শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১০:২৭ অপরাহ্ন

টাংগুয়ার হাওরে অবাধে চলছে বৃক্ষ কর্তন

টাইফুন মিয়া, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট ও “মাদার ফিসারিজ” নামে খ্যাত মৎস্য প্রজাতির একমাত্র অভয়ারণ্য স্থান সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার টাংগুয়ার হাওরে অবৈধভাবে চলছে বৃক্ষ কর্তনের মহোৎসব। সারি সারি হিজল করচ শোভিত, পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত টাংগুয়ার হাওরে পাখি, মাছ ও জলজ প্রাণীর এক বিশাল অভয়াশ্রম থাকলেও এসবের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করছেন না দায়িত্বশীলরা।

টাংগুয়ার হাওরে প্রায় ৪টি আনসার ক্যাম্প (মুজরাই, গোলাবাড়ি, রামসিংহপুর, রংসী) থাকলেও নাক ডেকে নিদ্রাচ্ছন্ন সময় পার করছেন হাওর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা আনসার বাহিনীর এসব কর্মকর্তাগণ। যার ফলশ্রুতিতে একদিকে হাওরে চলছে মৎস্য, পাখি, পোনামাছ নিধন। অপরদিকে বন বৃক্ষ উজারকরণের মতো ভয়াবহ নৃশংসতা।

জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলার ভাটির জনপদে অবস্থিত টাংগুয়ার হাওরে প্রতিবছর উজান থেকে ভাগে নেওয়া হাজার হাজার গরুর বিচরণ তান্ডবের ফলে হাওরে নতুন করে কোনো উদ্ভিদ জন্মাতে পারে না। তাও আবার টাংগুয়ার হাওরের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রাম থেকে বন বৃক্ষ খেকো কিছু অসাধু লোক লোকচক্ষুর সম্মুখেই দিনদুপুরে অবাধে হাওরের প্রাকৃতিক ভারসাম্যের চাবি মহা মূল্যবান হিজল করচ ও অন্যান্য বনজ বৃক্ষ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে সময়ে অসময়ে কেটে নিয়ে যাচ্ছে। জ্যৈষ্ঠের সময়কালেও হাওরে পানি প্রবেশ না করায় অবশিষ্ট বনাঞ্চল কেটে নিয়ে সেসব নিজেরা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করছে এবং বিভিন্ন বাজারে বিক্রি আসছে। অথচ তারা বিকল্প জ্বালানী হিসেবে গোবরের ঘসি কিংবা চট ব্যবহার করলেও পারতো। কিন্তু তা না করে অবাধে বনাঞ্চল ধ্বংস করে দিচ্ছে। এহেন কর্মকা-ের ফলে টাংগুয়ার হাওরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়াসহ জীববৈচিত্র্য হারাবে তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল আর প্রকৃতি হবে অর্ধনগ্ন। খোদার অপরুপ কারুকাজে বেষ্টিত এই হাওরটি একসময় লাখো মানুষকে তার সৌন্দর্যে আকৃষ্ট করলেও এখন নৃশংসতার কবলে পড়ে ধর্ষিতার নিথর দেহে পরিণত হয়েছে। যা কারো সুস্থ মস্তিষ্কের ভাবনায় আঘাত হানে।

এ ব্যাপারে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, টাংগুয়ার হাওরের এই বন বৃক্ষ ধ্বংসের ব্যাপারে আমি অবগত না। তবে হাওরের সুরক্ষার স্বার্থে ইতিমধ্যেই আমরা প্রশাসনের সহযোগিতায় সমন্বিত পরিকল্পনা করে হাওর পাড়ের মানুষের জনজীবন ও পরিবেশ বিপর্যয় রোধকল্পে জীববৈচিত্র্য সুরক্ষাসহ হাওরটিকে একটা বড়সড় উন্নয়নের আয়তায় আনতে পরিকল্পনা শুরু করছি।

টাংগুয়ার হাওর রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্বে থাকা কমিউনিস্ট গার্ডের সভাপতি মনির মিয়া বলেন, টাংগুয়ার হাওর তদারকির জন্য বরাবরই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকলেও গত ৪মাস যাবৎ হাওরে ম্যাজিস্ট্রেটের পদশূন্য। যার ফলে আমি হাতেগোনা ৪-৫জন সদস্য নিয়ে পুরো হাওর তদারকি করতে হিমসিম খাচ্ছি। আর হাওরে বন ধ্বংসের বিষয়টি আমার নজরে না আসায় আমি কিছু বলতে পারছি না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ