বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন

তাহিরপুরে বিকাশ এজেন্ট তপন পালের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

টাইফুন মিয়া, তাহিরপুর প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের শ্রীপুর বাজারে বিকাশ এজেন্ট গ্রাহক ‘এমএস গুরুদেব ভান্ডার’ এর পরিচালক তপন পাল (২৬) টাকা উত্তোলনে অতিরিক্ত টাকা নেন এমন অভিযোগ করেছে স্থানীয় শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য বিকাশ একাউন্ট গ্রাহকরা।

তাদের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন, নতুন বিকাশ একাউন্ট খুলতে ও মোবাইল সিম রিপ্লেস করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিকাশ একাউন্ট ও অন্যান্য একাউন্ট খুলতে নিচ্ছে ৫০-১০০ শ টাকা, মোবাইল সিম রিপ্লেস করতে নিচ্ছে ৩০০ টাকা ও শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন করলে হাজারে নিচ্ছে ১০০ টাকা এবং মিনিট কার্ড, টাকার কার্ড ক্রয় করতে অতিরিক্ত মূল্য নিচ্ছে ‘এমএস গুরুদেব ভান্ডার’ এর পরিচালক তপন পাল।

জানা যায়, অতিরিক্ত টাকা না দিলে গ্রাহকেরা টাকা উত্তোলন করতে পারেন না। অন্য বাজারে গিয়ে টাকা উত্তোলন করতে গেলে ৫০/৬০ টাকা খরচ হয়। তাই বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছে গ্রাহকেরা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

উপজেলার নয়াবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণি পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী জানায়, আমরা গরিব বলেই সরকার আমাদেরকে উপবৃত্তি দেয়। আর উপবৃত্তির টাকা তুলতে গেলে বিকাশ এজেন্ট গ্রাহকদের অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। আমি গত দু’দিন আগে উপবৃত্তির ৩০০ টাকা তপন পালের বিকাশ এজেন্ট নাম্বারে ক্যাশ আউট করি। তিনি আমার ৩০০ টাকা থেকে ২০ টাকা রেখে ২৮০ টাকা আমার হাতে ধরিয়ে দেয়।

একই ধরণের অভিযোগ করে খাইরুল ইসলাম বলেন, হারানো সিম রিপ্লেস করে ৩০০ টাকা ও সিমে থাকা উপবৃত্তির ১২০০ টাকা ক্যাশ আউট করে ১০০ টাকা নেন বিকাশ এজেন্ট গ্রাহক ‘এমএস গুরুদেব ভান্ডার’ এর পরিচালক তপন পাল। তপন পালের মতো আরও অনেক বিকাশ এজেন্টদের অনিয়মের শিকার হচ্ছেন শত শত মানুষ। সাধারণ মানুষদের সরলতার সুযোগ নিয়ে অনিয়ম-দূর্নীতি করে আসছে এসব বিকাশ এজেন্ট গ্রাহকরা। যেন দেখার কেউ নেই।

ভুক্তভোগী হুমায়ুন, হাবিবুর, শফিকসহ আরো অনেকেই বিকাশ এজেন্ট তপন পাল, রফিকুল, সুহেল ও নজরুলের এসব অনিয়মের বিয়ষটি সংবাদকর্মীদের কাছে তুলে ধরেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তপন পাল বলেন, এভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা রাখার কোন নিয়ম না থাকলেও। আমি উপবৃত্তির ৩০০ টাকা থেকে ২০-৩০ টাকা নেই। সিম রিপ্লেস করলে ২৫০-৩০০ টাকা নেই। ১০ টাকার মিনিট কার্ড ১২ টাকায় বিক্রি করি। অন্যথায় আমার পোষায় না।

শ্রীপুর বাজারের ‘মিজান টেলিকম’ এর পরিচালক শাবাল নূর বলেন, আমরা বিকাশ একাউন্ট ফ্রি খুলে দিচ্ছি। বিকাশ বা অন্যান্য একাউন্ট খুলতেও কোন টাকা লাগে না। উপবৃত্তির টাকা ক্যাশ আউট করলে কাস্টমারের একাউন্ট থেকে খরচ সরারসি কেটে নেওয়া হয়। এজেন্ট গ্রাহকদের কোন টাকা দেওয়া লাগে না। আর যদিও কেউ টাকা নেয় তা হবে অনিয়ম-দূর্নীতি।

এ বিষয়ে জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোদাচ্ছির আলম সুবল বলেন, বিকাশ এজেন্ট এর দোকানীরা শিক্ষার্থীসহ অন্যান্যদের সাথে যে অনিয়ম-দূর্নীতি করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।

এ ব্যাপারে তাহিরপুর থানার ওসি মোঃ আতিকুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা প্রমাণিত হলে এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ

Spoken English কোর্স