শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:৩৮ অপরাহ্ন

তালতলীতে করোনা আতঙ্কে জীবন যাপন করছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা

মো.মিজানুর রহমান নাদিম, বরগুনা প্রতিনিধি

দেশব্যাপী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বরগুনা তালতলী উপজেলার ছোটভাইজোড়া গ্রামের অবস্থিত মালিপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং বতীপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা আতঙ্কে জীবন-যাপন করছে।করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে রাতদিন কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন সাংবাদিক সহ পুলিশ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,মালিপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪টি ব্রাকে ৪০টি পরিবার বসবাস করছে। জরাজীর্ণ অবস্থায় অনেক ঘর গুলো পড়ে আছে।আবার জরাজীর্ণ ঘরে অনেক কষ্ট করে জীবন যাপন করছে। চালের উপরে ইট-কাঠ দিয়ে টিন গুলো চাপা দিয়ে রাখছে।কেউ বেড়ায় পলিথিন দিয়ে রাখছে।এছাড়াও পানি সংকট, ভাঙ্গাচুরা নাজুক স্যানিটেশন ব্যবস্থা অনেক খারাপ এবং যোগাযোগের অবস্থা বেহাল।ছেলে-বুড়ো, শিশু, মহিলা ও প্রতিবন্ধী নিয়ে অন্তত শতাধিক সদস্যর বসবাস করছে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে।আশ্রয়ণ প্রকল্পের মানুষের মাঝে চোখমুখে আতঙ্কের ছাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মালিপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মো.হোচেন জানান,আমি একটা হোটেলে কাজ করি।করোনা ভাইরাসের জন্য হোটেলটা বন্ধ করে দিয়েছে এবং তার পাশাপাশি মালিপাড়া স্লুলিজ গেট সংলগ্ন কিছু চায়ের দোকানে টিওবয়েলের পানি দিয়ে কোনো রকম জীবন যাপন করছি।করোনা ভাইরাসের জন্য আতঙ্কে দিন কাটে।

বতীপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো.কামাল বলেন,আমার নিজের কোনো টাকা নেই। আমি কিছু ঋণ নিয়ে একটি চায়ের দোকান চালাই।করোনা ভাইরাসের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল দোকান ছাড়া সব দোকান বন্ধ করে দিয়েছে।তাই করোনা ভাইরাসে জন্য ঘরে থাকতে হলে দোকান চালাবো কি করে।এখন আতঙ্কে জীবন-যাপন করছি।
মালিপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা রিকশাচালক মো.আব্দুল আলিম বলেন,আমি একটি এনজিও থেকে কিছু ঋণ নিয়ে অটোরিকশা ক্রয় করছি।এই অটোরিকশা ক্রয় করে আমার সংসার চলাই।করোনা ভাইরাসের কারনে অটোরিকশায় তেমন যাত্রী পাই না।এখন মনে হচ্ছে করোনার পাশাপাশি আরেক আতঙ্কের নাম এনজিও। অটোরিকশা না চালাতে পারলে এনজিওর টাকা কিভাবে শোধ করব।

মালিপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মোসাঃশাহাবানু (ভিখারি) বলেন,আমার স্বামী অচল অবস্থায় ঘরে পড়ে আছে।আমি মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে ভিক্ষা করে দিনের বেলায় যা নিয়ে আসি সেগুলা দিয়ে কোনো মতে একবেলা দুইজনে খেতে পারি না।এখন
করোনা ভাইরাসের জন্য ঘর থেকে বের হতে পারি না।কারন করোনা ভাইরাসে মানুষের গেলে তারা কোনো ভিক্ষা দেয় না।আর কিছুদিন এভাবে চলতে থাকলে ভাইরাস লাগবে না, এমনিতেই আমাদের না খেয়ে মরতে অইব।

মালিপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা দিনমজুর মো.কবির হোসেন জানান,আমি যখন যা কাজ পাই সেগুলা করে থাকি।কিছুদিন যাবত একটা রাইস মিলে কাজ করছি এখন সে রাইস মিলে কাজ নেই।

করোনা ভয়ে বাহিরে বের হই না।কাজ না পেয়ে বসে থাকতে হয়।খুব কষ্ট করে আতঙ্কের মধ্যে দিন যাপন করছি। এই দুর্যোগকালীন যদি স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি কিংবা সমাজের ভিত্তবানরাও এগিয়ে আসেন তা হলে মনে হয় দু-মুঠো খেয়ে বেচেঁ থাকতে পারব।

মালিপাড়া আশ্রয়ণ কল্পের বাসিন্দা মো.রফিকুল ইসলাম (প্রতিবন্ধী) তার মা বলেন,আমার ছেলে জন্মের থেকেই প্রতিবন্ধী মানুষের বাসায় জিয়ের কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাই।করোনা ভাইরাসের জন্য বাড়ি থেকে বের হতে নিষেধ করছে। এবং আরো বলেন আমি এখন নিরুপায় সরকারি ভাবে আমার ছেলে প্রতিবন্ধী ওর জন্য এখন পর্যন্ত কোনো সংস্থা থেকে সাহায্য সহযোগীতা করে নি এবং এলাকার জনপ্রতিনিধিরা ও এগ্রিয়ে আসেনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সেলিম মিঞা বলেন,উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যায়েক্রমে  ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ