সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ১১:৫৪ অপরাহ্ন

ত্রাণে অনিয়মের অভিযোগ, তথ্য ফাঁসকারীকে প্রাণনাশের হুমকি

টাইফুন মিয়া, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজার ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য মিজানুর রহমানে সরকারি ত্রাণের বিনিময়ে হতদরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন বলে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, ইউপি সদস্যের এহেন কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ফাঁস করে দেওয়ায় একই উপজেলার দুই ব্যক্তিকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় সরকারি ত্রাণ নিয়ে জালিয়াতিকারী ওই দূর্নীতিবাজ মিজানুর রহমান (৪৮) ও তাঁর সহযোগীরা।

অভিযুক্ত সহযোগীরা হলেন, অত্র উপজেলার সাচনা বাজার ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের মৃত আসকর আলীর ছেলে সাজুর রহমান(৩০), সিদ্দিকুর রহমান (২৮), ফয়সল আহমেদ(২৬) ও গোলাম মোস্তফার ছেলে নূরে আলম (৩৮), সেরু আলম(৩৫) প্রমুখ।

জানা যায়, করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশ তথা গোটাবিস্ব যখন মহামারিতে আক্রান্ত তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গরিব-অসহায়, কর্মহীন-বেকার ও হতদরিদ্রদের মানুষদের ত্রাণ দেয়ার মহৎ উদ্যোগ গ্রহন করেন । আর এই মহৎ কাজকে কলঙ্কিত করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করে গ্রামের কিছু সংখ্যক লোকের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে গোটা কয়েক জনকে ত্রাণ দিয়ে বাকি সবাইকে ফিরিয়ে দেন অভিযোগে উঠে আসা ইউপি সদস্য।

সরকারি ত্রাণ পেতে টাকা দিয়েছেন এমন ব্যক্তিরা হলেন- অত্র উপজেলার রামনগর গ্রামের রইস উদ্দিন, পিতা মৃত আলকাছ উদ্দিন। জাহাঙ্গীর আলম, পিতাঃ রমিজ আলী। রুহুল আমিন, পিতাঃ মৃত মহিবুর আলম।আসাদুজ্জামান, পিতাঃ মৃত আতাউর রহমান ।নাসির উদ্দিন, পিতাঃ মৃত মস্রব আলী। রসিদ, পিতাঃ মৃত কলমদর প্রমুখ।

জামালগঞ্জ উপজেলার রামনগর গ্রামের ফয়জুল আলমের ছেলে অভিযোগকারী নাজমুল ইসলাম বলেন, আমি দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তাঁর প্রতিবাদ করি । যার কারণে আমার উপর চড়াও হয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় । এর কয়েকদিন পরে আমার দাদা সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন মর্মে ফেইসবুকে দাদার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্র এবং বর্তমান মেম্বারের কর্মকান্ডের চিত্র তুলে ধরে তাতে পার্থক্য নির্ণয় করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরি। যার কারণে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে থাকে ওই মেম্বার। পরদিন রামনগর বাজারের ‘মা ফার্মেসী’তে ঔষধ ক্রয় করতে গেলে ফার্মেসীর মালিক গোলাম আজম সহ আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান। আমি গালাগালি করতে বারণ করলে তাঁর ভাইয়েরাসহ তাঁর দলবলকে নির্দেশ দেন আমাকে মেরে ফেলার । পরক্ষণে আমি কোনোরকম প্রাণ ভয়ে পালিয়ে যাই এবং পরদিন ৫ই মে, ২০২০ ইং তারিখে আমার আত্মরক্ষার নিশ্চয়তার জন্য জামালগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি । এতেও কান্ত হয়ননি তিনি। থানায় অভিযোগের পরের দিন তাঁর আরেক সহযোগী কথিত নামধারী সাংবাদিক সেরে আলম সেরু জনস্মুখে আমাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং সর্বশেষ আজ মিজানুর রহমানের ভাই আমার বাড়িতে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছেন ।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানের কাছে জানতে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি মিথ্যা এবং বানোয়াট।

জামালগঞ্জ থানার ওসি মোঃ সাইফুল আলম বলেন, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা তদন্ত চলমান রয়েছে। এর সত্যতা প্রমাণিত হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ

Spoken English কোর্স

Shares