বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন

বিয়ের ৩ মাস পার না হতেই স্ত্রীর রহস্য জনক মৃত্যু!

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ী শহরের ভবানীপুর এলাকায় বিয়ের চারমাস পূরন না হতেই শিরিনা খাতুন (২২) নামে নব বধুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ই মার্চ) সকাল প্রায় সোয়া এগারটার দিকে শহরের ভবানীপুরস্থ্য শামীম মঞ্জিলে এ ঘটনা ঘটে। বেলা আড়াইটার দিকে ঐ গৃহ বধুর লাশ উদ্ধার করে রাজবাড়ী থানা পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে । এ ঘটনায় নিহত শিরিনার স্বামী শামীম আহসান (৩০) কে জিজ্ঞাসা বাদের জন্য আটক করেছে থানা পুলিশ ।

শামীম রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবসর প্রাপ্ত একাউন্স হেড ক্লার্ক মোঃ ইশাক মিয়ার ছেলে। ঘটনাটি আত্ন হত্যা না কি হত্যা এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এলাকাবাসীর মনে!

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, নিহত শিরানা শামীম মঞ্জিলে ভাড়া থেকে লেখা পড়া করতো। সে রাজবাড়ী সরকারী কলেজ থেকে এবার অনার্স পরীক্ষা দিয়েছে।

ভাড়া বাসা থেকেই উভয়ের মধ্যে সম্পর্কের সৃষ্টি হলে পারিবারিক ভাবে গত ১৫ই নভেম্বর-১৯ সালে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তাদের মধ্যে অশান্তির সৃষ্টি হয়।

শামিমের দুলাভাই মোঃ মোতালেব জানান, শামীম জানতে পারে তার স্ত্রী’র অন্য ছেলের সাথে সম্পর্ক ছিলো। এ নিয়ে কয়েকবার পারিবারিক ভাবে বসা হয়। সেই ছেলেটি নিহত শিরিনের মোবাইলে মেসেজ দিতো। এ নিয়ে অশান্তির সুত্রপাত হলে গত ১২ই মার্চ শামীম তার শাশুড়ীকে তাদের বাড়ী আস্তে বলেন। তার মেয়ের এ সকল কথা তার শাশুড়ীকে জানান এবং তার শাশুড়ি মেয়েকে বুঝিয়ে পরদিন সকালে গ্রামের বাড়ী পাংশা আশুর হাট এলাকায় চলে যায়।

এদিকে শামিমের মা জানান, আ,আমার ছেলে বসন্তপুরে তার নানীর মৃত্যু বার্ষিকীতে গিয়েছিলো সকালে। আমরা বাড়ীতে স্বামী স্ত্রী ও ছেলের বৌ ছাড়া আর কেউ ছিলাম না । সকাল সাড়ে দশ টার দিকে আমার ছেলের বৌ কে ওযু করতে দেখে আমি জিজ্ঞাসা করি এখন কোন ওয়াক্তের নামাজ পড়বে ? সে কোন জবাব না দিয়েই ঘড়ে ঢুকে আমি আমাদের রুমে চলে আসি। পরে অনেকক্ষন তার কোণ সাড়া শব্দ না পেয়ে রুমের দরজা ভেঙ্গে ঢুকে দেখি ছেলের বৌ নিজের ওড়না গলায় পেচিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলছে। পরে আমি আর আমার স্বামী সেখান থেকে তাকে নামাই। পরে ছেলে বৌ এর মায়ের বাড়ী খবর দেই। ” তবে তখন পুলিশ কে কেন খবর দেওয়া হলোনা প্রশ্নে তিনি কোন কথা বলেননি ।

ঘটনা সকাল প্রায় সোয়া এগারোটার দিকে আর ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ পৌছায় বেলা দূইটার পর।
নিহত শিরিনার বাবা মোঃ সিরাজুল ইসলাম তার মেয়ের অন্য ছেলের সাথে সম্পর্কের ব্যাপারে বলেন, মেয়ে পড়া শোনা করেছে কলেজে দু একজন বন্ধু থাকতে পারে এ নিয়ে প্রায়ই আমাদের কাছে ফোন যেত যে আপনার মেয়ের এ ঘটনা । এগুলো সমাধান করেন। পরে তারা এসে মেয়েকে বুঝিয়ে শুনিয়ে চলে যেত।

তবে একটি সূত্র জানিয়েছে বিয়ের পর ছেলের স্ত্রীর সাথে শাশুড়ির বনি বনা ছিলোনা তেমন । প্রায়ই ঝগড়া লাগতো। রান্না বান্না এটা সেটা নিয়ে। ছেলে শামীম শ্বশুরবাড়ির দেওয়া মটর সাইকেলে একবার এক্সিডেন্ট করলে শামীমের মা নিহত শিরিনা কে অপয়া অলক্ষ্মী বলে গালাগাল করে। পরে মটর সাইকেলের রিপেয়ারিং এর জন এক লাখ টাকা শশুর দিয়ে যায়।

ঘটনা টি আত্মহত্যা বলে ধারনা করা হলেও মেনে নিতে পারেনি থানা পুলিশ। কারন আত্মহত্যা করলে নিহত ব্যাক্তির লক্ষনের সাথে এ লাশের অনেক পার্থক্য রয়েছে। নিহত শিরিনার গলায় রয়েছে দুটি দাগ, একটি ক্ষত চিহ্ন আর বাম চোখের উপর কালো দাগ। নিহত শিরিনা যে সিলিং ফ্যানে ঝুলে ছিলো সে ফ্যানে লেগে থাকা মাকড়সার জাল বিষয়টাকে প্রশ্ন বিদ্ধ করে তোলে। এটা কি আত্ন হত্যা না কি অস্বাভাবিক মৃত্যু এ নিয়ে সন্দেহ থাকায় থানা পুলিশ পোষ্ট মরটেমের জন্য নিহত শিরিনার লাশ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার জানান, লাশের কয়েকটি চিহ্ন দেখে বিষয়টি জটিল মনে হওয়ায় লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে আমরা জানতে পারবো এটি কি হত্যা না আত্মহত্যা !


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ

Spoken English কোর্স