বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৪১ পূর্বাহ্ন

বিদ্যালয় ভবন নির্মানে নিম্মমানের উপকরণ ব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ
মাসুম বিল্লাহ, শরণখোলা বাগেরহাট / ১৯৪ ভিউ
সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

বাগেরহাটের শরনখোলায় দাতা সংস্থার অর্থায়নে স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার নির্মানে নিম্নমানের উপকরন ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থা ডি.এস.কে’র বিরুদ্ধে। নির্মান কাজে ব্যবহৃত ইট, বালু, রড, সিমেন্টসহ নানা উপকরনের গুনগত মান সঠিক না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের তোপের মুখে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ১৪টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনসমুহ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় পরিত্যক্ত ঘোষনা করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে জার্মানীর একটি দাতা সংস্থার অর্থায়নে চলতি বছরের ১১মার্চ ঢাকাস্থ বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকের) শরনখোলা উপজেলা শাখার তদারকিতে ৯০লাখ ৫০হাজার টাকা ব্যয়ে উপজেলার ৬১নং বড় রাজাপুর নেছারিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার) দুই তলা ভবনের নির্মান কাজ শুরু করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভ্যালকোচ বাংলাদেশ লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এবং ওই কাজ চলতি বছরের অক্টোবরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

কাজের সচ্ছতা নিশ্চিত করতে উন্নয়ন সংস্থা ডিএসকের পাশাপাশি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তদারকির দ্বায়িত্ব থাকলেও প্রকল্প এলাকায় কোন প্রতিনিধি না থাকার সুযোগে পুকুর চুরি শুরু করেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। কাজে অনিয়মের বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসলে ১০জুলাই (শুক্রবার) নির্মান কাজ বন্ধের উদ্যেগ গ্রহন করেন তারা।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ নাছির মুন্সী, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ নান্না মিয়া, স্থানীয় বাসিন্দা যুবলীগ নেতা শামীম মুন্সী ও আব্দুল কুদ্দুস খাঁন সহ এলাকাবাসীরা বলেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার স্কুলের শিক্ষক কিংম্বা ম্যানেজিং কমিটি কাউকেই কোন কাগজ পত্র দেখান না। তাদের ইচ্ছামত খারাপ মালামাল (নিম্ন মানের উপকরন) দিয়ে দায়সারা ভাবে রাতা-রাতি কাজ শেষ করতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে ভবনটি নির্মান করলে তা বেশি দিন টিকবে না এবং এর সুফল বেশি দিন পাওয়া যাবেনা। তাই নিয়ম অনুসারে ভবন নির্মানের দাবী জানান বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী।

প্রকল্পের তদারকির দ্বায়িত্বে থাকা ডিএসকের শরনখোলা ব্যাবস্থাপক মোঃ আব্দুস ছাত্তার বলেন, আমরা নির্মান কাজের দিকে সব সময় নজর রাখছি। ফলে অনিয়ম করার কোন সুযোগ নেই। এছাড়া ভবন নির্মান পরবর্তী ১০বছরের মধ্যে কোন সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার পুনঃরায় ঠিক করে দিতে বাধ্য বলে ডিএসকের সাথে চুক্তি আছে। স্থানীয়রা না বুঝে অভিযোগ করেছেন।

জানতে চাইলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মোঃ বশির আহম্মেদ বলেন, এই নির্মান কাজের মুল ঠিকাদার ডিএসকে তাই অনিয়মের বিষয়ে আমাদের কোন বক্তব্য নাই।

অপরদিকে, এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Shares