শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গাজীপুর মহানগর ২২ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের ৭২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভা গাজীপুর মহানগরের ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুস সোবাহান সকলের দোয়া চায় ব্যাংকে ঋণ থাকা অবস্থায় ব্যবসায়ীর মৃত্যু: ৯ বছর পর চাপে ভুক্তভোগী পরিবার মাগুরায় ৮ দিন পর যুবকের মস্তকবিহীন লাশের মাথা ও পা উদ্ধার গাজীপুরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুল কলেজ খোলার জন্য মানববন্ধন। মাগুরায় পরিত্যক্ত পুকুরে মিললো যুবকের টুকরো টুকরো লাশ বশেমুরবিপ্রবিতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, স্বেচ্ছায় অব্যহতি গাজীপুরে ভোগরা বাইপাসে স্ট্রোকে আম বিক্রেতার মৃত্যু গাজীপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় গার্মেন্টস শ্রমিকের মৃত্যু শেরপুরে নকল সোনার বারসহ ২ প্রতারক গ্রেফতার

পলাশের তালতলী এতিমখানার অর্থ আত্মসাৎ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

মোঃ রফিকুল ইসলাম, মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি

নরসিংদী জেলার পলাশ থানার তালতলীতে অবস্থিত ইছাখালী দারুল মাসাকিন ইসলামি এতিমখানার এতিমদের অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ।বর্তমানে ইছাখালি দারুল মাসাকিন ইসলামি এতিমখানা ও ইছাখালী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও মাদ্রাসা কমিটির সহ -সভাপতি আ খ ম রেজাউল করিম এই আত্মসাৎ এর সাথে জড়িত আছে বলে জানা যায়।অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নরসিংদী সমাজকল্যান অধিদপ্তরে একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়।

এটা আমরা সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকে নজরুল সিকদার ও ইছাখালী মাদ্রাসার টাইমলাইনে অভিযোগের ব্যাপারে পাল্টাপাল্টি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানতে পারি।সেই সুত্র ধরে আমারা বের হই সরজমিনে অভিযোগের বাস্তবতা ও সঠিক তদন্তের জন্য।

বর্তমান কমিটির সভাপতি জনাব সোহরাব মাস্টার অর্থ আত্মসাৎ এর সরাসরি অভিযোগ এনে একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইছাখালি ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার বর্তমান অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সমাজসেবা অধিদপ্তরে শাখায় একটি দুর্নীতির অভিযোগ দাখিল করেন। সরেজমিনে তদন্ত করে এবং বাদী ও বিবাদী সাথে কথা বলে জানা যায় যে ইসলামি এতিম খানার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর থেকেই বিভিন্নভাবে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ সাথে জড়িত হয়ে পরেন।বর্তমান অধ্যক্ষের সমস্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণসহ সমাজসেবা অধিদপ্তরে শাখায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন সভাপতি সোহরাব মাস্টার। এই অভিযোগের শুনানি আগামি ১৩ জুলাই, রবিবার সময় ১২.০০ টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এবিষয়ে দারুল মাসাকিন এতিমখানার সাধারণ সম্পাদক ও তালতলী ইছাখালী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জনাব রেজাউল করিম কে অভিযোগের সত্যতা জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি বলেন বর্তমান কমিটির সভাপতি সোহরাব মাস্টার এবং তিন লক্ষ টাকার উপরে অর্থ আত্মসাতের সাথে জড়িত এবং এ সমস্ত কাজের সমস্ত তথ্য প্রমাণাদি উনার কাছে আছে রয়েছে বলে তিনি জানান।

আগামী রবিবার দুপুর ১২.০০ টায় সমাজসেবা অধিদপ্তরে উপস্থাপন করবেন। এক্ষেত্রে তিনি অডিট কমিটির বিভিন্ন ধরনের আয়-ব্যয় নিয়ে ও নির্মাণ খাতের অনেক বিষয় নিয়ে বর্তমান কমিটির সভাপতি সোহরাব মাস্টার কে তিনি পাল্টা দুর্নীতিবাজ বলে অভিহিত করেন।তিনি আরও বলেন যে বর্তমান কমিটির সভাপতি সোহরাব মাস্টার তার নিজের স্বার্থ ও অবৈধ কাজে বাধা দেয়ায় এবং আমি এইসব অনিয়ম হতে দেইনি বলে আমাকে অভিযুক্ত করে একটি ভুয়া মিথ্যা অভিযোগপত্র দাখিল করেছে বলে তিনি নাগরিক বার্তা জেলা প্রতিনিধি কে জানান।

এ ব্যাপারে সোহরাব মাস্টার কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন বর্তমান মাদ্রাসার অধ্যক্ষ একজন দুর্নীতিবাজ এবং সমাজের কোন মানুষের সাথে উনার কোন ধরনের সামাজিক যোগাযোগ নেই।মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক,অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন অতিষ্ঠ উনার এই সকল অনিয়ম দেখে। তিনি আরো বলেন এই মাদ্রাসায় শিক্ষাব্যবস্থার কোন ধরনের অগ্রগতি নেই। ২০০৩ সালে বর্তমান অধ্যক্ষ নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে এই দীর্ঘ ১৭ বছরে আয় ব্যয়ের সঠিক হিসাব কমিটিকে প্রদান করেন বলা হয়নি।

অভিযুক্ত অধ্যক্ষ উনি ওনার প্রয়োজন যাকে মনে করেছে তাকে উনি উনার গভর্নিং বডিতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।এতো বড় একটি মাদ্রাসাকে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় এই বিষয়ে তার মধ্যে কখনোই কোনো পরিকল্পনা পরিলক্ষিত হয়নি। তিনি সর্বদাই মাদ্রাসার অধিভুক্ত সম্পদ বন্টন জামানত অর্থ আদায় এবং সে গুলোকে নামে-বেনামে খরচ দেখিয়ে নিজের পকেট ভারী করেছেন বলেও তদন্তে বেরিয়ে আসে।

সরেজমিনে তদন্ত করে আমরা নজরুল সিকদার এর ফোনে জানতে চাইলে (ফেসবুকে পোস্টকারী) তিনি বলেন আমার বাবা ইছাখালি ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা,মসজিদ ও এতিমখানার জায়গা দিয়েছেন। বর্তমান সম্পদ দাতা হিসেবে আমার নাম থাকার পরেও বর্তমান অধ্যক্ষ আমাকে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে গভর্নিং বডিতে নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে এবং আমাকে উল্টাপাল্টা বক্তব্য শোনিয়ে চুপ রাখেন।মাদ্রাসা থেকে প্রতি বছর বছর কিছু অর্থ পাওয়ার কথা ছিল কিন্তু আজ ২০ বছরেও সেটি বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। এই হিসাব আ খ ম রেজাউল করিম এর নিকট থেকে আজও আমরা নিতে পারিনি।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায় যে তালতলী নামার বাজারে সমস্ত দোকানদাররা তালতলী মাদ্রাসা মসজিদে নামাজ আদায় করত তাদের নামায আদায়ের যে জায়গাটি ছিল বর্তমান অধ্যক্ষ রাস্তাটি বন্ধ করে দেন এবং তিনি এলাকাবাসীকে বলেন যে বর্তমান এমপি মহোদয়ের নির্দেশে তিনি রাস্তা বন্ধ করেছেন এবং যখন বন্ধ করা হয় তখন বাজারের ব্যবসায়ীবৃন্দ বাধা প্রদান করে এবং তিনি এমপি মহোদয়কে বাজারের ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে উল্টা-পাল্টা বুঝিয়ে পুলিশে নিয়োগ করেন।

সরোজমিনে আরো জানা যায় বর্তমান অধ্যক্ষ ইছাখালি দারুল ইসলামে এতিমখানার দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি তার একক ক্ষমতাবলে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যে মূল ভবনটি রয়েছে সেটিকে তিনি ভেঙে ফেলেন এবং এতিমখানার জায়গাতে মাদ্রাসার ভবন স্থাপন করেন বলেও সত্যতা খুজে পাওয়া যায়।

বর্তমানে তালতলী এতিমখানার নেই নিজস্ব কোন ভবন। গত বছর সমাজসেবা থেকে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্ধ আসে সেটি যথাযথভাবে শিক্ষার্থীদের পিছনে পিছনে ব্যয় করা হয়নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। কারণ বলতে স্থানীয়রা জানান এতিমখানায় আছে মাত্র ৫ থেকে ৭ জন শিক্ষার্থী।

তারা এই এতিম বাচ্চাদের মাদ্রাসার পাশে একটি ছোট্ট রুমের মধ্যে জায়গা দিয়েছেন থাকার জন্য।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন এ পর্যন্ত প্রায় চল্লিশটি অনুদান এসেছে যেগুলো অধ্যক্ষ এবং সভাপতি সমঝোতা করে বিক্রি করে অর্থ নিজেরা নিজেদের মধ্যে নিয়ে নিয়েছেন হয়নি অধ্যক্ষ এবং সভাপতি এতিমখানার জায়গাতে দোকান বানিয়েছে এবং তিনি একজনের কাছ থেকে একেকরকম অর্থ গ্রহণ করেছেন যেগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা পাওয়া যায়। আকাশ নামে একজন ব্যক্তি বলেন যে তিনি এক লক্ষ টাকা প্রদান করেছে দোকান বরাদ্দ নেওয়ার জন্য এতে ইছাখালী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পুরোপুরি জড়িত।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ

Spoken English কোর্স