শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ১২:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রপ্তানি আয়ের অন্যতম উৎস হবে আম: কৃষিমন্ত্রী খাবার না থাকলে আমাকে জানান, আমি বাড়ি বাড়ি খাবার পৌছে দিব: এমপি আনার অমুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের অভিযোগ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কমলগঞ্জে হিন্দু ছাত্র পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত ময়মন‌সিং‌হের শম্ভুগ‌ঞ্জে প্রায় শতা‌ধিক দোকানে ধর্মঘট শেরপুরের শ্রীবরদীতে ১’শ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার সাংসদ কন্যা ডরিন এর নেতৃত্বে রোজা রেখেও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এক কৃষকের ধান কেটে দিয়েছে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ করোনা সঙ্কটে আবারো অসহায় মানুষের পাশে সাংসদ কন্যা ডরিন সাভারে দুই নারী ধর্ষণের শিকার, আটক ২ ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে তিস্তায় ডুবে একজনের মৃত্যু

প্রতিবছর নদীগর্ভে হারাচ্ছে সরকারের কোটি টাকা, লাভ হচ্ছেনা জনগণের একফোঁটা

হাছিনুর আকরাম, চাঁদপুর

গতবুধবার চাঁদপুর শহর রক্ষা বাধের পুরান বাজার হরিসভা এলাকায় আবারও মেঘনার ভাঙন শুরু হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলা শুরু করে। আজ রবিবার পর্যন্ত ২২হাজার জিওব্যাগ ফেলা হয়। যার ব্যয় কোটি টাকার অধিক। কিন্তু স্থানীয় জনগণের কোন লাভ হয়নি, আতঙ্কও কাটেনি।

রবিবার সকালে দিকে গিয়ে দেখা গেছে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে ২৫ মিটারের সাথে বাধের আরও ৬০ থেকে ৭০ মিটার ফাটল দেখা দিয়েছে। সড়কের বেশ কিছু অংশসহ বৈদ্যুতিক খুঁটি নদী গর্ভে হারিয়ে যায়। যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা খুবই আতংকের মধ্যে রয়েছেন।

ভাঙনের সংবাদ পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড তাৎক্ষণিক বালুভর্তি জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ফেলতে শুরু করেছেন। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। নতুন করে আরও ব্যাগ বালু ভর্তি করা হচ্ছে। স্থায়ী ও শক্তিশালী বাধ না হলে বাণিজ্যিক এলাকা পুরানবাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি মেঘনায় তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা বিমল চৌধুরী বলেন, গত বছর থেকে ভাঙন এলাকাটি খুবই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ওই সময় মন্ত্রীসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনেক কর্মকর্তা ভাঙন স্থান পরিদর্শন করেছেন। এখানে স্থায়ী বাধ হবে বলে আশ্বাস দিলেও এখনও তা করা হচ্ছে না। যখন ভাঙন দেখা দেয় তখন কিছু বালু ভর্তি ব্যাগ ফেলানো হয়, ভাঙন কিছুটা কমলে আর কোন কাজ হয় না। গত ২০ দিন আগেও একবার ভাঙন দেখা দিয়েছিলো। তখন পানি উন্নয়ন বোর্ড যে স্থানটি ঝুঁকিপূর্ণ র্নিধারণ করে সেখানেই এখন ভাঙন শুরু হয়েছে। কিন্তু তারা কোন স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়নি।

মোখলেস ব্যাপারি নামক আরেক স্থানীয় অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবছর সরকারের কোটি কোটি টাকা নদী গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে, স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ার কারনে। এতে জনগনের নূন্যতম উপকার হচ্ছে না। বরং আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন জানান, ভাঙন প্রতিরোধে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ভাঙ্গন শুরু হওয়ার রাত থেকেই শ্রমিক কাজ করতে শুরু করেছেন। তবে এখানে পানির গভীরতা প্রায় ৪৫ ফুট। তারপরেও কাজ বন্ধ নেই।

চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বাবুল আখতার বলেন, বুধবার রাত ১০টায় পুরানবাজার হরিসভা এলাকায় ভয়াবহ ফাঁটল দেখা যায়। এ সময় শহর রক্ষা বাঁধের বেশকিছু ব্লক নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ২৫ মিটার এলাকাজুড়ে ফাঁটল দেখা যায়। ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি বস্তা ফেলা শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২২হাজার জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে।
স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ৪২১ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনা করা হয়েছে। অনুমোদিত হলে আমরা কাজ শুরু করব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ

Spoken English কোর্স