মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:০৯ অপরাহ্ন

ধর্ষণ মামলার ১৯ দিনেও গ্রেফতার নেই, বাদীর সংবাদ সম্মেলন

মো.মিজানুর রহমান নাদিম, বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনার তালতলীতে ত্রাণ দেওয়ার নামে ধর্ষক ইউপি সদস্য আনোয়ার খান কে মামলার ১৯ দিনেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে মামলার বাদীকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন বাদী। ধর্ষণের মেডিকেল রির্পোট না আসা পর্যন্ত আসামীকে গ্রেফতার করা যাবে না বলে জানান ওসি কামরুজ্জামান মিয়া।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়ের পূর্ব বাদুরগাছা এলাকার করোনা ভাইরাসের কারনে দিনমজুর সোবাহান কোনো কাজকর্ম না করতে পেরে বেকার হয়ে পড়ে তার পরিবারটি। এর জন্য তার পরিবার খাদ্য সংঙ্কটে পড়ি। পরে বিষয়েটি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে গত ৫ এপ্রিল সোমবার জানালে তিনি তাদের নাম সরকারী সহায়তার তালিকাভুক্ত করার জন্য ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামীগের সভাপতি আনোয়ার খানের বাড়িতে যেতে বলেন । ৬ এপ্রিল মঙ্গালবার বিকেল ৫টার দিকে ঐ ইউপি সদস্যর বাড়িতে গেলে এই সুযোগে আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

এ সময় আমার স্বামী ইস্রাফিল ইউপি সদস্যর বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি দেখে ফেলে। ইস্রাফিল এর প্রতিবাদ করলে আসামীরা আমার স্বামীকে তাদের নিয়ে মারধর করার পরে তাকে আটক করে রাখেন। এর পরে আমি উপায় না পেয়ে গত ৯ এপ্রিল তালতলী থানায় এই ধর্ষনের বিচার চেয়ে ৯/১ ধারায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণের মামলা ধায়ের করি।যার মামলা নং৪/৪১। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দ্বায়িত্ব পায় ওসি তদন্ত ফরিদুল ইসলাম । কিন্তু সে আমাদের কোনো ধরনে সহযোগিতা না করে উল্টা ধর্ষক আনোয়ার খানের পক্ষ নেয়। এদিকে ইউপি সদস্যকে ধর্ষণ মামলার ১৯ দিনেও গ্রেফতার না করার বাদী আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বনে জানান তারা।আর ধর্ষক আনোয়ার প্রকাশ্যে ঘুড়েও বেড়াচ্ছে। আর বিভিন্ন মাধ্যেমে হুমকি দিয়ে বলে বেড়াচ্ছে ইউপি সদস্য এই মামলায় আমার কিছু হবে না। আমি মামলা টাকা দিয়ে ফাইনাল দিয়ে দিবো। তোদের তো টাকা পয়সা নেই তোরা যা পারো করিস। ধর্ষক ইউপি সদস্য আনোয়ার খান স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদেও কার্যক্রমে তাকে দেখা যায় বলেন জানান ভুক্তভোগি পরিবারটি।

এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা(ওসি তদন্ত) ফরিদুল ইসলাম বিবাদীর পক্ষ নিয়ে মামলার ফাইনাল দেওয়ার কথা বলেন।আর তোদের অজীবন জেলের ভাত খাওয়াবো। স্বামী ইস্রাফিলকে ভয় দেখিয়ে কোর্টে মিথ্যা জবান বন্ধী দেওয়ার অভিযোগও করেন বাদী।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা(ওসি তদন্ত) ফরিদুল ইসলাম বলেন,আমি বাদীকে কোনো প্রকার হুমকি দেয়নি। আর আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আসামী প্রকাশে ঘুড়ে বেড়ানোর বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন আসামীকে ধরতে গেলে সে পালিয়ে থাকে। যদি সে প্রকাশ্যে ঘুড়ে বেড়ায় তাহলে বাদীর লোকজন ধরে আমাদের খবর দিলে আমরা গ্রেফতার করবো।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান মিয়া বলেন,ধর্ষণের মেডিকেল রির্পোট আসলে পর্যালোচনা করে দেখার পরে আসামীকে গ্রেফতার করা হবে। আর বাদীকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা। মামলা তদন্ত কাজ চলমান আছে। তদন্ত করার পরে দেখা যাবে এই মামলার কতটুকু সতত্যা আছে।

এবিষয়ে আমতলী-তালতলী সার্কেল (এএসপি) সৈয়দ রবিউল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত কাজে মেডিকেল রির্পোট নিয়ে কিছুটা কনফিউস থাকে। আর তদন্ত করে দেখার পরে ইউপি সদস্য আনোয়ার খান অপরাধী হয় তাকে গ্রেফতার করা হবে। বাদীকে কোনো প্রকার ভয় দেখানো যাবে না।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ