শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ০৪:০৪ অপরাহ্ন

বন্ধ হচ্ছেনা সুন্দরবন সংলগ্ন অবৈধ করাত কল

মাসুম বিল্লাহ্, শরণখোলা, বাগেরহাট

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা প্রশাসন ও বনবিভাগ ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর যৌথ অভিযান চালিয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৫টি করাত কল বন্ধ করে দেয়। পরে বনবিভাগ শরণখোলা রেঞ্জের পক্ষ হতে করাতকল আইনে ওই পাঁচ মালিকদের বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়।

অভিযান ও মামলা দায়েরের পর কিছুদিন এগুলো বন্ধ থাকলেও আইনকে চ্যালেঞ্জ করে পুনঃরায় কাঠ চেরাই শুরু করেছে করাত কল মালিকরা। জনবসতি পুর্ন এলাকা সহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘেষে এ সকল অবৈধ করাত কল রাতারাতি স্থাপন করা হলেও তা বন্ধে কারো কোন মাথাব্যাথা নেই।

সম্প্রতি অবৈধ করাত কলের বিষয়ে উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হক আকনের ছেলে মোঃ সোহাগ আকন বাগেরহাট জেলা প্রসাশক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুন্দরবন থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাত কল স্থাপনের বিধান না থাকলেও তা মানছেনা বনসংলগ্ন এলাকার প্রভাবশালীরা। অভিযোগ রয়েছে বনবিভাগ ও প্রসাশনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের ম্যানেজ করে রাতারাতি স্থাপিত হচ্ছে এসব করাতকল গুলো। এছাড়া বন সংলগ্ন এলাকার করাত কলগুলোর কারনে গত ২০ বছরে সুন্দরবনের সুন্দরী, গেওয়া, গরান সহ মুল্যবান সম্পদের পাশাপাশি সামাজিক বনায়নের বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ ইতিমধ্যে উজাড় হয়েছে। তবে বনাঞ্চল সহ পরিবেশ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের কমিটি থাকলেও তার কোন কার্যক্রম নেই ।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বনবিভাগ, প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই স্থানীয় প্রভাবশালীরা করাতকল স্থাপণ করে সুন্দরী সহ নানা প্রজাতির কাঠ চেরাই শুরু করেন। তবে, মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় এদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। বনের বিভিন্ন প্রজাতির মুল্যবান কাঠ চেরাই করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গোপনে পাচার করছে। এছাড়া সুন্দরবনের চার-পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে প্রশাসনের নাকের ডগায় এই মিলগুলো বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তারা বিভিন্ন প্রকার কাঠ চেরাই করে আসছে। মামলা হওয়া সত্বেও তারা থেমে নেই। সম্প্রতি উপজেলার কাসেমুল উলুম কওমী মাদ্রাসা সংলগ্ন নলবুনিয়া, সিং-বাড়ী, তাফালবাড়ী কলেজ সংলগ্ন সেলিম হাওলদার, দক্ষিন মালিয়া রাজাপুর স্কুল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মো. ছগির আকন সহ গত এক বছরে উপজেলার অনেক বাসিন্দা অবৈধ ভাবে একাধিক করাত কল স্থাপন করলেও রহস্যজনক কারনে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা বন-বিভাগ ও প্রশাসনের কেউ।

এ বিষয়ে সুন্দরবন সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির কোষাধক্ষ্য মো. ফরিদ খান মিন্টূ বলেন, নিয়মনীতির বাইরে কি ভাবে করাত কলগুলো স্থাপিত হয় তা আমার বোধগম্য নয়। প্রভাবশালী চক্রের লাগাম টানতে বনবিভাগ সহ প্রশাসনের আরো কঠোর হওয়া প্রয়োজন।

অপরদিকে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে করাত কল মালিক উপজেলার তাফালবাড়ী বাজার ব্যবসায়ী মো.আলাউল আহসান সেলিম বলেন, আইনকে অবজ্ঞা করা কিংম্বা অবৈধ ভাবে করাত কল স্থাপনের বিষয়টি সঠিক নয়। আমাদের কোন কাগজপত্র না থাকলেও লাইসেন্স পাওয়ার জন্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছি।

সুন্দরবন পুর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসএিফ) মো. জয়নাল আবেদীন জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দশ কিলোমিটারের মধ্যে করাত কল বা কোনো প্রকার মিল, কলকারখানা স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তার পরেও শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কিছু করাত স্থাপণ করেছে। সম্প্রতি পাঁচটি করাত কলে অভিযান চালিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়ার পরও আইন অমান্য করে মিলগুলো চালু করেছে মালিকরা। এদের বিরুদ্ধে পুনরায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, মিলগুলো বন্ধ করে মামলা দেওয়ার পরও ফের চালু করায় তারা আইনকে অবজ্ঞা করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ##

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ

Spoken English কোর্স