মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন

তাহিরপুরে করোনা অজুহাতে ১ সপ্তাহে সবজির দাম দ্বিগুণ
টাইফুন মিয়া, তাহিরপুর প্রতিনিধি / ১৬৬ ভিউ
সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১

সম্প্রতি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের পাশাপাশি কাঁচা বাজারে সবজির দাম দ্বিগুন বেড়ে যাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাসিন্দারা। করোনা ভাইরাসের অজুহাতে বাড়তি দামের কারণে কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষগুলো আরো বেশি অসহায় হয়ে পড়েছে।

উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও সবজির দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০-৫০ টাকা।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার শ্রীপুর বাজার, বাদাঘাট বাজার, লাউড়েরগড় বাজার, বিন্নাকুলি বাজারসহ কয়েকটি কাঁচা বাজার ঘুরে এমনটা দেখা গেছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, করলা এখন ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ টাকা, গাজর ১২০টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, কচুর মূঁখী ৬০ টাকা, লতা ৩০-৫০ টাকা, ঢেঁড়শ ৪০ টাকা, ঝিঙ্গা ৫০টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০টাকা, পটল ৪০টাকা, ধুন্দল ৪০ টাকা, ৩০ টাকার শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, বেগুন ৪০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, আলু ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা এবং লেবু ও কাঁচ কলার হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কাঁচা মরিচ ও টমেটো বিক্রিতে সর্বোচ্চ রেকর্ড ছাড়িয়েছে। প্রতি কেজি টমেটো ১২০-১৪০ টাকা ও কাঁচামরিচ ১২০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে উপজেলার বড় বড় বাজার ছাড়িয়ে গ্রামের অস্থায়ী হাটবাজার গুলোতেও সব পণ্যের দাম বেড়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাজারে প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে। যথাযথ মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় কাচাঁ বাজার নিয়ন্ত্রণকারী ও অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

তারা আরো জানান, এমনিতে করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষের দিন কাটছে অনেক কষ্টে। তার উপর দ্রব্যমূল্যের দাম অসহনীয় থাকায় যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। তাছাড়া দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে অনেকে ফাঁকা পকেটে দিনাতিপাত করছে। এছাড়াও সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় চাহিদামতো সবজি কিনতে পারছেন না তারা।

সবজির দাম এভাবে হুরহুর করে বেড়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে কাঁচামাল ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর, শাহ আলম, জনি সিং, দ্বীন ইসলাম ও সামায়ূন কবির জানান, করোনা আতঙ্ক, ঘুর্ণিঝড় আম্ফান, বন্যা অতিবৃষ্টি ইত্যাদি প্রতিকূলতার কারণে আমরা নিজেরাই ক্রেতাদের চাহিদানুযায়ী সবজি আমদানি করতে পারছি না। আগে স্থানীয় এলাকার গ্রাম্য চাষীদের উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি পাইকারী কিনে বিক্রি করায় আমরা বাজারে আগত ক্রেতাদের চাহিদা অনেকটা পূরণ করতে পারতাম। এখন বন্যা ও গত দুই সপ্তাহের ভারী বৃষ্টির কারণে ক্ষেতে পানি জমে তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে ওই সব এলাকা থেকে বর্তমানে কোন কাঁচামাল আসছে না। যার ফলে ভৈরভ, মোহনগঞ্জ ও সিলেট থেকে অতি দামে সবজি আমদানি করতে হচ্ছে। এ কারণে বিক্রিও করতে হয় বেশি দামে।

বাদাঘাট বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী মোঃ মুসা মিয়া বলেন, ভৈরভ, মোহনগঞ্জ ও সিলেটের কাঁচামালের আড়ৎসমূহে সব ধরনের সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে আমরা নিজেরাই বেশী দামে কিনে এনে আবার খুচরা বাজারে সরবরাহ করছি। এজন্যই মূলত বাজারে সবজি কিছুটা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

শ্রীপুর বাজারের কাচামাল ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির জানান, আমরা ভাটির জনপদের বাসিন্দা হওয়ার কারণে স্থানীয় এলাকায় কোন সবজি চাষ হয় করা হয় না। যার ফলে সারা বছরই আমরা সবজি বাহির থেকে আমদানি করি। ইদানীং করোনা ভাইরাসের কারণে পণ্য পরিবহন খরচসহ অন্যান্য খাতেও ব্যয় বেড়েছে। তাই সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে।

বাদাঘাট বাজারের মা ফার্মেসীর ডা. মিলাদুর রহমান বলেন, হুট করে বাজারে সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় আমরা ক্রেতারা বিপাকে পড়ে গেলাম। এতে করে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে আছে নিম্ন আয়ের মানুষেরা।

 

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Shares