বাসিন্দারা। এক্ষেতে খোলা মাঠ বা স্টেডিয়ামকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন সচেতন ব্যক্তিরা।

জানা যায়, ঝালকাঠি শহরের মধ্যে দুটি বড় বাজার রয়েছে। এর মধ্যে একটি কালিবাড়ি সড়কে বড়বাজার নামে পরিচিত। অন্যটি সদর হাসপাতালের কাছে চাঁদকাঠি বাজার। এ ছাড়াও ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে বসেছে বাজার। এদিকে নলছিটি শহরে রয়েছে পুরাতন বাজার, রাজাপুরে বাঘড়ি বাজার ও কাঁঠালিয়ায় পাইলট স্কুলের সামনে রয়েছে বাজার। এসব বাজারে মাছ, মাংস, কাঁচামালসহ সবধরনের নিত্যপণ্য বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষের ভিড় লেগেই থাকে বাজারে। অনেকে রাস্তায় বের হওয়ার জন্য হাতে একটি বাজারের ব্যাগ নিয়ে আসে। অনেকেই বাজারে না গিয়ে বিভিন্ন স্থানে আড্ডা দেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভয়ে তারা বাজারের ব্যাগ নিয়ে বের হচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় অন্ততপক্ষে জেলার পাঁচটি বাজারকে বন্ধ করে আলাদা স্থানে নেওয়া হলে সামাজিক দূরত্ব বাজায় রেখে মানুষ কেনাকাটা করতে পারবেন বলে অভিমত দিয়েছেন সচেতন ব্যক্তিরা।

শহরের বাসিন্দা আসিফ ইকবাল বলেন, শহরের মধ্যে একসঙ্গে জড়ো হয়ে এখনো মানুষ বাজার করছে। প্রতিদিন বাজারগুলোতে মানুষের ঢল নামে। নারী-পুরুষ সবাই মিলে কেনাকাটা করছে বাজারে। এখন সময় এসেছে বাজারগুলোকে নির্দিষ্ট একটি খোলা জায়গায় নিয়ে যাওয়ার। আমাদের শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম রয়েছে। বিশাল মাঠ, সেখানে কয়েক হাজার দোকান বসানো সম্ভব।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহসভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিল বলেন, আজকেও বাজারের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় অসংখ্য মানুষকে কেনাকাটা করতে দেখেছি। এসব বাজার এখন বন্ধ ঘোষণা করা উচিত। প্রয়োজনে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের মাঠে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অস্থায়ী বাজার স্থাপন করা যায়।

ঝালকাঠির বড় বাজার কমিটির সভাপতি আবদুল আজিজ বলেন, নির্দেশনা পেলে আমরা বাজার বন্ধ করে দিবো। এ নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

ঝালকাঠির পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন বলেন, আমরা চাচ্ছি বাজারগুলোকে ভাগ দেওয়ার জন্য। প্রয়োজনে একটি খোলা জায়গায় স্থানান্তর করতে। আমাদের স্টেডিয়াম রয়েছে, সেখানে আমরা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে দিব। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত নিতে হবে জেলা প্রশাসনের। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।

ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, আমরা বাজারগুলোকে খোলা স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে বলেছি। তারা সিদ্ধান্ত নিবে কোথায় অস্থায়ী বাজার বসবে। তবে অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ