বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ১০:২৭ অপরাহ্ন

ডাক্তার সংকটে রোগীদের ভোগান্তি নষ্ট হচ্ছে প্রায় কোটি টাকার যন্ত্রপাতি

মাসুম বিল্লাহ, শরনখোলা (বাগেরহাট ) প্রতিনিধি

বাগেরহাটের শরণখোলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট দীর্ঘদিনের। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালটিতে কনসালটেন্ট, মেডিসিন, সার্জারী, গাইনি ও শিশু বিশেষজ্ঞ সহ ১৩ জন চিকিৎসক থাকার কথা কিন্তু সেখানে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সহ মাত্র ৫ জন চিকিৎসক রয়েছেন। বাকি ৮ জন চিকিৎসকের পদ শূন্য।

এছাড়া ওয়ার্ড বয় তিন জন থাকার কথা থাকলেও আছে দুই জন। পরিচ্ছন্নতা কর্মী পাঁচ জনের স্থানে আছে একজন। আয়া নেই ও প্যাথলজিষ্ট নেই। এক্সরে এবং ইসিজি মেশিন নষ্ট। অপারেশন থিয়েটারের (ওটির) যন্ত্রপাতি থাকলেও সেখানে কোনো অপারেশন হয় না। থিয়েটারটি ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হতে যাচ্ছে সরকারের মূল্যবান প্রায় কোটি টাকার যন্ত্রপাতি।

৩মার্চ বুধবার সকাল ১১টার দিকে শরনখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, সরকারী ফি পরিশোধ করে টিকিট সংগ্রহ করার পরে ডাক্তারের সাক্ষাত পেতে অনেক সময় ধরে বর্হিঃবিভাগে অপেক্ষায় রয়েছেন, শ্বাসকষ্ট সহ বুকে ব্যাথা নিয়ে উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন ভোলার পাড় গ্রামের বাসিন্দা আ. মান্নান শিকদার (৭৬), হাত-পা ফুলা নিয়ে কদমতলা গ্রামের বাসিন্দা আ. হামিদ হাওলাদার (৭০) সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় দুই শতাধিক নানা বয়সের রোগী।

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা উপজেলার দক্ষিন রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. বাবুল হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, হাসপাতালে এসে ডাক্তার না পেয়ে রোগীরা বসে থাকেন এবং অনেক সময় ডাক্তার দেখাতে না পেরে আবার বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। শরনখোলা উপজেলায় অনেক সমাজপতি আছে তারা মানুষের মৌলিক সমস্যা নিয়ে কোন কথা বলে না। কিন্তু রাজনৈতিক দলের নেতারা সম্মলিত ভাবে উদ্দ্যেগ নিলে সেবা বঞ্চিত হতো না উপকুলীয় এই অঞ্চলের মানুষ। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতের ব্যাপক উন্নয়ন করায় করোনা দুর্যোগের মতো মহামারীতে সফল হয়েছেন। তাই উন্নয়নমুখী এ সরকারের আমলে হাসপাতালে এসে কাঙ্খিত সেবা না পাওয়াটা অত্যন্ত দুঃখজনক। পার্শবর্তী উপজেলা মোড়েলগঞ্জ হাসপাতালে ১৭ জন ডাক্তার আছে। কিন্তু আমরা শরনখোলাবাাসী কেন সব সময় ডাক্তার সংকটে থাকি তার আসল রহস্য কর্তৃপক্ষের জানানো উচিত।

মহারাজ শেখ (৮৫) জানান, জীবনের শেষ বয়সে ছিন্নমুল অবস্থায় তার দিন কাটছে উপজেলার উত্তর কদমতলা গ্রামের এক ব্যক্তির বাড়ীতে জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় গত দুই দিন ধরে শরনখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসছেন তিনি কিন্তু হাসপাতালে ডাক্তার না থাকার কারনে সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

ডাক্তার সংকটের কথা স্বীকার করে শরনখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্যের (আরএমও) ডা. মো. ফয়সাল আহম্মেদ জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ট্রেনিংয়ে, ডাক্তার নাদিয়া নওরিন ছুটিতে, করোনা পরিস্থিতির জন্য ডা. সিরাজুল ইসলাম র‌্যাব-৬ এর কার্যালয়ে এবং ডা. তরিকুল ইসলাম এখান থেকে বদলী হয়ে গেছেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে মেডিসিন, সার্জারী, গাইনী, শিশু ও এনেস্থিশিয়ার পদে কোন ডাক্তার পোষ্টিং না থাকায় শুন্যের কোঠায় গিয়ে দাড়িয়েছে হাসপাতালের ডাক্তার সংখ্যা। যে কারনে রোগীদের কাঙ্খিত সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। তবে, খুব দ্রুত এ সমস্যা কেটে যাবে বলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ আশ্বস্থ করেছেন।

বাগেরহাট জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. হুমায়ুন কবির জানান, ডাক্তার সংকটের বিষয়টি আমার জানা আছে। তবে, দেশ জুড়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারের সংকট থাকায় ওই পাঁচ পদে কনসালটেন্ট ডাক্তার দেয়া যাচ্ছে না। শরনখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আপতকালীন সংকট উত্তরনের জন্য ইতিমধ্যে উদ্দ্যেগ নেওয়া হয়েছে। আশাকরি শীঘ্রই এ সংকট কেটে যাবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ

Spoken English কোর্স