বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
তাহিরপুরে অজ্ঞাত বৃদ্ধার ঠিকানা খুঁজছে এলাকাবাসী নিবন্ধন না থাকায় সাভারে বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আশুলিয়ায় স্কুল পড়ুয়া কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা, সাভারে ২ জনের লাশ উদ্ধার পাটগ্রামে ভারতীয় শাড়ী ও কসমেটিক্স সহ আটক ২ নৌকার মাঝি মোহাম্মদ আলী, ধানের শীষ হাতে সাইফুল আলম বরগুনায় গণপূর্ত বিভাগের জলাশয় অবৈধভাবে দখল করে মাছ চাষ বগুড়ায় ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচার মৃত্যু ঘোড়াঘাটে বালু বোঝাই ট্রাকে ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার ২ সাভারে টায়ার পুড়িয়ে পরিবেশ দূষণ, ৫টি কারখানা গুড়িয়ে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত মন্ত্রণালয়ের কোন কর্মকর্তা কর্মচারী দুর্নীতি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: অতিরিক্ত সচিব

বগুড়ায় জনসমাগম বেড়েই চলেছেঃ সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিতে পারে

সুব্রত ঘোষ, বগুড়া

পুলিশের নমনীয়তা ও সাধারন মানুষের অসচেতনায় বগুড়ায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ তীব্র আকার ধারন করতে পারে বলে অনেকে ধারনা করছে। জেলা প্রশাসন লক ডাউন ঘোষনা করলেও শহরে জনসমাগম বেড়েই চলেছে। সকাল থেকেই বগুড়া শত শত মানুষ ও যানবাহনের স্রোতে ভেসে যায় বগুড়া শহর।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বারবার সকলে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হলেও কেউ তা মানছে না। প্রতিদিনই বগুড়ার হাট বাজার, ব্যাংক, ওষুধের দোকান, চা, বিড়ি সিগারেটের দোকানে, টিসিবির পণ্যের লাইনে ভির বাড়ছে সীমাহীন ভাবে। লক ডাউন ঘোষনা করার পর থেকেই বগুড়া শহরে লোকসমাগম আরো বৃদ্ধি পেয়েছে শহরে।

অনেকে বলছে লক ডাউনের আগেই বগুড়া শহরে জনশূন্য ছিল। লক ডাউন ঘোষনার পর থেকে বগুড়ায় রিক্সা ভ্যান আটো ও সিএনজির সংখ্যা অধীক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মহাসড়কেও দূরপাল্লার যাত্রীবাহী ও ট্রাক চলছে নিয়মিত ভাবে। ফলে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা বেড়েই চলেছে মহাসড়কে। লক ডাউন উপেক্ষা করে মহাসড়কে গত ২৮ এপ্রিল সকালে বগুড়ার শেরপুরের শেরুয়া বটলতা নামক স্থানে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। লক ডাউন মেনে চললে এধরনের দূর্ঘটনা ঘটতো না বলে অনেকে মনে করে।

এক সূত্র জানা গেছে লক ডাউন ঘোষনা পর পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। দিনের পর দিন শহরে প্রয়োজন অপ্রয়োজনে সাধারণ মানুষ ঘোরা ফেরা করছে শহরে। অনেকে আবার পিপিই পড়ে শহরে এদিক ও ওদিক ঘোরা ফেরা করছে বিনা কারনে।

লঘু দন্ড রোদে বসিয়ে রেখে শাস্তি, মোটর সাইকেল সহ বিভিন্ন যানবাহন আটক করে মামলা দায়ের এবং জরিমানা করেও পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন কারনে বিকল্প উপায়ে প্রতিদিন শহরে শত শত লোক ঢুকে জনসমাগম সৃস্টি করে চলেছে। এ কারনে বগুড়ায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটার ঝুকিতে রয়েছে বগুড়া।

বগুড়া স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া জেলায় শাহ আলম নামের এক ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই বগুড়ায় এই করোনা ভাইরাসের রোগী বৃদ্ধি পেতে থাকে। আস্তে আস্তে বগুড়ায় করোনা রোগী দাড়ায় ১৬ জনে।বিশেষ করে ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ বগুড়ায় করোনা পরিস্থিতি কে ভয়াবহ করে তুলেছে। আর এই ভাবে প্রশাসনকে ফাকি দিয়ে বগুড়ায় এই মানুষগুলো ঢুকে পড়ায় বগুড়ায় করোনা রোগী বাড়তে শুরু করেছে।

বাহির থেকে লোকজন বগুড়ায় আসলে তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেয়া হলেও তারা সেই পরামর্শও মানছে না। তারা মিশে গেছে সাধারণ মানুষের মাঝে৷ ফলে আস্তে আস্তে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে বগুড়ায়।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে বগুড়ায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। অসচেতনতা ও পুলিশের নমনীয়তার কারনে বগুড়া শহরে লোকসমাগম বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
অসচেতনতার কারনে বগুড়ায় এপর্যন্ত ১৬ জন ব্যক্তির করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আর করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬ জন ব্যক্তি।আক্রান্তদের মধ্যে বগুড়া শহরের সবুজ বাগে ১ জন, চেলোপাড়ায় ১ জন এবং চক ফরিদে ১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বগুড়ায় পুলিশ প্রশাসন শুধু সাতমাথাতে জনসমাগম রোধ করতে সক্ষম হলেও শহরের আশেপাশে এলাকায় লোকসমাগম অনেক বেশী লক্ষ্য করা গেছে।

বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা, মোস্তফাফিজুর রহমান তুহিন জানান, অন্যান্য জেলার চেয়ে বগুড়ায় জনসমাগম অনেক বেশী। ঢাকা, গাজিপুর, নারায়ণগঞ্জ এলাকা থেকে লোকজন বগুড়ায় বেশী আসছেন। তারা স্বাস্থ্য বিধি একেবারেই মানছে না। এতে করে বগুড়ায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে।

তিনি বলেন বগুড়ায় জনসমাগম বেশী হওয়ার পেছনে পুলিশ প্রশাসনের নমনীয়তা বেশী হয়েছে। লক ডাউনের আইন প্রয়োগ করতে পুলিশ হিমশিম খাচ্ছে।  বগুড়া শহরের মাঝে জনসমাগম দ্রুত কমাতে পারলে সাধারণ জনগন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে।

বগুড়া পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বিপিএম বার বলেন, রমজান মাস হওয়ায় শহরে কিছুটা জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে। তিনি জানান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে সকলকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। সবাই কে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ