শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাভারে নীলা রায় হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা মিজানসহ ২ জন আটক আবারো জাগ্রত সর্বহারা পার্টি বিভিন্ন মহলে চাঁদাদাবী সাভারে স্কুলছাত্রী নীলা হত্যাকান্ডে মিজানের বাবা মা আটক সাতক্ষীরায় পানিবন্দী মানুষের অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন তুরাগ নদী থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে বিভিন্ন অপরাধীদের নামে ৪’শ ২৮টি মামলা নন্দীগ্রামে খাস পুকুরে পানি নিষ্কাশন নিয়ে মারামারি, আহত ২ শেকৃবিতে রেজিস্ট্রারকে চলতি ভিসির দ্বায়িত্ব দেওয়ায় বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির নিন্দা তাহিরপুরে অজ্ঞাত বৃদ্ধার ঠিকানা খুঁজছে এলাকাবাসী নিবন্ধন না থাকায় সাভারে বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা

ভ্রাম্যমাণ আদালতে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত অপরাধের বিচার

ডেক্স রিপোর্ট

বিদ্যমান ব্যবস্থার পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সংক্রামক রোগ সংক্রান্ত অপরাধের বিচার হবে। সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ভ্রাম্যমাণ আদালত সংক্রান্ত আইনের তফসিলে এ বিষয়ে সংশোধনী আনা হয়েছে। এর ফলে সংক্রামক রোগ করোনাভাইরাস সংক্রান্ত অপরাধের বিচারও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে।

এতে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইনের ২৪, ২৫, ও ২৬ নম্বর ধারাটি ‘ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন ২০০৯’ এর তফসিলে যুক্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে— আইনের ১৫ ধারায় দেওয়া ক্ষমতা বলে এটি করা হয়। এর ফলে সংক্রামক রোগ করোনাভাইরাস সংক্রান্ত অপরাধের বিচার ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পরিচালনার পথ উন্মুক্ত হলো।

সংক্রামক রোগ আইনের অধীন সংঘটিত কোনও অপরাধের অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, বিচার ও আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধানাবলি প্রযোজ্য হবে বলে আইনে উল্লেখ করা হয়।

আইনের সংক্রামক রোগের বিস্তার এবং তথ্য গোপনের অপরাধ ও দণ্ড বিষয়ে ২৫ নম্বর ধারায় বলা আছে— ১. যদি কোনও ব্যক্তি সংক্রামক জীবাণুর বিস্তার ঘটান বা বিস্তার ঘটাতে সহায়তা করেন, বা জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও অপর কোনও ব্যক্তি সংক্রমিত ব্যক্তি বা স্থাপনার সংস্পর্শে আসবার সময় সংক্রমণের ঝুঁকির বিষয়টি তার কাছে গোপন করেন, তাহলে ওই ব্যক্তির অনুরূপ কাজ হবে একটি অপরাধ।

২. যদি কোনও ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনও অপরাধ সংঘটন করেন, তা হলে তিনি অনূর্ধ্ব ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ডে, বা অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

২৫ নম্বর ধারায় দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান ও নির্দেশ পালনে অসম্মতি জ্ঞাপনের অপরাধ ও দণ্ডের বিষয়ে বলা হয়েছে—

১. যদি কোনও ব্যক্তি— ক. মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তার ওপর অর্পিত কোনও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাধা প্রদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, এবং খ. সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোনও নির্দেশ পালনে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন, তাহলে ওই ব্যক্তির অনুরূপ কাজ হবে একটি অপরাধ।

২. যদি কোনও ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনও অপরাধ সংঘটন করেন, তাহলে তিনি অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে, বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এছাড়া মিথ্যা বা ভুল তথ্য প্রদানের অপরাধ ও দণ্ড বিষয়ে ২৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে— ১. যদি কোনও ব্যক্তি সংক্রামক রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা ভুল তথ্য প্রদান করেন, তাহলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কাজ হবে একটি অপরাধ।

২. যদি কোনও ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনও অপরাধ সংঘটন করেন, তাহলে তিনি অনূর্ধ্ব ২ (দুই) মাস কারাদণ্ডে, বা অনূর্ধ্ব ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

প্রসঙ্গত, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে করোনা সংক্রামণের ফলে এ সংক্রান্ত অপরাধ তাৎক্ষণিক বিচারের আওতায় আনতে মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিলে এই সংশোধন আনা হয়েছে। এর আগে ২৩ মার্চ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশ করে করোনাভাইরাসকে সংক্রামক রোগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ