শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সাভারে স্কুলছাত্রী নীলা হত্যাকান্ডে মিজানের বাবা মা আটক সাতক্ষীরায় পানিবন্দী মানুষের অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন তুরাগ নদী থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে বিভিন্ন অপরাধীদের নামে ৪’শ ২৮টি মামলা নন্দীগ্রামে খাস পুকুরে পানি নিষ্কাশন নিয়ে মারামারি, আহত ২ শেকৃবিতে রেজিস্ট্রারকে চলতি ভিসির দ্বায়িত্ব দেওয়ায় বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির নিন্দা তাহিরপুরে অজ্ঞাত বৃদ্ধার ঠিকানা খুঁজছে এলাকাবাসী নিবন্ধন না থাকায় সাভারে বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আশুলিয়ায় স্কুল পড়ুয়া কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা, সাভারে ২ জনের লাশ উদ্ধার পাটগ্রামে ভারতীয় শাড়ী ও কসমেটিক্স সহ আটক ২

পাটগ্রামে ভাগ্নে বৌকে ধর্ষণের অভিযোগ

মোঃ ইব্রাহীম খলিল, স্টাফ রিপোর্টার

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারি বাঁশকল এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে নিজের ভাগ্নে বউকে মামাশ্বশুড় জোর পূৃর্বক ধর্ষন করেন । লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারি ইউনিয়নের আক্তার হোসেন খন্দকার ও ভাগিনা মোঃ আতিয়ার রহমানের বাড়ি।

ঘটনা স্থলে গেলে স্থানীয়রা জানায়, বুড়িমারি স্থলবন্দরে গত রোববার ১৩সেপ্টেম্বর আনুমানিক দুপুরে ১টার সময় একটি অফিসে ধর্ষণের বিষয়টি নিয়ে মামা শশুর আক্তার হোসেন খন্দকারের ভাগিনা আতিয়ার রহমান এবং ধর্ষিতা বউয়ের মধ্যে ঝগড়া ঝাঁটি চলছিল।

এসময় উৎসুক জনতা বিষয়টি জানতে পেরে সেখানে ভীর জমায় এবং ধর্ষণের বিষয়টি শুনে কিছু মানুষ উত্তেজিত হয়ে পরে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি অবস্থা বেগতিক দেখে অভিযুক্ত ধর্ষক ও তার ভাগ্নে বউকে হেফাজতের জন্য বুড়িমারি ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসেন। পরে বুড়িমারি ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্যরা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ বিকেলে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে এদিন রাতেই ধর্ষিতার দায়েরকৃত মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার দেখিয়ে আজ সোমবার সকালে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত আক্তার হোসেন খন্দকার পাশ্ববর্তী হাতিবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারি ইউনিয়নের তারুর মোড় গ্রামের মৃত নেছার উদ্দিন মিয়ার ছেলে এবং ধর্ষণে সহযোগিতা করায় স্বামী আতিয়ার রহমান, পিতা দুলাল মিঞা, গ্রাম বড়খাতা, উপজেলা হাতিবান্ধা, জেলা লালমনিরহাট।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে ,আতিয়ার রহমান ও তার বউয়ের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। দুই বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। কিন্তুু অভাব অনটনের জন্য প্রায়শই তাদের মধ্যে, মনোমালিন্যেও ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। গত ৭ সেপ্টেম্বর পুনরায় তাদের মধ্যে ঝগড়া হলে স্বামী আতিয়ার রহমান তাঁর বউকে বাড়িতে রেখে পাটগ্রামে তাঁর মামা আক্তার হোসেন খন্দকারের বুড়িমারি (বাঁশকল) এলাকার ভাড়াটিয়া বাসায় আসেন। এবং মামার “খন্দকার” নামক খাবার হোটেলে কাজ শুরু করে। এর পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর তারিখে মামা আক্তার হোসেন খন্দকারের ফোন দিয়ে আতিয়ার রহমান তাঁর স্ত্রীকে বলে যে আমি বুড়িমারিতে মামার বাসা এসেছি এবং মামার দোকানে কাজ করছি। তুমিও এখানে চলে আস। স্বামীর ফোন পেয়ে সেদিনেই বুড়িমারিতে মামা শ্বশুরের বুড়িমারি বাঁশকল এলাকার ভাড়া বাড়িতে চলে আসে ওই নির্যাতিতা। এসে দেখেন মামি শাশুড়ি বাড়িতে নাই। স্বামী স্ত্রী রাত ১০ ঘটিকা পর্যন্ত ঐ বাড়িতে এক সঙ্গেই ছিলেন, কিন্তু বাধ সাধে এর কিছুক্ষণ পর। রাতে মামা শ্বশুর বাড়িতে আসলে স্বামী আতিয়ার রহমান হটাৎ তাঁর স্ত্রীকে বলে যে তুমি দরজা জানালা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়। আমি মামার দোকানে নাইট ডিউটি করতে যাই। এরপর রাত সারে এগারোটার হলে মামাশ্বশুর আক্তার হোসেন খন্দকার ভাগ্নে বউয়ের শয়ন রুমে এসে ডেকে তুলে এবং বলে যে আমার রুমে আসো, তোমাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কি সমস্যা এগুলো শুনি। তার রুমে গেলে মামাশ্বশুর আক্তার খন্দকার তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষণ করেন।

এ ঘটনায় নির্যাতিতা এই নারী বাদী হয়ে রোববার রাতেই মামা শশুর আক্তার হোসেন খন্দকার ও আতিয়ার রহমানকে আসামী করে ৯ (১)৩০, ২০০০ নারী ও শিশু নির্যাতন সংশোধনী ২০০৩ ধারায় পাটগ্রাম থানায় একটি মামলা (মামলা নং ৮) দায়ের করেছেন। ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য জেলা মেডিকেল হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে প্রেরণ করা হয়েছে।

এবিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারি ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, খন্দকার হোটেলের মালিক ও তাঁর ভাগ্নি বউয়ের মধ্যে অসামাজিক কাজের কথাটি শুনেছি। তাদের মধ্যে বুড়িমারিতে একটি অফিসে বাকবিতন্ডা শুরু হয়েছে মর্মে স্থানীয় জনগণ আমাদের খবর দেয়। আমি সহ কয়েকজন সেখানে গেলে দেখি অনেক মানুষ এবং উত্তেজনাকর পরিবেশ।

এ অবস্থা দেখে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাদের ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসলে আমরা পুলিশকে খবর দেই। কিছুক্ষণ পরে পাটগ্রাম থানার পুলিশ এসে অভিযুক্তদের ও ঐ নারীকে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়। পাটগ্রাম থানার ওসি সুুুমন কুুুমার মহন্ত জানান, বুড়িমারি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এ বিষয়টি নিয়ে থানায় খবর দিলে নির্যাতিতা ওই মহিলা ও তাঁর স্বামী এবং মামা শশুর আক্তার হোসেন খন্দকারকে সেখান থেকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

এরপর গতকাল রোববার দিবাগত রাতে নির্যাতিতা নারী পাটগ্রাম থানায় ধর্ষণের একটি লিখিত অভিযোগ করলে ওই মহিলার দায়েরকৃত মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে আজ প্রেরণ করা হয়েছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ