বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন

নওগাঁর আন্দইল বিলে মাছ নিধন করে পুকুর খননের অভিযোগ

রহিদুল ইসলাম রাইপ, নওগাঁ প্রনিতিধি

নওগাঁর মান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আন্দইল বিলে উপজেলার শাঁটিল গ্রামের সূর্যকান্তের ছেলে উľ¡ল কুমারের নেতৃত্বে খনন করা হচ্ছে পুকুর। কতিপয় ব্যক্তিগণ বিষ প্রয়োগে করে কোটি টাকার মাছ নিধন করে শত শত বিঘা সরকারি খাস জলাশয় অবৈধ ভাবে দখল করে ভেঁকু মেশিন দিয়ে পুকুর খনন করছে। এতে করে মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ ধরতে না পারায় কয়েক হাজার মৎস্যজীবীরা পরিবার পরিজন নিয়ে পথে বসতে চলেছে।

স্থানীয়রা জানান, জেলার বৃহত্তর মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কয়েক হাজার বিঘা জমি নিয়ে অবস্থিত আন্দইল বিল। শত বছর ধরে বিলের আশেপাশের প্রায় তিনটি মৎস্য সমবায় সমিতির প্রায় ৩ হাজার সরকারি নিবন্ধনধারী মৎস্যজীবীরা এই মুক্ত জলাশয় থেকে বছরের ৬মাস মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।

স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, বছর খানেক থেকে কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি মৎস্যজীবীদের বাধা উপেক্ষা করে বিলের মাঝে অবৈধ ভাবে জবরদখল করে প্রায় শতাধিক বিঘা জমিতে বিশাল আকারে একাধিক পুকুর খনন করে। নতুন করে অবৈধ ভাবে পুকুর খনন কাজে মৎস্যজীবীরা বাধা দিলে তারা তাদের নানা রকমের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় মৎস্যজীবীদের ।

অবৈধ ভাবে পুকুর খনন বন্ধে মৎস্য সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে সম্প্রতি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তারপরেও প্রভাবশালীরা পুনরায় নতুন করে কোটি কোটি টাকার প্রাকৃতিক মাছ নিধন করে পুকুর খনন শুরু করে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের বাধার মুখে তারা পুকুর খনন বন্ধ করে দেয়।

বিলটিতে নতুন করে পুকুর খনন ও খনন করা পুকুর উচ্ছেদ করে বিলকে পুনরায় মুক্ত জলাশয়ে পরিনত করার দাবীতে শালদহ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, পলাশবাড়ী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি, পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের ভারশোঁ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি ও ভারশোঁ একতা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ আন্দইল বিলে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে মঙ্গলবার মানববন্ধন করে।

শালদহ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারন সম্পাদক নির্মল কুমার হালদার বলেন, সরকারের খাস খতিয়ান ভুক্ত আন্দইল বিলের উনĄুক্ত জলাশয়ে আমরা বাপ-দাদার আমল থেকে বর্ষা মৌসুমে মৎস্য আহরণ করে প্রায় ৩হাজার পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। হঠাৎ করেই উপজেলার শাঁটইল গ্রামের স‚র্যকান্তের ছেলে উľ¡ল কুমার বেআইনি ভাবে ভেঁকু মেশিন দিয়ে জোর প‚র্বক এই বিলের মাঝে বিশাল দীঘি খনন করছে।

পলাশবাড়ি গ্রামের মৎস্যজীবী কৃষ্ণ, হরিনাথসহ অনেকেই বলেন এভাবে যদি উľ¡ল কুমার বিলের মাঝে বিশাল দীঘি খননের কাজ করতেই থাকে তাহলে আমরা পরিবার নিয়ে না খেয়ে মারা যাবো। এটা উনĄুক্ত জলাশয় এটা উনĄুক্ত হিসেবেই রাখতে হবে। তাই আমাদের দাবি এখানে কোন দীঘি খনন করা যাবে না। এছাড়াও বাধা দিতে গেলেই প্রভাবশালীরা বিভিনś রকমের হুমকি-ধামকী প্রদান করা অব্যাহত রেখেছে।

এবিষয়ে উľ¡ল কুমার বলেন, আমি জমির প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকে জমি গুলো ১০বছরের জন্য লিজ নিয়ে এতে পুকুর খনন করছি। মৎস্য জীবিরা অন্যায় ভাবে আমার কাজে বাধা দিচ্ছে। তিনি বলেন এবিষয়ে হাইকোর্টের একটি রায় আছে আমার পক্ষে।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন আমার কাছে অভিযোগ আসার পরই আমি বিলে পুকুর খনন কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। এছাড়াও হাইকোর্টে চলা মামলার কাগজপত্রাদি আমি পেয়েছি। পরবর্তিতে সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও কয়েক হাজার জেলেদের জীবন-জীবিকা নিশ্চিতকরণে অচিরেই এই বিলে সকল ধরনের কৃত্রিম পুকুর খননের কাজ চিরস্থায়ীভাবে বন্ধ করা হোক এমনটাই দাবী স্থানীয়দের।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ