সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন

নওগাঁয় নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে ইফতার পৌঁছে দিচ্ছে পুলিশ

রহিদুল ইসলাম রাইপ, নওগাঁ প্রতিনিধি

দেশে করোনা ভাইরাসের কারণে থমকে গেছে সবকিছু। বেকার ও কর্মহীন হয়ে পড়েছে সমাজের প্রতিটি স্তরেরর খেটে-খাওয়া মানুষ। সরকারের পাশাপাশি এই সব খেটে-খাওয়া মানুষদের পাশে সহযোগিতার বার্তা নিয়ে পাশে দাড়িয়েছে বিভিন্ন সংগঠন, রাজনৈতিক ব্যক্তি, বিভিন্ন বাহিনী ও সমাজসেবকরা।

নওগাঁর খেটে-খাওয়া এই সব মানুষদের পাশে দাড়িয়ে দৃষ্টান্তর স্থাপন করেছে নওগাঁ জেলা পুলিশ। ইফতারের আগে খাবারের প্যাকেট নিয়ে নওগাঁ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছুটে বেড়াচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। ছিন্নমূল, ভাসমান ও নিম্ন আয়ের মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছেন ইফতারের প্যাকেট। রমজানের প্রথম দিন থেকে এভাবেই অসহায় মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করে চলেছেন নওগাঁ পুলিশের সদস্যরা।

নওগাঁ জেলা পুলিশের উদ্যোগে প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ছিন্নমূল, ভাসমান ও নিম্ন আয়ের ৩০০ মানুষের মধ্যে ইফতার প্যাকেট বিতরণ করা হচ্ছে। করোনার সংকটে দিশেহারা অসহায় মানুষকে সহায়তায় পুলিশের এই দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

নওগাঁ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়ার নির্দেশে নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহরাওয়ার্দী হোসেন সহকর্মীদের নিয়ে রমজানের প্রথম দিন থেকে অসহায় মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণের কাজটি করছেন।

ইফতার করার কিছু সময় আগে শহরের মুক্তির মোড় এলাকায় পুলিশের একটি ভ্যান থেকে ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের কিছু মানুষের মাঝে ইফতারের প্যাকেট বিতরণ করছিলেন পুলিশের কিছু সদস্য। সেখানে কথা হয় নওগাঁ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফয়সান বিল আহসানের সঙ্গে।

তিনি বলেন, এসপি স্যারের নির্দেশে আমরা এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। রমজানের প্রথম দিন থেকে নওগাঁ শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে অলিগলি ও ফুটপাতে অবস্থান করা অসহায়, ছিন্নমূল, শারীরিক প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক, রিকশাচালক ও শ্রমজীবী মানুষের মাঝে ইফতারের প্যাকেট তুলি দিচ্ছি। এসপি স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক রমজানের বাকি দিনগুলোতেও এভাবে আমরা কাজ চালিয়ে যাব।

মুক্তির মোড়ে পুলিশের হাত থেকে ইফতারের প্যাকেট নিয়ে ফিরছিলেন ষাটার্ধ্বো মরজিনা বেগম। তিনি শহরের মুক্তির মোড়ে পিঠা বিক্রি করে জীবন চালাতেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে গত প্রায় দুই মাস ধরে তাঁর পিঠা বিক্রির দোকান বন্ধ রয়েছে। বয়োজ্যেষ্ঠ এই নারী নিজের বয়স কত তা বলতে পারলেন না। তিনি বলেন, বেশিরভাগ দিনই পানি আর একটু মুড়ি খ্যায়াই ইফতার করি। সারা দিন রোজা থ্যাইকা একটু ভালো খাবার পাইলে আত্মাটা শান্তি পায়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়ার্দী হোসেন বলেন, খেজুর, মুড়ি, ছোলা, বেগুনি, জিলাপি ও বিভিন্ন ধরণের ফল কিনে সেগুলোকে প্যাকেট করার কর্মযজ্ঞ চলে নওগাঁ থানায়। প্রতিদিন বিকেল তিনটা থেকে থানার পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তারা খাবারগুলো প্যাকেটজাত করতে হাত লাগায়। আসর নামাজের পর ইফতারের প্যাকেটগুলো একটি পুলিশ ভ্যানে তুলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে ছিন্নমূল, ভাসমান, রিকশাওয়ালাসহ নিম্ন আয়ের মানুষের হাতে সেগুলো বিতরণ করা হয়।

তিনি বলেন, অসহায় ক্ষুধার্ত মানুষের হাতে খাবার তুলে দেওয়ার আনন্দটাই অন্যরকম। সারাদিন পুলিশের পেশাগত কাজের পাশাপাশি ইফতার বিতরণের কাজটি করতে কোনো কষ্ট হয় না। বরং একটা তৃপ্তি পাই। অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরাও আনন্দ নিয়ে এই কাজটি করছেন।

পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, দেশে বর্তমানে একটা দুর্যোগ পরিস্থিতি চলছে। এই পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। পুলিশের প্রশাসনের কাছে ত্রাণের কোনো ফান্ড না থাকলেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

অনেক পুলিশ কর্মকর্তা নিজের পরিবার খরচ কমিয়ে এবং বেতনের একটা অংশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে মানবিক সহায়তা ফান্ডে জমা দিচ্ছেন। আমি নিজে এবার আমার বেতনের একটা বড় অংশের টাকা মানবিক ফান্ডে জমা দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকারি বিধিনিষেধের কারণে খাবার হোটেলগুলো বন্ধ রয়েছে। এছাড়া আগের মতো ইফতার সামগ্রীর দোকানও এবার খোলা থাকছে না। এতে ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের যেসব মানুষকে জীবনে তাগিদে বাইরে বের হতে হচ্ছে তাঁরা বিপদে পড়ছেন। এই মানুষগুলোর কষ্টের কথা চিন্তা করে ইফতারের সময় যাতে তাঁরা একটু তৃপ্তি ভরে খেতে পারেন সেই জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ