বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন

নদী ভাঙ্গনের কবলে চরকোণাডহর গ্রাম, বেড়িবাঁধ নির্মানের দাবি
শেখ ইমরান আল আমিন, নেত্রকোণা প্রতিনিধি / ৩৯৪ ভিউ
সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

নেত্রকোণায় টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট বন্যায় নেত্রকোণা সদর উপজেলার চরকোণাডহর গ্রামসহ ঈদ্গাহ মাঠ ও কবরস্থান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে

বাংলাদেশে প্রতিবছরই বিস্তীর্ণ এলাকা নদীভাঙ্গনের শিকার হয়। প্রতিবছর এভাবে প্রায় ছয়হাজার হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়। আর ঘরবাড়ি, ফসলের জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায় অসংখ্য মানুষ।\

এ বছরও জুন মাস থেকেই অনেকগুলো জেলায় নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। তেমনি নেত্রকোণা জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হারে নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ঘটনার পর্যবেক্ষনে দেখা যায় যে, ব্রহ্মপুত্রের শাখা ধলাই নদী,কংশের শাখা ডুবিখালী ও মগড়া নদী একত্রে মিলিত হয়ে চরকোণাডহর গ্রামের পাশেই ত্রিমোহনার সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে এই ৩টি নদীর প্রদান শাখা মগড়া নদী নামে তীব্র স্রোত ধারন করে চরকোণাডহর গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। প্রতিবছরই এই গ্রামের আবাদি ফসলের জমি ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে আসছে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ব্যাপক হারে পাহাড়ি ঢল ও বার বার বন্যা হওয়ায় সেই গ্রামের ঈদ্গাহ মাঠ,কবরস্থান সহ পুরো গ্রামটি হুমকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয়দের মধ্যে মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন এই মগড়া নদীর তীরে ৫০০ টি ঘরবাড়ি সহ অনেক আবাদি জমি ছিল কিন্তু গত ৪ বছরে এখানে অন্তত ৪০টি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে আর কিছু মানুষ অন্যত্র বাড়ি সরিয়ে নিয়েছে। এখন ঝুঁকিতে আরও ৪ শতাধিক বসতঘর এবং ঈদ্গাহ মাঠ ও কবরস্থান। তিনি আরো বলেন আমরা গ্রামবাসীরা ঈদ্গাহ মাঠ ও কবরস্থান রক্ষার জন্য আড় দিয়ে কিছু বস্তা ফে্লেছিলাম কিন্তু সেগুলোও এখন ভেঙে যাচ্ছে।

ঐ গ্রামের আরশাদ মিয়া বলেন, আমি ২ বার ঘর ভেঙ্গে সরিয়ে এনেছি কিন্তু এখন আর সরানোর জায়গা নেই, এবং আরো বলেন যে, এই নদীর পাশে ১ কিলোমিটার একটি বেড়িবাঁধ তৈরী করলে গ্রামসহ ঈদ্গাহ মাঠ ও কবরস্থানটি রক্ষা পেত।

আমরা বেড়িবাঁধ তৈরীর জন্য চার বছর ধরে বিভিন্নভাবে দাবি জানানোর পরও নদীভাঙন প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
চরকোণাডহর ঈদ্গাহ মাঠের প্রধান উপদেষ্টা মোঃ আব্দুস সালাম এবং চরকোণাডহর জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দীন বলেন, ‘আমরা একাধিকবার মানববন্ধন ও সমাবেশ করে সংশ্লিষ্টদের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি এবং এলাকার সাংসদ ও সমাজকল্যান প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু সাহেবকে নিয়ে নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডে কথা বলেছি কিন্তু এরপর ও বেড়িবাঁধ নির্মানের ব্যাপারে কোনো কাজ হয়নি।

এখন এলাকার প্রত্যেকেই ৩ নদীর যে মোহনা সেখান থেকে ১ কিলোমিটার বেরিবাধ নির্মানের দাবি জানিয়েছে এক্ষেত্রে খুব জরুরী ভিত্তিতে উর্ধতন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছে অন্যথায় ঈদ্গাহ মাঠ ও কবরস্থান সহ পুরো গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

 

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Shares