বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
তাহিরপুরে অজ্ঞাত বৃদ্ধার ঠিকানা খুঁজছে এলাকাবাসী নিবন্ধন না থাকায় সাভারে বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আশুলিয়ায় স্কুল পড়ুয়া কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা, সাভারে ২ জনের লাশ উদ্ধার পাটগ্রামে ভারতীয় শাড়ী ও কসমেটিক্স সহ আটক ২ নৌকার মাঝি মোহাম্মদ আলী, ধানের শীষ হাতে সাইফুল আলম বরগুনায় গণপূর্ত বিভাগের জলাশয় অবৈধভাবে দখল করে মাছ চাষ বগুড়ায় ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচার মৃত্যু ঘোড়াঘাটে বালু বোঝাই ট্রাকে ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার ২ সাভারে টায়ার পুড়িয়ে পরিবেশ দূষণ, ৫টি কারখানা গুড়িয়ে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত মন্ত্রণালয়ের কোন কর্মকর্তা কর্মচারী দুর্নীতি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: অতিরিক্ত সচিব

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, পালাতে গিয়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

মো. বিল্লাল হোসাইন, জামালপুর

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের গাড়ির বহরের সাইরেনের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে পালানোর সময় হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে সিরাজুল হক নামের একজন ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শনিবার ১৮ এপ্রিল সকালে জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার নঈম মিয়ার হাটে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে বকশীগঞ্জ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে মৃত ব্যক্তির স্বজনদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ ও মৃত ব্যক্তির ছবি তুলতে গিয়ে বকশীগঞ্জ পৌরসভার মেয়রের লোকজনের হাতে দৈনিক ইত্তেফাকের স্থানীয় সাংবাদিক শাহীন আল আমীন লাঞ্ছিত এবং তার ক্যামেরা কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের গাড়ির বহরের সাইরেনের শব্দে ভয়ে পালানোর সময় মাটিতে পড়ে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়া ব্যবসায়ী মো. সিরাজুল হক (৫০) বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের ধানুয়া কামালপুর গ্রামের আক্রাম হোসেনের ছেলে। সিরাজুল হক শনিবার সকালে উপজেলার নঈম মিয়ার হাটে মরিচ ও আলু বিক্রি করতে যান। হাটে অন্যান্য ব্যসায়ীদের মতো তিনিও খোলা জায়গায় বসে মরিচ-আলু বিক্রি করছিলেন। লকডাউনের কারণে সাপ্তাহিক শনিবারের হাট না বসলেও এ সময় বাজারে কয়েক হাজার ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় জমে যায়।

অপরদিকে এ ঘটনায় মৃতের পরিবারের স্বজন ও বিপুল সংখ্যক উৎসুক মানুষ সামাজিক দূরত্ব না মেনে হাসপাতালে ভিড় করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এ সময় দৈনিক ইত্তেফাকের স্থানীয় সাংবাদিক শাহীন আল আমীন তথ্য সংগ্রহ ও মৃত ব্যক্তির ছবি তুলতে গেলে সেখানে বকশীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. নজরুল ইসলাম তার ক্যামেরা কেড়ে নেন। একপর্যায়ে মেয়রের সাথে থাকা কয়েকজন যুবক সাংবাদিক শাহীন আল আমীনকে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরে ইউএনও, পৌর মেয়র, থানার ওসি, কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ হাসপাতালের একটি কক্ষে মৃতের স্বজনদের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। গাড়ির সাইরেনের শব্দে ভয়ে পালাতে গিয়ে মাটিতে পড়ে গিয়ে ব্যবসায়ী সিরাজুল হকের মৃত্যুর ঘটনাটিকে অনাকাঙ্খিত উল্লেখ করে এ ঘটনার জন্য ইউএনও মৃতের স্বজনদের কাছে ভুল স্বীকার করে দু:প্রকাশ করেন।

তিনি এ জন্য মৃতের পরিবারকে সন্তোষ্ট হওয়ার মতো সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ইউএনও’র আশ্বাসের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ দাফনের অনুমতি পেয়ে মরদেহ ধানুয়া কামালপুরের বাড়িতে নিয়ে যান স্বজনরা।

মৃতের মামাত ভাই ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আবুল কালাম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। কি আর করবার পামু। আমার ভাইয়ের কোনো সন্তান নাই। তার স্ত্রী বিধবা হয়ে গেল। কৃষিকাজ আর ছোটখাট ব্যবসাপাতি কইরা সংসার চালাইতো। ইউএনও স্যার ভুল স্বীকার করছেন। চেয়ারম্যানসহ সবাই দায়িত্ব নিছেন। ইউএনও স্যার আমার ভাইয়ের পরিবারকে সব সাহায্য দিবেন। পরে ভাইয়ের লাশ দাফনের অনুমতি দিলে আমরা লাশ নিয়া আইসা পড়ছি।’

এদিকে সাংবাদিক শাহীন আল আমীন তাকে লাঞ্ছিত করার বিষয়ে বলেন, ‘হাসপাতালে মৃত ব্যক্তির স্বজনরা বিক্ষোভ করছিলেন। আমি সেই ছবি তুলছিলাম। তখন মেয়র এসে আমাকে ছবি তুলতে নিষেধ করেন এবং ক্যামেরা কেড়ে নেন। একপর্যায়ে মেয়রের লোকজন আমাকে মারধর করে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

সাংবাদিকের ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া এবং তাকে লাঞ্ছিত করার বিষয়ে বকশীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ওই সাংবাদিককে বললাম এখানে একটা ঘটনা ঘটেছে। আমরা সবাই বসে মীমাংসার চেষ্টা করছি। তিনি আমার কথার কোনো গুরুত্ব দিলেন না। তার ক্যামেরা কেড়ে নেইনি। ক্যামেরাটি তারই এক সহকর্মী মতিন রহমানের কাছে রেখে দিয়েছি। ভিড়ের মধ্যে কারা তাকে লাঞ্ছিত করেছে তা আমি কিছুই জানি না।’

এ প্রসঙ্গে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আ স ম জামশেদ খোন্দকার বলেন, ‘সকালে নঈম মিয়ার হাটে গিয়ে দেখি সেখানে হাজার হাজার লোক ছিল। লকডাউনের মধ্যেও তারা ব্যক্তিগত বা সামাজিক দূরত্ব কিছুই মানছে না। হাজার হাজার লোক সেখানে আমি কি করবো। জাস্ট গাড়ির বহর থেকে সাইরেন বাজানো হয়েছে। সাইরেনের শব্দ পেয়েই লোকজন সবাই দৌড়াতে শুরু করে। আমার সাথে পুলিশের সদস্যরা দাঁড়িয়েছিল। এমন সময় দেখলাম প্রায় ১০০ গজ দূরে একজন লোক মাটিতে পড়ে গেল। সাথে সাথে আমাদের গাড়ির বহরের একটি গাড়ি দিয়েই তাকে বকশীগঞ্জ হাসপাতালে পাঠাই। হাসপাতালে যাওয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওনি আসলে হার্টঅ্যাটাকে মারা গেছেন। বিষয়টি মেয়র, ইউপি চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বসে মৃতের পরিবারকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে তাকে কোনো মারধর করা হয়নি। মৃতের পরিবারকে সব রকমের সরকারি সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি। তারা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেছেন।

হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ছবি তোলার সময় একজন সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করা এবং তার ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, এ ঘটনাটি আমি শুনেছি। মেয়র আর ওই সাংবাদিক তারা স্থানীয় তো, তাই বিষয়টি তাদেরকেই দেখতে বলেছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ