বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ১০:৫৫ অপরাহ্ন

ভার্চুয়াল কোর্টঃ নিম্ন আদালতে সংকট

এড. রাশেদুল হক, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

আলোচিত ভার্চুয়াল কোর্ট ডিজিটাল বাংলাদেশে এক মাইলফলক। তবে করোনাকালে তা কতটুকু কার্যকরী হবে তা প্রশ্নবোধক হয়েই থাকবে। কেননা এতে করে সারাদেশের ৬৪ জেলায় নিম্ন আদালতের আইনজীবীরা করোনার ঝুঁকির মুখে পড়লেন। কোন আসামীকে জামিনে মুক্ত করার জন্য একজন আইনজীবীকে বেশ কয়েকটি ধাপে অগ্রসর হতে হয়। প্রথমেই বলতে হয় ওকালতনামার কথা। নিম্ন আদালতে একজন আইনজীবীকে শুনানি করতে হলে আগে একটা ওকালতনামায় হাজতি আসামীর পক্ষে লড়াই করার জন্য স্বাক্ষর নিতে হয়। মামলার মূল নথিতে যদি আগে থেকে ওকালতনামা দাখিল করা না থাকে তাহলে ওকালতনামা কিনতে একজন আইনজীবীকে আদালতে যেতে হবে! আইনজীবীদের মৃত্য ঝুঁকি এড়ানোর জন্য যে ভার্চুয়াল কোর্ট তা সেই ঝুঁকিকে আরো বাড়িয়ে দিবে।

এরপর জামিনের পিটিশন এর কথায় আসি। মামলার সংশ্লিষ্ট আইনের ধারায় আসামিপক্ষের বক্তব্য একটা জামিনের দরখাস্তে লিখতে হয়, সাথে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সংযুক্ত করতে হয়। নতুন ডিরেকশন অনুযায়ী জামিনের আবেদনে কোর্ট ফি লাগিয়ে স্ক্যান করে পিটিশন ও ডকুমেন্টস আপলোড দিতে হবে। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আইনজীবীর ভার্চুয়াল কোর্ট এর আইডি থেকে ই-মেইল করতে হবে কোর্টের নির্ধারিত ই-মেইল একাউন্টে।এই কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে একজন আইনজীবীর বাসায় এখন প্রিন্টার,স্ক্যানার এবং দ্রুত গতির ইন্টারনেট থাকতেই হবে, না থাকলে সেই বাহিরে গিয়ে কোন দোকান থেকে করাতে হবে।

পরবর্তীতে ভার্চুয়াল কোর্টে শুনানির জন্য একটি সময় নির্ধারন করবেন এবং সময় অনুযায়ী ভার্চুয়াল কোর্ট রুমে অর্থাৎ মাইক্রোসফট টিম সফটওয়্যার এর মাধ্যমে ওয়েব ক্যামেরার সামনে সময়ের ১৫ মিনিট আগে উপস্থিত থাকতে হবে। অবশ্যই যে জায়গায়টিতে বসে শুনানি করবেন সে জায়গাটি কোলাহলমুক্ত হতে হবে। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকতে হবে, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা থাকতে হবে।

পরবর্তীতে শুনানির পরে যদি আসামির জামিন হয় তাহলে বেইলবন্ড প্রস্তুত করে কোর্ট ফি লাগিয়ে এবং রিলিজ অর্ডার পুরন করে তা স্ক্যান করে আপলোড করে ভার্চুয়াল কোর্টের আইডিতে দাখিল করতে হবে। আদালত বেইলবন্ড গ্রহন করে রিলিজ আদেশটি জেলখানায় ইমেইল এর মাধ্যমে পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন এবং আসামি কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন।

এর মানে একজন আইনজীবীকে একটি জামিন নিশ্চিত করতে কমপক্ষে তিনবার ঘর থেকে বাহিরে বের হতে হবে! ঘরে থেকে বিচার কাজে শুনানির জন্য যে কোর্ট এর যাত্রা হলো, তাতে একটি কাজের জন্য একজন আইনজীবীকে কয়েকবার ঘরের বাহিরে যেতে হবে!

তাহলে কাদের স্বার্থে ভার্চুয়াল কোর্ট এর সূচনা হলো। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলা বারে এ বিষয়ে আইনজীবীদের মনে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ফলশ্রুতিতে সময়োপযোগী এই ভার্চুয়াল কোর্ট কার্যত ফলপ্রসূ হচ্ছে না। সকলকেই মনে রাখতে হবে আইনজীবীরা সুরক্ষিত না থাকলে ভার্চুয়াল কোর্ট করোনাকালে সুফল বয়ে আনবে না। এসব কারণে নিন্ম আদালতের কার্যক্রম সল্প পরিসরে শুরু করাই শ্রেয়।

 

লেখক: এড. রাশেদুল হক, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ

Spoken English কোর্স