মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৪:২২ পূর্বাহ্ন

বশেমুরবিপ্রবিতে বিভাগীয় সভাপতি নিয়োগের কয়েক ঘণ্টা পরেই নোটিশ বাতিল
সাজ্জাতুজ জামান সুজন, বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি / ২০৬ ভিউ
সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ এ বিভাগীয় সভাপতি পরিবর্তন করে নতুন সভাপতি নিয়োগের কয়েক ঘণ্টা পরেই আগের সভাপতিকে বহাল রেখে নোটিশ প্রদান করা হয়।

গত ১৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের প্রাক্কালেই রেজিস্ট্রার দপ্তরের এক নোটিশে ‘একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস’ বিভাগের সভাপতি পদে দ্বায়িত্বে থাকা সহকারী অধ্যাপক মো: আব্দুল মান্নান খান এর স্থলে একই বিভাগের আরেক সহকারী অধ্যাপক উজ্জ্বল মণ্ডল কে দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়।

কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টা পরেই রেজিস্ট্রার দপ্তরের আরেক নোটিশে মো: আব্দুল মান্নান খানকেই আবার আগের পদে স্থলাভিষিক্ত করা হয়।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বলেন, “গত ১৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের প্রাক্কালে মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর আমাদের জানান যে, এআইএস বিভাগের দ্বায়িত্বে থাকা আব্দুল মান্নান খান এর মেয়াদ শেষ হয়েছে দুইবারের সময়কাল হিসাবে। এবং তার স্থলে উজ্জ্বল মণ্ডলকে নিয়োগ দেওয়ার কথা। এরপর তিনি এই নোটিশ প্রকাশ করেন। তবে কিছু সময় পরেই মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর উক্ত নোটিশ বাতিল এবং আব্দুল মান্নান খান কেই আগের পদে বহাল রাখার নির্দেশ দেন।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর জানান,বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগের সভাপতির মেয়াদ তিন বছর। জনাব আব্দুল মান্নান খান আগে কয়েকবছর সভাপতি পদে ছিলেন কিন্তু শিক্ষা ছুটিতে যাওয়ার কারণে তার মেয়াদ শেষ হয়নি। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় দফায় তিনি সভাপতি পদে যোগদান করার পর তার দুইবারের সময়কাল হিসেব করা দেখা যায় তার সভাপতির মেয়াদ শেষ।

এ কারণে তার স্থলে অন্য একজনকে দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়। এইরকম কোনো নীতিমালা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান যে, বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২৫(৩) ধারায় বিষয়টির সুস্পষ্ট কোনো বর্ণনা নেই। তবে দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন নজির আছে।
তবে, যেহেতু এখানে বিশ্ববিদ্যালয় আইনের জটিলতা রয়েছে সেহেতু এ বিষয়টি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম শুরু হলে উপযুক্ত ব্যাবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা হবে।

উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির প্রচার সম্পাদক শামসুল আরেফীন বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ২৫(৩) নং ধারায় কোনো সুস্পষ্ট ধারণা নেই। রেজিস্ট্রার দপ্তরের ওই নোটিশ পাওয়ার পর জনাব আব্দুল মান্নান খান শিক্ষক সমিতির কাছে প্রথমে মৌখিক এবং পরে লিখিত আবেদন জানান বিষয়টি সুরাহার জন্য।

এতে করে শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে কথা বলেন যাতে করে আইনটি সুস্পষ্ট করা হয় এবং পরবর্তীতে আর কোনো বিভাগ/বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একই ঝামেলায় পড়তে না হয়।

শিক্ষক সমিতি চায় যেনো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আইন সুস্পষ্ট থাকে এবং কোনো প্রকার সংকটপূর্ণ অবস্থা এখান থেকে সৃষ্টি না হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Shares