শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:০২ অপরাহ্ন

তাহিরপুরে ২৫ বছরেও সড়কের দূর্ভোগ লাঘব হয়নি

টাইফুন মিয়া, তাহিরপুর প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কে র্দীঘ ২৫বছরেও সড়কে দূর্ভোগের শেষ হয়নি। সড়কে স্থানে স্থানে গর্ত। গর্তের কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ।

এলজিইডি একাধিকবার সড়কটি যানচলাচলে উপযোগী করার লক্ষে টেন্ডার দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বছরে বছরে শুধু গচ্ছা গেছে সরকারের কোটি কোটি টাকা। বর্তমানে এই সড়কটি এখন মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। এই অবস্থায় চরম দূর্ভোগের মাঝেই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে ৪টি ইউনিয়নের দু লক্ষাধিক মানুষ। ফলে সবার মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলাটি অর্থনৈতিক ও পর্যটন সমৃদ্ধ হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রান কেন্দ্র বাদাঘাট ইউনিয়নের বাদাঘাট বাজার ছাড়াও ৪টি ইউনিয়নের লোকজন বাদাঘাট বাজার হয়ে উপজেলার ৩টি শুল্ক ষ্টেশনের ব্যবসায়ী। শিমুল বাগান, যাদুকাটা নদী, বারেকটিলা, শহীদ সিরাজ লেকসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে যাতায়ত করতে হলে তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কেই মূল সড়ক।

এই ৮কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৩কিলোমিটার সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে এই সড়ককের হুসনারঘাট থেকে পাতারগাঁও ১কিলোমিটার সড়ক যেন মরণ ফাঁদে পরিনত হযেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর(এলজিইডি) তাহিরপুর উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৩ সালে এলজিইডি তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কটি নির্মাণের উদ্দ্যোগ গ্রহণ করে মাটির সড়ক তৈরী করা হয়। পরে বিভিন্ন চড়াই উতরাই পেরিয়ে ২০১১-১২ অর্থ বছর পযর্ন্ত সড়কের ৬কিলোমিটার কাজ পাকা করা হয়েছে।

এরপর গত ২০১৮সালের শুরুর দিকে এই সড়কটিতে তিনটি ভাগ করে মেরামতের জন্য প্রায় ৪কোটি টাকা বরাদ্ধ দেয় সরকার। এই সড়কের বৌলাই নদী উপর নির্মিত ব্রীজ থেকে সূর্যেরগাঁও পর্যন্ত ৭৫০মিটার ও টাকাটুকিয়া ব্রীজে দুই পাশে মিলিয়ে বল্ক দিয়ে ২৫ফুট সড়কের কাজ হয়েছে। তাও নাম মাত্র। এখন কাজ করছে নিন্মমানের বালু ও পাথর দিয়ে। সড়কের দু পাশে দেওয়া হয়েছে মরিচা পরা টিন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভাঙ্গন অংশে (হুসনারঘাট,পাতারগাঁও) কোন কাজ হয় নি।

এই বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর(এলজিইডি) সূত্রে আরো জানা যায়, এই সড়কটি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্পের অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। এখনও অনুমোদন হয় নি। অনুমোদন হলে এ সড়ক কাজ শুরু হবে।

তাহিরপুর উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, তাহিরপুর বাদাঘাট সড়কটির পাতারগঁও নামক স্থান হতে হুসনার ঘাট পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেঙে যাওয়া সড়কের একাধিক স্থানে গর্ত দেখা দিয়েছে সেই সাথে সড়কে কাঁদা জমেছে। আমরা চেস্টা করছি সড়কটি মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করার জন্য।

এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারীরা হোসাইন, শফিকুল মতিউর, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ অনেকেই জানান, ভাঙ্গাচূড়া সড়কে করোনা ভাইরাসের মধ্যেই পিকআপ, ঠেলাগাড়ী, মটর সাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে চরম দূর্ভোগ নিয়ে। কিন্তু এ সড়কের ৮কিলোমিটারের মধ্যে ৩কিলোমিটার সড়কেই এখন ঝুঁকিপূর্ণ। তবে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হুসনারঘাট থেকে পাতারগাঁও ১কিলোমিটার সড়কে। প্রতিদিনেই দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে চলাচলকারী যানবাহন ও মানুষজন। এখন চলাচল এক প্রকার বন্ধই রয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জী জানান, গুরুত্বপূর্ণ তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কটির স্থানে স্থানে ভাঙ্গনের কারণে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করেছে। জনদূর্ভোগ লাগবে গুরুত্ব সহকারে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে জনসাধারন চরম দূর্ভোগ নিয়ে চলাচল করছে। আমি আমার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এই দুর্ভোগ লাগব করতে। আর আশা করি আগামী বছর এই দূর্ভোগ লাগব করতে পারবো।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ